Iran Israel War: খামেইনির পর ইসলায়েলি হানায় নিহত ইরানের চাণক্য, কে এই আলি লারিজানি?

Iran Israel War: খামেইনির পর ইসলায়েলি হানায় নিহত ইরানের চাণক্য, কে এই আলি লারিজানি?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আলি খামেইনির পর ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ইরানে ইন্দ্রপতন। ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানআলি লারিজানি। মঙ্গলবার তেহরানে মেয়ের বাড়িতে ছিলেন লারিজানি। তাঁর সঙ্গে তাঁর ছেলে ও তাঁর নিরপাত্তারক্ষীরা। তখনই হামলা চালায় ইসরায়েল। মঙ্গলবার ইরান সরকার লারিজানির মৃত্যুর খবরের সত্যতা স্বীকার করেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরের দিকে তেহরানের উত্তর-পূর্বে পারদিস শহরে লারিজানি নিহত হয়েছেন। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে মোর্তেজা লারিজানি, নিরাপত্তা বিষয়ক উপ-প্রধান আলিরেজা বায়াত এবং আরও বেশ কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী।

ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (IRGC)-এর সঙ্গে যুক্ত ‘ফারস’ নিউজ এজেন্সি-সহ ইরানের সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলা চালানো হয়েছিল লারিজানির মেয়ের বাড়িতে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে এটি অন্যতম বড় আঘাত। এর আগে ইরানের আরও অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ আগেই জানিয়েছিলেন যে, ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে লারিজানিও রয়েছেন। অত্যন্ত কড়া ভাষায় দেওয়া এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, “অশুভ শক্তির যে নেতারা খতম হয়েছেন, তারা খামেনির সাথে নরকের অতল গহ্বরে গিয়ে মিলেছেন। এই হামলায় ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী ‘বাসিজ’-এর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েল আগেই জানিয়েছিল, তারা ইরানের শীর্ষ নেতাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাবে। সামরিক মুখপাত্র এফি ডেফরিন বলেছেন, ইসরায়েল ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতাবা খামেনিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, মোজতাবা খামেনি সম্পর্কে আমরা তেমন কিছু জানি না। তবে আমি আপনাদের একটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারি যে আমরা তাকে খুঁজে বের করে তাকে নিকেশ করার চেষ্টা করব।

কে এই লারিজানি

ইরানের পারমাণবিক কৌশল নির্ধারণ এবং পশ্চিমাবিশ্বের সঙ্গে আলোচনায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন লারিজানি। ২০০৫ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রধান পারমাণবিক আলোচনাকারী হিসেবে তিনি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার বিষয়ে ইরানের অধিকারের পক্ষে লড়াই করেছিলেন। পশ্চিমা দেশগুলো যখন ইরানের এই কর্মসূচি বন্ধ করতে বলেছিল, তখন তিনি সেই প্রস্তাবকে “একটি মুক্তোর বদলে একটি ক্যান্ডি বার দেওয়া”-র সাথে তুলনা করেছিলেন। রাশিয়ার ও চীনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি আমেরিকার সাথে আলোচনার বিষয়েও তিনি ইরান সরকারকে পরামর্শ দিতেন। এমনকি যুদ্ধের মাত্র কয়েক মাস আগেও তিনি মনে করতেন যে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমার মতে, এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।”

লারিজানিকে অনেক সময় কট্টরপন্থীদের তুলনায় কিছুটা বাস্তববাদী মনে করা হলেও, তিনি সবসময়ই ইরানের শাসনব্যবস্থার প্রতি অনুগত ছিলেন। তাকে দেখা হতো দেশের অভ্যন্তরে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং বিদেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক রক্ষার এক সেতুবন্ধন হিসেবে।

তবে এই ভূমিকার কারণে তিনি সমালোচিতও হয়েছিলেন। সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে তার কথিত ভূমিকার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, সেই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের এক বিবৃতিতে তাকে ওই “দমনপীড়নের সম্মুখসারির নায়ক” হিসেবে অভিহিত করা হয়েছিল।

কেন লারিজানির মৃত্যু ইরানের জন্য বিশাল আঘাত?

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ বাড়ছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ইরান বিশ্ব তেলের বাজারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালী’র ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু বলেছেন, এই হামলার লক্ষ্য ইরানের নেতৃত্বকে দুর্বল করে দেওয়া, যাতে ইরানের মানুষ তাদের সরিয়ে দেওয়ার সুযোগ পায়। তবে ইরানের ভেতরে সাধারণ মানুষ চলমান হামলা থেকে বাঁচতে আশ্রয়ে থাকলেও, সেখানে সরকারবিরোধী কোনো আন্দোলনের দৃশ্যমান লক্ষণ দেখা যায়নি।

মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে লারিজানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি হুমকির জবাবে বেশ সাহসী ও চ্যালেঞ্জিং কথা বলেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ইরানের এই আত্মত্যাগী জাতি আপনার ফাঁপা হুমকিকে ভয় পায় না। এমনকি আপনার চেয়ে বড় শক্তিগুলোও ইরানকে শেষ করে দিতে পারেনি। সাবধান থাকুন, যেন আপনি নিজেই শেষ হয়ে না যান।

(Feed Source: zeenews.com)