)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কথাতেই আছে ‘বাপকা বেটা, সিপাইকা ঘোড়া, কুছ নেহি তো থোড়া থোড়া!’ কিংবদন্তি সচিন তেন্ডুলকরের (Sachin Tendulkar) সঙ্গে যে তাঁর সুপুত্র অর্জুন তেন্ডুলকরের (Arjun Tendulkar) মিল থাকবেই, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যেমন ধরা যাক, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে অর্জুনের রঞ্জি অভিষেকে সেঞ্চুরি। তাঁর বাবার গড়াই এক বিরল ক্লাবের সদস্য তিনি। ওদিকে আবার চলতি মাসের শুরুতে, ২৬ বছর বয়সে অর্জুন বিয়ে করেছেন। ১৯৯৬ সালে সচিন যখন অঞ্জলিকে বিয়ে করেছিলেন, তখন ‘ক্রিকেট ঈশ্বর’ ছিলেন মাত্র ২২ বছরের। এবার আসা যাক আসন্ন আইপিএলের (IPL 2026) প্রসঙ্গে। লখনউ সুপার জায়ান্টসের (Lucknow Super Giants) হয়ে এবার খেলবেন অর্জুন। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের (Mumbai Indians) হয়ে দুই মরসুমে ৫ ম্যাচ খেলা অর্জুনকে এবার ৩০ লক্ষ টাকায় সঞ্জীব গোয়েঙ্কার (Sanjiv Goenka) ফ্র্যাঞ্চাইজি।
পন্থ-অর্জুনের কথোপকথন
বাকি দলগুলির মতো লখনউ শুরু করে দিয়েছে আইপিএলের প্রস্তুতি। ট্রেনিংয়ের আগে দলের নেতা ঋষভ পন্থের সঙ্গে অর্জুনের কথোকপথনের একটি ভিডিয়ো শেয়ার করেছে এলএসজি। সেই ভিডিয়ো রাতারাতি ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সেখানে পন্থ বলেন, ‘আমার ব্যাটের ওজন ওই ৭০-৮০ গ্রামের আশেপাশে হবে। তোর কতো?’ আমার ব্যাটের ওজন ১২২০ গ্রাম।’ যা শুনে পন্থ চমকে যান! জিজ্ঞাসা করেন যে, ‘ভারী ব্যাটে খেলার কি সুবিধা?’ অর্জুন বলেন, ‘ব্যাটের হালকা ছোঁয়াতেই বল উড়ে যায়। আমার বাবা তো ১৩১০-১৩১৫ ওজনের ব্যাট দিয়ে খেলত। আমি কখনও ১২০০ গ্রামের কম ওজনের ব্যাট ব্যবহার করি না।’ পন্থ আর অর্জুনের ব্যাটের ওজনের ফারাক দাঁড়িয়েছে ৫০০ গ্রামের। পন্থ আর অর্জুনের শুরুতেই ভালো বন্ধুতা এবং বোঝাপড়ার সম্পর্ক গড়ে উঠেছে প্রথম থেকেই। যা ভিডিয়ো দেখেই বোঝা যাচ্ছে। পন্থ একজন সিনিয়রের মতোই অর্জুনকে আস্বস্ত করেছেন যে, যে কোনও প্রয়োজন হলেই তিনি পাশে থাকবেন। কোনও দরকার হলেই যেন অর্জুন জানায়। বিয়ের ঠিক একদিন পরেই অর্জুন ফিরে গিয়েছিলেন যুবরাজ সিংয়ের ক্লাসে। সেই বিষয়টিরও তারিফ করেছেন পন্থ।
সচিনের ব্যাটের গল্প
অর্জুনের এই মন্তব্য যেন পুরনো স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। সচিন তাঁর বর্ণময় কেরিয়ারের পুরো সময় জুড়েই এমন ব্যাট ব্যবহার করেছেন, যা তাঁর সমসাময়িকদের তুলনায় অনেকটাই ভারী ছিল। প্রচলিত ধারণার বিপরীতে গিয়েই ব্যাটের ওজন কখনই উল্লেখযোগ্য ভাবে কমাননি। যদিও সময়ের সঙ্গে ব্যাটের আকারে পরিবর্তন এনেছিলেন তিনি। ব্যাটিংয়ে সচিন যখন পাওয়ারের বদলে ধীরে ধীরে টাইমিং ও নিখুঁততার দিকে সরে গিয়েছিলেন, তখন ব্যাটেও পরিবর্তনের প্রতিফল ছিল। ব্যাটের স্পাইন থেকে টো আরও বাঁকানো হয়ে ওঠে। এই বদলের ফলেই নিছক পাওয়ার ক্রিকেটের বদলে টাইমিংয়ের ওপর বেশি গুরুত্ব দিতে পেরেছিলেন।নিজের আত্মজীবনী ‘প্লেইট ইট মাই ওয়ে’তে সচিন লিখেছেন, কোচদের পরামর্শ সত্ত্বেও তিনি কখনও হালকা ব্যাট ব্যবহার করেননি। মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই তিনি ভারী ব্যাট ব্যবহার শুরু করেন, অনেক সময় দাদা অজিতের ব্যাট নিয়েও খেলতেন। যার ফলে তাঁর গ্রিপটা নীচের দিকে বেশি ভারী হয়ে উঠেছিল। তিনি লিখেছেন, ‘আমি বেশ ভারী ব্যাট ব্যবহার করতাম এবং মাঝে মাঝে আমাকে হালকা ব্যাটে খেলা পরামর্শ দেওয়া হত। আমিও হাল্কা ব্যাটে খেলার চেষ্টাও করেছিলাম, কিন্তু কখনও আরাম পাইনি, কারণ আমার পুরো ব্যাট সুইংটাই ওজনের উপর নির্ভর করত। যখন আমি ড্রাইভ করতাম, তখন শক্তি তৈরি করতে ওই ওজনটারই দরকার ছিল। সবকিছুই ছিল টাইমিংয়ের ওপর নির্ভরশীল।’ বোঝাই যাচ্ছে বাবার পথেই হাঁটছেন অর্জুন।
(Feed Source: zeenews.com)
