
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আধ্যাত্মিকতার নামে নারী নির্যাতন। দিনের পর দিন একাধিক মহিলাদকে ধর্ষণ। ইতোমধ্যেই মহারাষ্ট্রের নাসিকে ‘প্রভাবশালী’ জ্যোতিষী অশোক খরাত গ্রেফতার। অভিযুক্ত অশোক আবার নিজেকে ‘ক্যাপ্টেন’ হিসেবে পরিচয় দিত।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে যেভাবে–
৩৫ বছর বয়সী এক নির্যাতিতার পুলিসের দ্বারস্থ হন। তাঁর অভিযোগ ভিত্তিতে পুলিস তদন্তে নামে। নির্যাতিতার দাবি, তিনি পারিবারিক সমস্যা সমাধানের জন্য এসেছিলেন অশোক খরাতের কাছে। কিন্তু সেখানে তাঁকে মাদক খাইয়ে অচেতন ও সম্মোহিত করা হয়। এরপর ধর্মীয় আচার ও তন্ত্র-মন্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে বারবার ধর্ষণ করে ওই জ্যোতিষী। পুলিস জানায়, শুধু একজন নন, আরও অনেককে সম্মোহিত করে এবং স্বামীর মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে খরাত যৌন নির্যাতন চালাত।
বিস্ফোরক সিসিটিভি ফুটেজ
তদন্তে নেমে পুলিসের হাতে ভয়ংকর তথ্য উঠে আসে। অশোকের অফিস থেকে একটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে ৫৮ জন ভিন্ন ভিন্ন মহিলার সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিয়ো। অফিসের ভেতরে অশোক অত্যন্ত গোপনে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে এসব রেকর্ড করত বলে জানিয়েছে পুলিস।
যেভাবে চলত অপরাধের সাম্রাজ্য
অশোক নাসিকে ‘ওকাস প্রপার্টি ডিলার্স অ্যান্ড ডেভেলপার্স’ নামে একটি অফিস চালাত। কিন্তু অভিযোগ যে, ব্যবসার আড়ালে সে আসলে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাত। উলটে সে নিজেকে অত্যন্ত দক্ষ জ্যোতিষী এবং ঐশ্বরিক শক্তির অধিকারী হিসাবে দাবি করত। এমনকী জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে শুরু করে মহারাষ্ট্রের ক্ষমতার কেন্দ্র পর্যন্ত তার রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে।
নাসিকের সিন্নার এলাকায় অবস্থিত ‘শ্রী ঈশাণ্যেশ্বর মন্দির ট্রাস্ট’-এর চেয়ারম্যান ছিল সে। এছাড়া মিরগাঁওয়ে তার নিজস্ব একটি মন্দির এবং একটি বিলাসবহুল বাগানবাড়ি (রিট্রিট) রয়েছে। সেখানে মাঝেমধ্যেই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা আশীর্বাদ নিতে আসতেন। মূলত বড় বড় রাজনীতিবিদ, সেলিব্রিটি এবং নামী ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি একজন আধ্যাত্মিক গুরু বা পথপ্রদর্শক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়েই তিনি সমাজের উচ্চস্তরে নিজের প্রভাব বজায় রাখতেন।
নাটকীয় অভিযানে গ্রেফতার ও অস্ত্র উদ্ধার
অশোক খরাতের গ্রেফতারের খবর যাতে কোনওভাবেই ফাঁস না হয়, সেজন্য পুলিস অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। নাসিকের একটি ফার্মহাউসে এই অভিযান চালানো হয়। রাতের অন্ধকারে পুলিসের দলটি অভিযুক্তের বাড়ির সামনে ‘চোর চোর’ বলে চিৎকার শুরু করে এবং একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি করে। এই সুযোগে পুলিসের টিম সরাসরি বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে। খরাত কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে তার বেডরুম থেকে গ্রেফতার করা হয়।
তল্লাশি চলাকালীন ওই ফার্মহাউস থেকে একটি পিস্তল, তাজা কার্তুজ এবং বেশ কিছু ব্যবহৃত কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিস। এছাড়া মিরগাঁওয়ে তার মন্দির ও আশ্রমে চিরুনি তল্লাশি চালিয়ে বেশ কিছু সন্দেহজনক নথি পাওয়া গেছে। পুলিস জানিয়েছে, মহারাষ্ট্র জুড়ে তার মালিকানাধীন আরও বেশ কিছু সম্পত্তি এখন তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
রাজনৈতিক তোলপাড়
এই ঘটনা সামনে আসার পর মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে ঝড় উঠেছে। বিরোধী দলগুলো সরকারের কাছে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। উদ্ধব ঠাকরে শিবিরের নেত্রী সুষমা আন্ধারে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্তের জন্য আইপিএস অফিসার তেজস্বিনী সাতপুতে-র নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
