
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অসমের ‘হার্টথ্রব’ জুবিন গর্গ আজ নেই। গত সেপ্টেম্বর মাসে সিঙ্গাপুরের মাটিতে নিভে গিয়েছিল উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রের জীবনপ্রদীপ। তাঁর মৃত্যুর মাস কয়েক অতিবাহিত হলেও বিতর্ক এবং স্মৃতি— কোনোটিই স্তিমিত হয়নি। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জুবিনের জীবনের শেষদিকে গায়কের মানসিক অবস্থা এবং তাঁর গভীর ভয়ের কথা শেয়ার করলেন স্ত্রী গরিমা সাইকিয়া গর্গ।
গরিমা জানান, গত কয়েক বছর ধরে এক অদ্ভুত অস্থিরতা তাড়া করে বেড়াত জুবিনকে। গায়কের কথায় বারবার উঠে আসত সময়ের অপলাপ। গরিমা বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জুবিন প্রায়ই বলত, যদি আমি কাউকে ভয় পাই, তবে সেটা হলো— সময়।” জীবন যে কত দ্রুত ফুরিয়ে যায়, সেই উপলব্ধি হয়তো আগেই হয়েছিল তাঁর। গরিমা স্বীকার করেছেন, তখন জুবিনের এই কথাগুলোর গভীরতা তিনি বুঝতে পারেননি। কিন্তু এখন ফিরে তাকালে মনে হয়, জুবিন হয়তো কোনো অলৌকিক সংকেত পাচ্ছিলেন।
পরিবারের একের পর এক বিয়োগব্যথা জুবিনকে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত করে দিয়েছিল বলে মনে করেন গরিমা। খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে মা, বোন এবং প্রিয় বন্ধুকে হারিয়েছিলেন জুবিন। গরিমা বলেন, “সম্ভবত সেই স্বর্গীয় যোগাযোগ বা ভেতর থেকে কোনো ডাক আসছিল তাঁর কাছে। এত কম সময়ে এত কাছের মানুষকে হারানো তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য ছিল।” ২০০২ সালে বিয়ের পর থেকে দীর্ঘ দুই দশক জুবিনের সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন গরিমা। আজ জুবিনহীন জীবনে সেই স্মৃতিটুকুই তাঁর সম্বল।
তবে জুবিন গর্গের মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক এখনও তুঙ্গে। ২০২৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যালে সাংস্কৃতিক দূত হিসেবে গিয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে সিঙ্গাপুর পুলিশ একে দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করলেও, অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন যে এটি সাধারণ দুর্ঘটনা ছিল না। তাঁর এই চাঞ্চল্যকর বয়ানের পরেই উত্তাল হয় রাজ্য রাজনীতি।
বর্তমানে অসম সরকারের নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) এই ঘটনার তদন্ত করছে। অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, অনিচ্ছাকৃত খুন এবং গাফিলতির জেরে মৃত্যুর মতো গুরুতর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের অপেক্ষায় রয়েছেন জুবিনের লক্ষ লক্ষ অনুরাগী। গরিমাও সেই ন্যায়বিচারের আশায় বুক বেঁধেছেন, পাশাপাশি আঁকড়ে ধরেছেন জুবিনের সেই কথা— যেখানে সময় ছিল তাঁর একমাত্র প্রতিপক্ষ।
(Feed Source: zeenews.com)
