Brown Paper Bag: কেনাকাটার সময়ে সব জায়গায় বাদামি কাগজের ব্যাগ দেওয়া হয় কেন? ৯৯% মানুষই এই ‘সিক্রেট’ জানেন না

Brown Paper Bag: কেনাকাটার সময়ে সব জায়গায় বাদামি কাগজের ব্যাগ দেওয়া হয় কেন? ৯৯% মানুষই এই ‘সিক্রেট’ জানেন না

মুদির দোকান থেকে বড় শপিং মল—প্রায় সব জায়গাতেই এখন কাগজের ব্যাগের ব্যবহার দেখা যায়। প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে এই ব্যাগ পরিবেশবান্ধব হওয়ায় জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। তবে একটি বিষয় প্রায় সবারই নজরে আসে—এই ব্যাগগুলির বেশিরভাগই বাদামি রঙের। শৌখিন বা রঙিন ব্যাগ নয়, বরং ভারী জিনিস বহনের জন্য সাধারণত এই বাদামি ব্যাগই ব্যবহার করা হয়। কারণটা জানেন না বেশিরভাগই!

শপিং মল থেকে শুরু করে মুদির দোকান! সব জায়গায় কাগজের ব্যাগ যেগুলো দেওয়া হয় কেনাকাটার সময়ে, সেগুলো বাদামি হয় কেন? আসল কারণ অনেকেই জানেন না।

রঙিন নয়, অন্য রকম কিছু নয়। স্কুল পাঠ্যবইয়ের মলাটের মতো, বাজারে দেখা যায় অধিকাংশ কাগজের ব্যাগের রঙ বাদামি। এর পেছনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও শিল্পগত কারণ রয়েছে। প্রথমত, ক্রাফ্ট প্রক্রিয়া (Kraft Process)। কাগজ তৈরির সময় কাঠের টুকরোকে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও সোডিয়াম সালফাইডের মতো রাসায়নিকের সঙ্গে সিদ্ধ করা হয়। এতে কাঠের ভেতরের লিগনিন নামের উপাদান ভেঙে যায়, যা কাগজকে ভঙ্গুর করে দেয়। তবে এই প্রক্রিয়ার পরে কাগজকে সাদা করার জন্য আলাদা করে ব্লিচ করা হয় না। ফলে কাঠের পাল্পের প্রাকৃতিক বাদামি আভা বজায় থাকে। “ক্রাফ্ট” শব্দটি জার্মান ভাষা থেকে এসেছে, যার অর্থ “শক্তি”।

দ্বিতীয়ত, শক্তি ও স্থায়িত্ব। কাগজ সাদা করতে ব্লিচিং করা হলে কাগজের ফাইবার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা যায়, ব্লিচ করা কাগজের টেনসাইল স্ট্রেন্থ প্রায় ১০–১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। কিন্তু অব্লিচড ক্রাফ্ট পেপারে দীর্ঘ ও শক্ত ফাইবার বজায় থাকে। ফলে এই কাগজের ব্যাগ তুলনামূলকভাবে বেশি মজবুত হয় এবং মুদি সামগ্রী বা ভারী জিনিস বহন করার জন্য উপযোগী।

তৃতীয়ত, কম উৎপাদন খরচ। ব্লিচিং প্রক্রিয়া বাদ দিলে উৎপাদনের ধাপ কমে যায় এবং অতিরিক্ত রাসায়নিকের প্রয়োজন পড়ে না। এর ফলে কারখানার উৎপাদন ব্যয় প্রায় ১৫–২০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এই কারণেও বড় পরিসরে ব্যবহারের জন্য বাদামি কাগজের ব্যাগ অর্থনৈতিকভাবে সুবিধাজনক।

চতুর্থত, পরিবেশবান্ধব বৈশিষ্ট্য। অব্লিচড ক্রাফ্ট পেপারে রাসায়নিকের ব্যবহার তুলনামূলক কম হওয়ায় এগুলি সহজে পুনর্ব্যবহারযোগ্য (রিসাইক্লেবল) এবং দ্রুত পচনশীল। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যাগ কম্পোস্টযোগ্যও হয়। ফলে প্লাস্টিক ব্যাগের তুলনায় এগুলি পরিবেশের জন্য অনেক কম ক্ষতিকর। আধুনিক পরিবেশনীতি ও প্লাস্টিকবিরোধী উদ্যোগের ফলে বিশ্বজুড়ে এই ধরনের ব্যাগের ব্যবহার বেড়েছে।

পঞ্চমত, প্রাকৃতিক বা পরিবেশবান্ধব ভাবমূর্তি। অনেক ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবেই বাদামি কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করে। কারণ এই রঙটি ক্রেতাদের কাছে “প্রাকৃতিক”, “অর্গানিক” বা পরিবেশ সচেতনতার প্রতীক হিসেবে ধরা পড়ে। ফলে ব্র্যান্ডের ভাবমূর্তি গঠনে এটি ভূমিকা রাখে।

তবে প্রয়োজন অনুযায়ী সাদা ক্রাফ্ট পেপার ব্যাগও তৈরি করা হয়। এগুলিকে ব্লিচ করে সাদা করা হয়, যাতে তাতে রঙিন লোগো বা নকশা স্পষ্টভাবে ছাপা যায়। সাধারণত পোশাকের দোকান, উপহার সামগ্রী বা ব্র্যান্ডেড পণ্যের ক্ষেত্রে এই সাদা ব্যাগ বেশি ব্যবহৃত হয়। তবে শক্তি ও পরিবেশগত দিক থেকে অব্লিচড বাদামি ব্যাগকেই অধিক কার্যকর বলে ধরা হয়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কাগজের ব্যাগের বাদামি রঙ কোনও কাকতালীয় বিষয় নয়। এটি একদিকে শিল্পপ্রক্রিয়ার ফল, অন্যদিকে শক্তি, অর্থনৈতিক সুবিধা এবং পরিবেশ সুরক্ষার বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।

(Feed Source: news18.com)