
গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, শারীরিক ও মানসিক কার্যকারিতা সর্বোত্তম পর্যায়ে রাখার জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি রাতে সাত থেকে আট ঘণ্টা মানসম্মত ঘুমের প্রয়োজন হয়। ঘুমের সময় মস্তিষ্ক বিভিন্ন তথ্য প্রক্রিয়াজাত করে, শক্তির ভাণ্ডার পূর্ণ করে এবং এমন সব হরমোন নিয়ন্ত্রণ করে যা মানুষের মেজাজ ও মানসিক চাপের ওপর প্রভাব ফেলে। যখন ঘুমের এই পুনরুদ্ধারকারী চক্রটি দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাহত হয়, তখন এর প্রভাব কেবল সকালে ক্লান্ত বোধ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা আরও গভীর মানসিক চ্যালেঞ্জের দিকেও মোড় নিতে পারে।
ঘুমের অভাব কি উদ্বেগ ও বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে?
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘুমের অভাব মস্তিষ্কের মেজাজ-নিয়ন্ত্রণকারী রাসায়নিকগুলোর ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, এই ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ, বিষাদ বা খিটখিটে মেজাজের মতো লক্ষণগুলোর সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, যে সব ব্যক্তি আগে থেকেই উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটে; এর ফলে এমন একটি চক্র তৈরি হয় যেখানে অপর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক কষ্ট একে অপরকে আরও তীব্র করে তোলে।
তিনি বলেন, “স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপ থেকে নির্গত ‘নীল আলো’ (Blue light) ঘুমের নিয়ন্ত্রক হরমোনগুলোর কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। এর ফলে মানুষের ঘুম আসতে বেশি সময় লাগে এবং ঘুমের সামগ্রিক গুণমানও হ্রাস পায়।”
ঘুমের বঞ্চনার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—অবিরাম ক্লান্তি, মনোযোগ দিতে অসুবিধা এবং মেজাজের আকস্মিক পরিবর্তন। যখন এই লক্ষণগুলো দীর্ঘ সময়ের জন্য অব্যাহত থাকে, তখন সেগুলো ধীরে ধীরে মানুষের মানসিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে, শরীরে মানসিক চাপের হরমোনের আধিক্য এবং মানসিক ক্লান্তি মানুষের মানসিক সহনশীলতাকে দুর্বল করে দিতে পারে, যার ফলে দৈনন্দিন জীবনের নানাবিধ চাপ সামলানো তাদের জন্য আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
ঘুমানোর ঠিক আগে মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার সময় কমিয়ে আনাও ঘুমের গুণমানকে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করতে পারে। এছাড়া অন্যান্য সহায়ক অভ্যাসগুলোর মধ্যে রয়েছে রাতে হালকা খাবার খাওয়া, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং ঘুমানোর জন্য এমন একটি শান্ত ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশ তৈরি করা যেখানে কোনও ধরনের ব্যাঘাত ঘটার সুযোগ নেই।
যদি ঘুমের সমস্যা দীর্ঘ সময় ধরে অব্যাহত থাকে, তবে এর নেপথ্যের মূল কারণগুলো শনাক্ত করতে এবং দীর্ঘমেয়াদী জটিলতা প্রতিরোধ করতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়।
মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক সচেতনতা যেহেতু ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই নিয়মিত ও গভীর ঘুমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে এমন একটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ, যা গ্রহণের মাধ্যমে মানুষ তার মন ও শরীর— উভয়কেই সুরক্ষিত রাখতে পারে।
(Feed Source: news18.com)
