Stock Market Biggest Crash ever: যুদ্ধের বিষে নীল ভারত: কয়েক মুহূর্তেই বাজার থেকে গায়েব ৪৪ লক্ষ কোটি টাকা, বাংলার বাজেটের ১২ গুণ

Stock Market Biggest Crash ever: যুদ্ধের বিষে নীল ভারত: কয়েক মুহূর্তেই বাজার থেকে গায়েব ৪৪ লক্ষ কোটি টাকা, বাংলার বাজেটের ১২ গুণ

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের শেয়ার বাজারের ইতিহাসে ভয়াবহ ধস। ঐতিহাসিক বিপর্যয়। ১৫ বছরের সর্বোচ্চ পতন ও বিনিয়োগকারীদের বিপুল ক্ষতি।

ভারতের পুঁজিবাজার বা দালাল স্ট্রিট গত কয়েক বছরে এমন কিছু পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে যা বিনিয়োগকারীদের ধৈর্যের চরম পরীক্ষা নিয়েছে। একদিকে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণ আর অন্যদিকে বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা হারিয়েছেন লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা। ৪ জুন ২০২৪-এর পর আবার ১৩ মার্চ ২০২৬- ভারতের শেয়ার বাজারের ইতিহাসে কালো দিন হয়ে থাকবে।

১. ২০২৪-এর ‘ব্ল্যাক টুয়েসডে’: 

যখন ব্যালট বক্স বাজার কাঁপিয়েছিল

ভারতের শেয়ার বাজারের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ ধস নেমেছিল ৪ জুন ২০২৪ তারিখে। লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিন বুথফেরত সমীক্ষার (Exit Poll) সাথে প্রকৃত ফলাফলের আকাশ-পাতাল পার্থক্যে বাজার মুহূর্তের মধ্যে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।

পতনের মাত্রা: সেদিন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে বিনিয়োগকারীদের প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা (৫৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) লোকসান হয়। বিএসই সেনসেক্স ৪,৩৮৯ পয়েন্ট (৫.৯৪%) এবং নিফটি ১,৩৭৯ পয়েন্ট (৫.৯৩%) পতন ঘটে। এটি ছিল ১৫ বছরের মধ্যে একক দিনে বাজারের বৃহত্তম ধস।

মূল কারণ: বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয় লগ্নিকারীদের মনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সংস্কারের গতি নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। আদানি গ্রুপ, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক (PSU) এবং পরিকাঠামো খাতের শেয়ারগুলো ২০-২৫% পর্যন্ত দর হারায়।

২. ২০২৬-এর মার্চ বিপর্যয়: 

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও বিশ্ববাজারের প্রভাব

২০২৪-এর সেই ধাক্কা সামলে বাজার ঘুরে দাঁড়ালেও, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে আবারও এক নতুন সংকটের মুখে পড়েছে ভারতীয় পুঁজিবাজার। আজ ১৩ মার্চ ২০২৬, সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসেও সেনসেক্স ও নিফটির বিশাল পতন।

বর্তমান চিত্র: সেনসেক্স আজ ৭৬,০০০ পয়েন্টের নিচে এবং নিফটি ২৩,৬৫০ পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে। গত এক সপ্তাহে লগ্নিকারীদের প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি টাকা বাজার মূলধন ধুলোয় মিশে গেছে।

৩. ধসের নেপথ্যের কারণ

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর এই পতনের পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণ নয়, বরং একাধিক আন্তর্জাতিক সমস্যার সমাহার কাজ করছে:

ভূ-রাজনৈতিক অগ্নিকাণ্ড: মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিশ্ববাজারকে অস্থির করে তুলেছে। বিশেষ করে ইরানের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও যুদ্ধের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের ‘সেফ হেভেন’ বা নিরাপদ বিনিয়োগের (যেমন সোনা) দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

জ্বালানি তেলের সংকট: আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য এটি মুদ্রাস্ফীতির অশনি সংকেত, যা সরাসরি শেয়ার বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ডলারের দাপট ও টাকার পতন: ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান রেকর্ড পতন ঘটে ৯২ টাকায় পৌঁছেছে। এর ফলে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা (FII) গত ১০ দিনে প্রায় ২১,০০০ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে মূলধন সরিয়ে নিয়েছেন।

ব্যাংকিং ও আইটি খাতের দুর্বলতা: এইচডিএফসি ব্যাংক ও রিলায়েন্সের মতো বড় সংস্থাগুলোর শেয়ার দর ৩-৫% হ্রাস পাওয়ায় সূচকগুলো আর ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।

৪. বিনিয়োগকারীদের মনস্তত্ত্ব ও বাজারের ভবিষ্যৎ

শেয়ার বাজারের অস্থিরতা মাপার সূচক ‘ইন্ডিয়া ভিআইএক্স’ (India VIX) বর্তমানে ২০% বৃদ্ধি পেয়েছে, যার থেকে বোঝা যায় যে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক । ২০২৪ সালে ধসের কারণ ছিল অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, আর ২০২৬ সালে ধসের কারণ সম্পূর্ণ বৈশ্বিক। তবে উভয় ক্ষেত্রেই একটি বিষয় স্পষ্ট—অনিশ্চয়তা হলো শেয়ার বাজারের সবচেয়ে বড় শত্রু।

বাজার বিশেষজ্ঞ ড. ভি কে বিজয়কুমার মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৪-এর তুলনায় ভিন্ন। তখন বাজার রাজনৈতিক স্পষ্টতা পাওয়ার পর দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু এবারের সংকট নিরসন নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং তেলের দামের ওপর।

অর্থাৎ সহজভাবে:

$533 Billion ≈ ₹44 লক্ষ কোটির একটু বেশি।

একটা তুলনা দিই যাতে মাথায় বসে যায়:

এটা প্রায় West Bengal-এর বার্ষিক বাজেটের ১০-১২ গুণের কাছাকাছি।

২০২৪ সালের ‘কালো মঙ্গলবার’ থেকে ২০২৬ সালের ‘মার্চ মেল্টডাউন’—ভারতীয় শেয়ার বাজার বারবার প্রমাণ করেছে যে টাকা সবসময়ই তাত্‍ক্ষণিক। দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য পরামর্শ হলো, এই অস্থির সময়ে আতঙ্কিত হয়ে (Panic Sell) শেয়ার বিক্রি না করে ধৈর্য ধরা। ভারতের অর্থনীতির মৌলিক কাঠামো এখনো শক্তিশালী। তবে নতুন সরকারের বাজেট নীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখাই এখন বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

ইতিহাস সাক্ষী, প্রতিটি বড় পতনের পরেই বাজার আবার নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমান এই রক্তক্ষরণও হয়তো ভবিষ্যতে বড় কোনো লাভের সুযোগ তৈরি করবে, তবে তার জন্য প্রয়োজন সঠিক সময়ের অপেক্ষা।

(Feed Source: zeenews.com)