
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: “আজ রাতেই ভয়ংকরতম হামলার সাক্ষী থাকবে সারা পৃথিবী।” ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল আমেরিকা। আর তারপরই শুক্রবার রাতে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপে বোমা ফেলল আমেরিকা। বিস্ফোরণ ঘটাল ইরানে প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র ও কৌশলগত জ্বালানি লাইফলাইন এই খার্গ দ্বীপ। আর ইরানের প্রাণভোমরা সেই খার্গেই বোমা মেরেছে আমেরিকা। এর জেরে গোটা বিশ্বেই তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। কারণ, এই খার্গ দীপের মাধ্যমেই ইরানের বেশিরভাগ অপরিশোধিত তেল রফতানি হয়ে থাকে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, খার্গ দ্বীপে থাকা সমস্ত সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। উল্লেখ্য, হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেতে হেগসেথ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে ইরানের বিরুদ্ধে “আজ সবচেয়ে তীব্র হামলা” চালানো হবে। এরপরই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে খার্গ দ্বীপে হামলার কথা পোস্ট করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প লিখেছেন, মার্কিন সেন্ট্রাল কম্যান্ড তাঁর নির্দেশে মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী বোমা হামলা চালিয়েছে ইরানের “মুকুটের রত্ন” বলে পরিচিত খার্গ দ্বীপে সেখানকার সব সামরিক ঘাঁটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।
খার্গ দ্বীপ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
খার্গ দ্বীপ ইরানের প্রধান তেল রফতানি কেন্দ্র ও কৌশলগতভাবে পারস্য উপসাগরে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। ইরানের প্রায় সব অপরিশোধিত তেল এই দ্বীপের মাধ্যমেই রফতানি হয়। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি এরপরেও জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে এই দ্বীপের সমস্ত তৈল কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করে দেওয়া হবে। হরমুজ প্রণালী নিয়েও সতর্কবার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রতিদিন বিশ্বব্যাপী তেল পরিবহনের প্রায় ২০% এই জলপথ দিয়ে যায়। ট্রাম্পের ঘোষণা, যদি ইরান বা অন্য কেউ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র খার্গ দ্বীপের তৈল কেন্দ্রগুলিতেও হামলা চালাতে পারে।
ইরানের অর্থনীতিতে খার্গ দ্বীপের ভূমিকা
খার্গ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বড় বড় তেল সংরক্ষণ ট্যাংক, রফতানি টার্মিনাল, লোডিং টার্মিনাল এবং পাইপলাইন নেটওয়ার্ক এবং হাজার হাজার কর্মীর আবাসন রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান প্রায় ১৩.৭ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রফতানি করেছে, যার বেশিরভাগই এই দ্বীপের মাধ্যমে। এই তেল প্রধানত চিন সহ বিভিন্ন দেশে যায়। এই টার্মিনালে তিনটি বড় অফশোর তেলক্ষেত্র- আবুজার, ফোরৌউজান ও ডোরুদ থেকে অপরিশোধিত তেল আসে। সাগরের তলদেশ দিয়ে তৈরি পাইপলাইন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে তেল দ্বীপের প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে পৌঁছায়। এরপর সংরক্ষণ করা হয় বা বিশ্ববাজারে পাঠানো হয়। ইরানের বৃহত্তম তেলক্ষেত্র— আহভাজ, মারুন ও গাচসরন পাইপলাইনের মাধ্যমে সরাসরি খার্গের স্টোরেজ ট্যাঙ্কের সঙ্গে যুক্ত। প্রতি বছর এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমনে প্রায় ৯৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণ ও সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
ছোট্ট ভূগোল, বিশাল গুরুত্ব খার্গের
মাত্র প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ইরানের খার্গ দ্বীপ দেশের মোট তেল রফতানির ৯০ শতাংশ করে থাকে। পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে অবস্থিত এই পাথুরে চুনাপাথরের দ্বীপটি বুশেহর প্রদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২৮ কিলোমিটার দূরে। দ্বীপটি দৈর্ঘ্যে প্রায় ৮ কিলোমিটার এবং প্রস্থে ৫ কিলোমিটার। এখানে গজেল হরিণও পাওয়া যায়। খার্গ দ্বীপকে ইরানের “ক্রাউন জুয়েল” বা মুকুটের রত্ন বলা হয়ে থাকে। বিখ্যাত ইরানি লেখক জালাল আল-অ-আহমেদ একে “পারস্য উপসাগরের অনাথ মুক্তা” বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। বিশ্ব কূটনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, আমেরিকা যদি এই দ্বীপ ধ্বংস করে দেয় বা ইরান যদি খার্গ দ্বীপের উপর নিয়ন্ত্রণ হারায়, তাহলে সেই দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
