
বিগত কয়েক বছরে, বিশ্বজুড়ে মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে গিয়েই বড় বিপদের মুখে পড়তে বসেছিল এক ছোট্ট মেয়ে। হঠাৎই তার মুখের সামনে বিস্ফোরিত হয় মোবাইল ফোনটি। অল্পের জন্য গুরুতর আহত হওয়া থেকে রক্ষা পায় সে। ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় সামনে আসতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা মোবাইল ফোন ব্যবহারে সতর্ক থাকার এক বড় সতর্কবার্তা।
মুখে ফোন বিস্ফোরণ! গুরুতর আঘাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিশু, ‘এক ভীতিকর সতর্কবার্তা’ সবার জন্যই
বিগত কয়েক বছরে, বিশ্বজুড়ে মোবাইল ফোন বিস্ফোরণের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। চার্জ করার সময় কিংবা ব্যবহারের সময় ডিভাইস অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া বা বিস্ফোরিত হওয়ার মতো ঘটনাগুলো অনলাইনে উঠে এসেছে, যা ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলোকে সামনে নিয়ে এসেছে। এমনই একটি ঘটনা সম্প্রতি চিনে ঘটেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক মেয়ে হাতে ফোনটি ধরে থাকা অবস্থায় সেটি বিস্ফোরিত হলে অল্পের জন্য গুরুতর আঘাত থেকে রক্ষা পায়।
বিগত সোমবার, ৯ মার্চ ঘটে যাওয়া এই ঘটনাটি তরুণীর বাড়ির ভেতরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তরুণীটি একটি সোফায় বসে নিজের ফোনটি দেখছিলেন (স্ক্রল করছিলেন)। সেই সময় ডিভাইসটি একটি চার্জারের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল বলে মনে হচ্ছিল। ভিডিওটি শুরু হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই পরিস্থিতি একটি বিপজ্জনক মোড় নেয়।
কী করবেন তা বুঝে উঠতে না পেরে, হতবিহ্বল হয়ে পড়া তরুণীটি বিস্ফোরিত ফোনটি সেখানেই ফেলে রেখে চিৎকার করে কাঁদতে কাঁদতে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান। এদিকে, ক্ষতিগ্রস্ত মোবাইল ফোনটি থেকে তখনো দাউদাউ করে আগুন জ্বলছিল এবং ভেতর থেকে ফটফট শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

কেউ বলছেন এটি ভীতিকর, আবার কেউ মনে করছেন এটি এআই (AI) দ্বারা তৈরি
ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর, অনেক দর্শকই মোবাইল ফোনের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, “এটি সত্যিই খুব ভীতিকর একটি ঘটনা, বিশেষ করে কোনও শিশুর জন্য। আশা করি মেয়েটি এখন সুস্থ আছে।” আরেকজন রসিকতা করে বলেন, “মানুষ প্রতি রাতে চার্জে বসানো ফোনের পাশেই ঘুমায়… এই ধরনের ঘটনাগুলো আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় যে, এমন অভ্যাস কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।” ভিন্ন একজন ব্যক্তি লিখেছেন, “চার্জ করার সময় বা ফোনটি অতিরিক্ত চাপে রাখলে যদি ডিভাইসটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যায়, তবে তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। আশা করি মেয়েটির বড় কোনও ক্ষতি হয়নি।”
অন্য একজন ব্যবহারকারী পরামর্শ দিয়ে বলেন যে, চার্জ করার সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। তিনি বলেন, “আজকাল চার্জে থাকা অবস্থাতেও ফোন ব্যবহার করা যায়; কিন্তু চার্জ চলাকালীন একটানা ফোন ব্যবহার করলে ডিভাইসটি অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে। ঠিক এই কারণেই চার্জ করার সময় ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সস্তা বা নিম্নমানের চার্জার, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাটারি কিংবা অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়া—এসব বিষয় অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।” এদিকে, একটি অংশ ধারণা প্রকাশ করেছে যে ভিডিও ক্লিপটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি কি না। তারা মন্তব্য করেছে, “তার ছোট ডান পা-টি তারের ভেতর দিয়ে বেরিয়ে এল… অথচ মুখে কোনও আঘাতের চিহ্ন নেই। এটি অবশ্যই AI-সৃষ্ট (তবে হ্যাঁ… যে কোনও ব্যাটারির ক্ষেত্রেই এমন ঝুঁকি থাকে)।”
একজন ব্যবহারকারী ‘Grok’-কে ভিডিও ক্লিপটির সত্যতা যাচাই করতে অনুরোধ জানান। এর জবাবে Grok জানায়, “ভিডিওটি দেখতে অত্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য সিসিটিভি ফুটেজের মতো, যা ৯ মার্চ, ২০২৬ তারিখের একটি বাড়ির দৃশ্য (সাজসজ্জা ও সময়সূচক দেখে মনে হচ্ছে স্থানটি সম্ভবত চিন)। সোফায় বসে থাকা একটি শিশু একটি দীর্ঘ সাদা রঙের চার্জিং তারের কাছে একটি যন্ত্র ধরে আছে; হঠাৎই মেঝেতে থাকা বৈদ্যুতিক সকেটে স্ফুলিঙ্গ বা ঝলকানি দেখা দেয়, যার ফলে ধোঁয়ার সৃষ্টি হয় এবং মেঝেতে ছোটখাটো আগুন ধরে যায়। শিশুটি সোফা থেকে লাফিয়ে নীচে নামে, মাটিতে পা রাখে এবং এরপর অক্ষত অবস্থায় সেখান থেকে সরে যায়। মূলধারার কোনও সংবাদমাধ্যমে এখনও এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি (কারণ ঘটনাটি অত্যন্ত সাম্প্রতিক এবং ছোটখাটো প্রকৃতির), তবে ত্রুটিপূর্ণ চার্জার বা ব্যাটারি অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার ফলে সৃষ্ট পরিচিত ঝুঁকিগুলোর সঙ্গে এই ঘটনাটির মিল রয়েছে। শিশুটি ‘প্রাণ হারাতে বসেছিল’—এমন দাবিটি অতিরঞ্জিত; কারণ সে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছে।”
