
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ঠিক ৭ দিন আগেই এসেছিল তোলপাড় করা রিপোর্ট। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আমেরিকার গর্বের রণতরী আব্রাহাম লিংকন! (Iran’s Ballistic Missiles hit US Warship Abraham Lincoln Hit)! ইরানের ইসলামিক রিভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) নৌবাহিনী দাবি করেছিল যে, তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল আব্রাহাম লিংকনে আঘাত হেনেছে। এবং সেই হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজের এতটাই ক্ষতি হয়েছিল যে, সেটি সঙ্গে সঙ্গে অচল হয়ে যায় এবং উপসাগরীয় জলসীমা থেকে লেজ গুটিয়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এবার সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতেই ইরানের ফের এক চাঞ্চল্যকর দাবিতে নড়ে গেল বিশ্ব। এবার একেবারে ভিডিয়ো প্রমাণ দিয়ে ইরান জানাল যে, তারা আমেরিকার সবচেয়ে উন্নত এবং আধুনিকতম স্টেলথ ফাইটার জেট এফ-থার্টিফাইভে গুঁড়িয়ে দিয়েছে মিসাইল দেগে (US F-35 Hit By Iran)। ‘অবিনশ্বর’ বা ‘আনকিলেবল’ তকমাধারী এই জেটকে ১৯ মার্চ ২০২৬ সালের আগে পর্যন্ত কোনও দেশ ছুঁতে পর্যন্ত পারেনি। অবশেষে আমেরিকার দর্পচূর্ণ ইরানের আঘাতে!
আমেরিকার দাবি ধোপে টিকল না
আমেরিকার দাবি যে, এফ-থার্টিফাইভ মধ্যপ্রাচ্যের এক ঘাঁটিতে জরুরি অবতরণ করেছিল। যদিও ইরান বলেছে সেটি তাদের ছোড়া মিসাইলেই ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি এও জানা যাচ্ছে, ইরানের বান্দার আব্বাসের আকাশে আরও একটি এফ-৩৫ জেটে আঘাত করেছে ইরান। আর এখানেই উঠে আসছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। ক্ষয়িষ্ণু আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা (এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম) থাকা সত্ত্বেও ইরান কীভাবে বিশ্বের অন্যতম আধুনিক ও ব্যয়বহুল যুদ্ধবিমানকে আঘাত করতে পারল? এফ-৩৫ যখন মধ্য ইরানের ওপর দিয়ে উড়ছিল, তখনই আমেরিকা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছিল যে, ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন, ‘আমরা যেখানে খুশি উড়ছি। কেউ আমাদের দিকে গুলি পর্যন্ত চালায়নি।’ আমেরিকার প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছিলেন, ‘ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে’! আমেরিকার অংঙ্কার মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ভেঙে দেয় ইরান। শত্রুদেশের রাডার এড়িয়ে অদৃশ্য হয়ে যাওয়া অত্যাধুনিক এফ-৩৫ জেটেই আঘাত ইরানের। আমেরিকা এই বিষয়ে কোনও বিবৃতি দেওয়ার আগেই ইরান পাল্টা চাল চেলে দিয়েছে। ভিডিও প্রকাশ করে দেখিয়ে দিয়েছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ১০০ মিলিয়ন ডলারের বিশ্ববন্দিত বিমানকে খুঁজে নিয়েই খেলা শেষ করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি যুদ্ধের এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত। যার প্রভাব গোটা বিশ্বেই অনুভূত হবে। বর্তমানে প্রায় ১৫টি দেশ এফ-৩৫-এর বিভিন্ন সংস্করণ ব্যবহার করছে। গতবছর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যখন আমেরিকা সফরে গিয়েছিলেন, তখন হোয়াইট হাউসে বসে ভারতকেও এই যুদ্ধবিমান কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ভারত সেই বিষয়ে কোনও আগ্রহ দেখায়নি। সব মিলিয়ে বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। কারণ এফ-৩৫-কে মার্কিনি বিমান প্রযুক্তির শীর্ষসাফল্য হিসেবেই দেখা হয়েছে। তৈরি হয়েছে ট্রিলিয়ন ডলারের প্রকল্পে। অথচ এখন তথাকথিত ‘বিধ্বস্ত’ ইরানই দেখিয়ে দিল এই অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমানেরও কিছু দুর্বলতা রয়েছে।
Iran releases video of it shooting down an F35.
by u/Fantastic-Corner-605 in Military
কীভাবে ইরান আঘাত হানল মার্কিন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানে?
রাডার এড়িয়ে চলার জন্য তৈরি স্টেলথ বিমান এফ-৩৫। তাহলে কীভাবে ধরা পড়ে গেল? প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ সন্দীপ উন্নিথান এক সর্বভারতীয় মিডিয়ায় এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জানিয়েছেন যে, তথাকথিত স্টেলথ প্রযুক্তি আসলে অনেকটাই ভুল ধারণা। ‘কোম্পানির ব্রোশিওরে বলা হয় যে, এফ-৩৫ রাডারে পুরোপুরি অদৃশ্য। কিন্তু তা শনাক্ত করার আরও উপায় রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হল তাপ। এক্ষেত্রে ঠিক সেটাই ঘটেছে।’ যদিও ইরান ঠিক কোন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ধারণা ‘লোয়টারিং মিউনিশন’, বিশেষ করে ৩৫৮ অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট মিসাইল বা স্বল্পপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রেই ঘায়েল করেছে। ৩৫৮ মিসাইল যা এসএ-৬৭ নামেও পরিচিত। মূলত এটি এক ধরনের ‘লোয়টারিং ড্রোন’, যার সঙ্গে ইনফ্রারেড সেন্সর থাকে এবং যা আকাশে অপেক্ষা করে লক্ষ্যবস্তুকে শনাক্ত করে আঘাত করতে পারে। সাধারণত এটি ধীরগতির উড়োজাহাজকে লক্ষ্য করে তৈরি হলেও, এফ-৩৫ কিন্তু মোটেই ধীরগতির নয়—এটাই ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলছে। এর আগেও ইরান এই ৩৫৮ মিসাইল ব্যবহার করে মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনকে টার্গেট করেছে। শুধু তাই নয়, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের কাছেও এই প্রযুক্তি সরবরাহ করেছে তেহরান। উল্লেখযোগ্য ভাবে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষে ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ১২টিরও বেশি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন ধ্বংস হয়েছে বলে খবর। যা ইঙ্গিত দিচ্ছে, আকাশযুদ্ধে নতুন কৌশল ও প্রযুক্তির লড়াই ক্রমশ তীব্র হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
