
গরম পড়লেই বাড়িতে এসি চালানো এখন আর বিলাসিতা নয়, প্রয়োজন। কিন্তু সেই স্বস্তির সঙ্গেই জুড়ে থাকে এক অস্বস্তিকর বাস্তব—মাসের শেষে চড়া বিদ্যুতের বিল। অনেকেই মনে করেন, এসি চালালেই বিল বাড়বে, এড়ানোর কোনও উপায় নেই। এই ধারণা পুরোপুরি ভুল না হলেও, সম্পূর্ণ সত্যিও নয়। কারণ একটু বুদ্ধি করে, কিছু বৈজ্ঞানিক নিয়ম মেনে এসি ব্যবহার করলে খরচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অর্থাৎ আরাম আর সাশ্রয়—দুটোই একসঙ্গে পাওয়া যায়, যদি ব্যবহারটা ঠিকভাবে করা যায়।
গরমের দিনে আরাম দিতে এসি, কুলার, ফ্যান ও ফ্রিজ প্রায় সারাক্ষণই চলতে থাকে। এতে যেমন স্বস্তি মেলে, তেমনই বাড়ে বিদ্যুতের ব্যবহার। আর সেই সঙ্গে বাড়তে থাকে বিলের অঙ্ক। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই অতিরিক্ত খরচের পিছনে থাকে আমাদের অজান্তে করা কিছু ভুল। যেমন—অতিরিক্ত কম তাপমাত্রায় এসি চালানো, ঘর ঠিকমতো বন্ধ না রাখা, বা যন্ত্রপাতির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ না করা। এই ছোট ছোট ভুলগুলোই মাসের শেষে বড় অঙ্কের বিল তৈরি করে।
এসি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে বিদ্যুতের বিল অনেকটাই কমানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখাই সবচেয়ে উপযোগী। অনেকেই দ্রুত ঠান্ডা পাওয়ার আশায় ১৮ বা ২০ ডিগ্রিতে এসি সেট করেন, কিন্তু এতে উল্টে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়। কারণ, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি কমালে প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বেশি বিদ্যুৎ লাগে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে এসি চালালে বিলও দ্রুত বাড়তে থাকে।
এছাড়াও, এসি চালানোর সময় দরজা ও জানালা বন্ধ রাখা অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় ঘর পুরোপুরি সিল না থাকলে ঠান্ডা হাওয়া বাইরে বেরিয়ে যায় এবং গরম হাওয়া ঢুকে পড়ে। এর ফলে এসিকে বেশি সময় ধরে কাজ করতে হয়, যা বিদ্যুৎ খরচ বাড়িয়ে দেয়। তাই ঘর যত বেশি সিল থাকবে, এসি তত দ্রুত ঠান্ডা করবে এবং কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে।
আরও একটি প্রচলিত ভুল ধারণা হল—এসি চলার সময় ফ্যান চালালে নাকি বিদ্যুৎ বেশি খরচ হয়। বাস্তবে এর উল্টোটা সত্যি। ফ্যান চালালে ঠান্ডা হাওয়া দ্রুত ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে এসিকে কম সময় চালালেই ঘর ঠান্ডা হয়ে যায়। এতে মোট বিদ্যুৎ খরচ বরং কমে।
সব মিলিয়ে, এসি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই সহজ নিয়মগুলি মেনে চললে প্রতি মাসে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুতের বিল কমানো সম্ভব বলে মত বিশেষজ্ঞদের। অর্থাৎ একটু সচেতনতা আর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমেই গরমে আরাম নেওয়ার পাশাপাশি পকেটের উপর চাপও অনেকটাই কমানো যায়।
(Feed Source: news18.com)
