Trump’s 48 Hour Hormuz Strait Ultimatum: ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার হুঁশিয়ারিতেই ইরান খুলে দিল হরমুজ? রবির বিরাট ঘোষণায় ভারতে চরম জ্বালানি সংকট মিটছে

Trump’s 48 Hour Hormuz Strait Ultimatum: ট্রাম্পের ৪৮ ঘণ্টার হুঁশিয়ারিতেই ইরান খুলে দিল হরমুজ? রবির বিরাট ঘোষণায় ভারতে চরম জ্বালানি সংকট মিটছে

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমেরিকা-ইরান-ইসরায়েলের (US-Israel-Iran War) চলতি ভয়াবহ যুদ্ধ ২৩ দিনে পা দিল ২২ মার্চ। পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার জবাবে ইরান কিন্তু অটুট ও অনমনীয় অবস্থানেই রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্তে হরমুজ প্রণালী পুরুপোরি খুলে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন (Trump’s 48 Hour Hormuz Strait Ultimatum)। অন্যথায় ইরানকে কার্যত মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার কথাই বলেছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের হর্তা-কর্তা-বিধাতা। ট্রাম্পের হুমকির অল্প সময়ের মধ্যেই ইরান জবাব দিল। আর বিরাট ঘোষণায় সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত আরোপের মাধ্যমেই তারা আবারও আমেরিকার উপর এক বড় আঘাত হানল। ইরান বুঝিয়ে দিল যে, তারা পিছু হটতে প্রস্তুত নয়।

সবার জন্য উন্মুক্ত হরমুজ, তবে একটি শর্তে

ইরান জানিয়েছে যে, সব দেশের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত হরমুজ। তবে এর সঙ্গেই একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্ত জুড়েছে তারা। শত্রু দেশগুলির কোনোও জাহাজেরই এই পথ দিয়ে যাতায়াতের অনুমতি নেই। ইরান মূলত আমেকিরা, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করেই যে বলেছে, তা দিনের আলোর মতোই স্পষ্ট। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সকল মিত্র দেশেরই ‘নো এন্ট্রি’ জারি থাকছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, কাতার, কুয়েত এবং সৌদি আরব অন্যতম। আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থার ইরানি প্রতিনিধি আলি মৌসাভি রবিবার বলেছেন যে, যেসব জাহাজের সঙ্গে ইরানের শত্রুদের কোনও সম্পর্ক নেই, তারা তেহরানের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়গুলি সমন্বয় করে নিশ্চিন্তে, বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে। মৌসাভি আরও জানিয়েছেন যে, উপসাগরীয় অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং নাবিকদের সুরক্ষায় জাতিসংঘের এই সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে তেহরান প্রস্তুত রয়েছে। তবে তিনি যুক্তি দেখিয়েছেন যে, ইরানের উপর ইসরায়েল ও আমেরিকার হামলাই হরমুজ প্রণালীতে বর্তমান পরিস্থিতির মূল কারণ। মৌসাভি যোগ করেছেন, ‘কূটনীতিই ইরানের কাছে অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত। তবে আগ্রাসন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং সেই সঙ্গে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার পরিবেশ গড়ে তোলা—এসব বিষয়ই এখন অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ।’

হরমুজ প্রণালীর পথ কি ভারতের জন্য উন্মুক্ত হল?

ইরানের এই বিবৃতি ভারতের জন্য বিরাট স্বস্তিদায়ক। বর্তমানে হরমুজে ভারতের ২২টি জাহাজ আটকে আছে। এই বিষয়য়ে ইরানের সঙ্গে ভারত প্রতিনিয়ত যোগাযোগ বজায় রেখে চলেছে। এখন ভারতের আশা অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান এও স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা কূটনীতিকেই অগ্রাধিকার দেয়। তবে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে হলে আমেরিকা ও ইসরায়েলকে সবার আগে তাদের হামলা সম্পূর্ণ ভাবে বন্ধ করতে হবে। একদিকে যখন হরমুজ প্রণালী প্রসঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আল্টিমেটাম এসেছে, ঠিক তখনই অন্যদিকে ইরান প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। অবশ্য তা কিছু নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে। ভারতের জন্য বর্তমান পরিস্থিতিটি এখন অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণের পর্যায়ে রয়েছে। এখন দেখার বিষয় হল- এই প্রণালী দিয়ে ভারতের জাহাজ চলাচলের বিষয়ে ইরান শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয়। যদি ভারতীয় জাহাজগুলিকে এই পথ দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়, তবে দেশের চলমান জ্বালানি সংকট অচিরেই কেটে যেতে পারে।

(Feed Source: zeenews.com)