বসন্তে অকাল বৃষ্টির নেপথ্যে বিল গেটস, গোপন পরীক্ষা-নিরীক্ষা? সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর শোরগোল

বসন্তে অকাল বৃষ্টির নেপথ্যে বিল গেটস, গোপন পরীক্ষা-নিরীক্ষা? সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর শোরগোল

বসন্তে অকাল বৃষ্টির নেপথ্যে বিল গেটস, গোপন পরীক্ষা-নিরীক্ষা? সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর শোরগোল

অকাল বর্ষণে ভিজছে দিল্লি থেকে পশ্চিমবঙ্গ। আর তাতেই নয়া ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব উঠে এল। বসন্তে বর্ষণের নেপথ্যে ধনকুবের বিল গেটসের হাত রয়েছে বলে দাবি ছড়াল সোশ্যাল মিডিয়ায়।

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, X, প্রায় সর্বত্রই এমন চমকপ্রদ দাবি চোখে পড়ল। কেউ কেউ হেসে উড়িয়ে দিলেও, বিষয়টি নিয়ে তর্ক-বিতর্কে অংশ নেন অনেকেই।

নিজেদের গবেষণার স্বার্থে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করা হয়েছে, মেঘের মধ্যে রাসায়নিক প্রয়োগ করে পরীক্ষা চালাতে গিয়েই এমন বিপত্তি ঘটানো হয়েছে বলে দাবি উঠে আসে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

এপ্রসঙ্গে বেশ কয়েক বছর আগের একটি গবেষণার প্রসঙ্গ টেনে আনা হয়। বিশ্ব উষ্ণায়ন রুখতে, পৃথিবীতে শীতলতা ফিরিয়ে আনতে আকাশে রাসায়নিক প্রয়োগ করে সূর্যের তেজ স্ত্মিত করার প্রস্তাব ওঠে ২০০৭ সাল নাগাদ।

বিজ্ঞানের ভাষায় ওই প্রক্রিয়াকে Stratospheric Aerosol Injection নামে অভিহিত করা হয়। তিন বছরের সময়কালে ওই গবেষণায় নিজের পকেট থেকে ৪.৫ মিলিয়ন ডলার ঢালেন গেটস, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায়৪২ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা।

স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে গিয়ে বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড টেনে নিয়ে, ক্যালসিয়াম কার্বোনেটের গুঁড়ো ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে ঠিক হয়, যাকে সূর্যালোক পড়লেও, প্রতিফলিত হয়ে উপর দিকেই ফিরে যায়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা সেই নিয়ে গবেষণা করছিলেন।

কিন্তু খাতায় কলমে ওই কাজ শুরুই হয়নি। সূর্যালোককে স্তিমিত করা, আবহাওয়াকে নিয়ন্ত্রণ করার কাজে কার্যত হাতই দিতে পারেননি গবেষকরা। কারণ ২০২৪ সালের গোড়ার দিকে ওই প্রকল্প বাতিল করে দেয় হার্ভার্ড।

সেই সময় জানা যায়, এক বছর আগেই গবেষকরা হাত তুলে নেন। সুইডেনের যে অংশ থেকে ক্যালসিয়াম কার্বন ভর্তি বেলুন পাঠানোর কথা ছিল স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে, সেখানকার বাসিন্দারা ওই গবেষণায় তীব্র আপত্তি জানান।

বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও শুরু হয়। ফলে কাজ শুরুই করা যায়নি। গেটস নিজেও জানান, জিও-ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দিকে পৃথিবীকে ঠেলে দিতে নারাজ তিনি। এই ধরনের পরীক্ষা নিরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, নিজেকে ওই প্রকল্প থেকে দূরে সরিয়ে নেন।

ফলে অকাল বৃষ্টির জন্য গেটসকে দায়ী করা যুক্তিহীন। আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা দেখে কেউ কেউ বিষয়টি হাওয়ায় ভাসিয়ে দেন কার্যত। আর তাতেই শোরগোল পড়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়।

(Feed Source: abplive.com)