)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: “কাজ করে যাও, ফলের চিন্তা করো না”— এই মন্ত্রকেই জীবনের পাথেয় করেছেন মুস্তাফা আহমেদ। আজ বড় পর্দায় তিনি রণবীর সিংয়ের (হামজা) ছায়াসঙ্গী ‘রিজওয়ান’। কিন্তু রুপোলি পর্দার এই চকমকে দুনিয়ায় পৌঁছানোর আগে মুস্তাফাকে জিততে হয়েছে এক কঠিন লড়াই।
মাত্র ২১ বছর বয়সে মুস্তাফা একটি কল সেন্টারে টিম লিডার হিসেবে কাজ করতেন, যেখানে তাঁর মাসিক বেতন ছিল ১ লক্ষ টাকা। কিন্তু জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় একটি সাধারণ ঘটনা। দিল্লির জনকপুরীর একটি জিমে তিনি এক মহিলাকে শরীরচর্চায় সাহায্য করেন, যাকে অন্য ট্রেইনাররা অবহেলা করেছিলেন। পরে সেই মহিলার একটি চিঠি মুস্তাফার জীবন বদলে দেয়। চিঠিতে লেখা ছিল, ফিটনেস কীভাবে তাঁর বৈবাহিক জীবন ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে। সেই অনুপ্রেরণাতেই লক্ষ টাকার চাকরি ছেড়ে মাত্র ১০ হাজার টাকার জিম ট্রেইনার হিসেবে নতুন করে জীবন শুরু করেন মুস্তাফা। পরিবার থেকে ‘পাগল’ তকমা জুটলেও তিনি পিছু হটেননি।
মুস্তাফার শৈশব ছিল ‘তারে জামিন পার’-এর ঈশান অবস্তির মতো। আফগানি বংশোদ্ভূত মুস্তাফা ডিসলেক্সিয়া আক্রান্ত ছিলেন। প্রথাগত পড়াশোনায় মন বসত না বলে খুব অল্প বয়সেই স্কুল ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু বইয়ের পাতায় মন না বসলেও খেলাধুলা ও শারীরিক কসরতে তিনি ছিলেন তুখোড়। সেই শারীরিক শক্তিই আজ তাঁকে বলিউডের অন্যতম সেরা ‘স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
হৃতিক রোশন থেকে ভিকি কৌশল, ইয়ামি গৌতম থেকে রণবীর সিং— বলিউডের তাবড় তারকাদের ফিটনেসের কারিগর এই মুস্তাফা। বিশেষ করে ‘পদ্মাবত’ ছবিতে রণবীর সিংয়ের সেই বিধ্বংসী লুক তৈরির নেপথ্যে ছিলেন তিনি। পরিচালক আদিত্য ধর মুস্তাফার ভেতরের অভিনয় প্রতিভাকে চিনতে পারেন এবং তাঁকে অভিনয়ের সুযোগ করে দেন।
(Feed Source: zeenews.com)
