শুভপম সাহা: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ছিল মরসুমের প্রথম মিনি-ডার্বি। মোহনবাগান ৫-১ গোলে হারিয়েছিল মহামেডানকে। ২৩ দিন পর, ২২ মার্চ মরসুমের দ্বিতীয় মিনি-ডার্বি খেলল মহামেডান। এবার ছিল প্রতিপক্ষ ইস্টবেঙ্গল। বিদেশিহীন সাদা-কালো ব্রিগেডের চেয়ে ধারে-ভারে প্রায় কয়েকশো গুণ এগিয়ে থাকা ইস্টবেঙ্গল যে, পয়েন্ট টেবলের সবচেয়ে নীচের দলকে, একেবারে পিষে দেবে, তা অনুমান করার জন্য বঙ্গজ ফুটবলের বিশেষজ্ঞ না হলেও চলত| সোম সন্ধ্যায় অস্কার ব্রুজোর শিষ্যরা যুবভারতীতে ৭-০ হারাল মেহেরাজুদ্দিন ওয়াডুর টিমকে|
শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গল গোলের জন্য ঝাঁপিয়েছিল। প্রথম ১৫ মিনিটেই লাল-হলুদ ঝড়ের সামনে ভেঙে পড়ে মহামেডান। ৬ মিনিটেই ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন আনোয়ার আলি। দূরপাল্লার শটে দুরন্ত গোল করেন লাল-হলুদ ডিফেন্ডার। প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই, ইস্টবেঙ্গল দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায়। মহামেডান ডিফেন্ডার সাজাদ হুসেইন বক্সের মধ্যে মিগুয়েলকে ফাউল করে বসেন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টি দেন। স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ইউসুফ এজেজারি হেলে-দুলে নেট করে দেন| গোলকিপার পদম ছেত্রী হাঁ করে শুধু দেখলেন| এরপর ঠিক ১৭ মিনিটেও এজেজারির শট, অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে লাল-হলুদ তিন গোলে এগিয়ে যেতে পারত| তবে ইস্টবেঙ্গললের তৃতীয় গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হল না| ৩৫ মিনিটে মহামেডানের ডিফেন্ডার জোসেফ বক্সের মধ্যে ইস্টবেঙ্গল ফরোয়ার্ড এডমন্ডের জার্সি টেনে তাঁকে রুখতে চেয়েছিলেন| রেফারি সঙ্গে সঙ্গে জোসেফকে হলুদ কার্ড দেখান এবং পেনাল্টির নির্দেশ দেন| এর আগেও জোসেফ ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন| ফলে জোড়া হুলুদে লাল কার্ড হয়ে যাওয়ায় তাঁকে মাঠ ছাড়তে হয়| সল ক্রেসপোর প্রথমবার নেওয়া পেনাল্টি রেফারি নাকচ করে দেওয়ায় তিনি আবার মারেন, তবে ফল সেই একই থাকে| বল ঢুকে যায় নেটে| বিরতির আগেই ইস্টবেঙ্গল ৩-০ করে ফেলে স্কোরলাইন|
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ইস্টবেঙ্গল আর কতগুলি গোল দেবে, তা নিয়ে যখন প্রেস বক্সে চৰ্চা চলছে, ঠিক তখনই ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের তৃতীয় পেনাল্টি আদায় করে নেয়| পদম ছেত্রী গোলপোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে মিগুয়েলকে চার্জ করে বসেন| আর তাতেই বিপাকে পড়ে মহামেডান| ৫৫ মিনিটে এজেজারির শটে ইস্টবেঙ্গল ৪-০ করে ফেলে| ম্যাচের ৭৫ মিনিটে বিষ্ণু পঞ্চম গোল করেন| পেটে ছুঁইয়ে তিনি তে-কাঠিতে বল জড়িয়ে দেন| ৭৯ মিনিটে আনোয়ারের গোলে ইস্টবেঙ্গল হাফ-ডজন করে ফেলে| রেফারি ৫ মিনিট এক্সট্রা টাইম দেন| সেখানেও ইস্টবেঙ্গল গোল করে| ৯৬ মিনিটে নন্দকুমার বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত গোল করে মহামেডানের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেয়| এদিন পদম কয়েক’টি সেভ না করলে ইস্টবেঙ্গল ১০ গোল করতে পারত, এই কথা বলাই যায়| এদিন দুপুরে কন্যাশ্রী কাপে ইস্টবেঙ্গলের মেয়েরা মৈত্রী সংসদকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল| আর রাতে মহামেডানের বিরুদ্ধে এল বড় জয়! ইস্টবেঙ্গল আজ দিন-রাত মিলিয়ে গোলেই থাকল|
এই ম্যাচের আগে ইস্টবেঙ্গল ৫ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ৬ নম্বরে ছিল| এদিন মহামেডানকে উড়িয়ে ৬ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে ৪ নম্বরে উঠে, লিগ জমিয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল| অন্যদিকে একাধিক সমস্যায় জর্জরিত মহামেডানের খাতাই খোলা হল না| তবে আপাতত আইএসএলে ছোট্ট বিরতি| এই মাসে আর কোনও ম্যাচ নেই| শুরু ইন্টারন্যাশনাল ব্রেক|
(Feed Source: zeenews.com)
