ইউনূসের মতো পাকিস্তানপ্রীতি নয়, বাংলাদেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করালেন তারেক

ইউনূসের মতো পাকিস্তানপ্রীতি নয়, বাংলাদেশবাসীকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্মরণ করালেন তারেক
নয়াদিল্লি: ভারতবিদ্বেষ থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে সখ্য তৈরি করতে দেখা গিয়েছিল বাংলাদেশের প্রাক্তন অন্তর্বর্তী শাসক মহম্মদ ইউনূসকে। কিন্তু পাকিস্তানের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে চলাই যে সমীচীন, ক্ষমতায় এসেই তা বুঝিয়ে দিলেন বাংলাদেশের নয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২৫ মার্চ ‘গণহত্য়া দিবসে’ যে বার্তা দিয়েছেন তিনি, তার ছত্রে ছত্রে পাকিস্তানের নির্মমতা তুলে ধরেছেন। (Tarique Rahman)

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশে ‘অপারেশন সার্চলাইট’ চালায় পাকিস্তান। মুক্তিযুদ্ধের গতি আটকে দিতে ঘুমন্ত বাঙালির উপর অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারা। নির্বিচারে গণহত্যা চালায় পাক সেনা, ঘুমন্ত পরিবারের বাড়িতে আগুন ধরানো হয়, সংখ্য়ালঘু হিন্দুদের উপরও অত্যাচার চালানো হয়। ওই দিনটি আজও ‘গণহত্যা দিবস’ হিসেবে পালিত হয় বাংলাদেশে। (Bangladesh News)

সেই নিয়ে বুধবার সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ বার্তা পোস্ট করেন তারেক। তিনি লেখেন, ‘গণহত্যা দিবসে শহিদদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই আমি। স্বাধীনতাপ্রেমী বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ দিনটি অন্যতম লজ্জাজনক, নৃশংস দিন। ওই দিন রাতের অন্ধকারে, ‘অপারেশন সার্চলাইটে’র নামে নিরস্ত্র মানুষের উপর অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায় পাকিস্তানের দখলদারি বাহিনী। শিক্ষক, বিদ্বজন এবং নিরীহ নাগরিকদের উপর জায়গায় জায়গায় নির্বিচারে গুলি চালায় তারা। বহু মানুষকে হত্য়া করে’। 

একেবারে পরিকল্পিত ভাবে, সংগঠিত উপায়ে ওই গণহত্যা চালানো হয় বলেও লেখেন তারেক। তিনি জানান, ওই গণহত্যার রাতেই চট্টগ্রামে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। বিদ্রোহের ঘোষণা হয়। সূচনা ঘটে ন’মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের। তারেকের কথায়, ‘বর্তমান এবং ভবিষ্য়ৎ প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতার মূল্যবোধ এবং গুরুত্ব তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি। ২৫ মার্চের গণহত্যার কথা জানা দরকার সকলের। মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনাকে সামনে রেখে আসুন আত্মত্যাগী শহিদদের শ্রদ্ধা জানাই আমরা, সাম্য, মর্যাদা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করি সমাজে। সবে মিলে ন্যায়পরায়ণ, উন্নত, সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভর এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলি’।

তারেকের এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে বাংলাদেশ নৈরাজ্যের স্বর্গরাজ্য হয়ে ওঠার দিকে এগোচ্ছিল। সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর বাড়ছিল অত্যাচার, ভারতবিদ্বেষী মানসিকতা বাড়ছিল দিন দিন। এমনকি পাকিস্তানের সঙ্গেও সখ্য় তৈরি হচ্ছিল নতুন করে। বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমানের মূর্তি ভাঙা থেকে নোট থেকে তাঁর ছবি সরানো, পাঠ্য়বইয়ে কাটছাঁট দেখে প্রশ্ন উঠছিল, বাংলাদেশ কি মুক্তিযুদ্ধ, পাকিস্তানের বর্বরোচিত আচরণের ইতিহাস ভুলে গেল? কিন্তু এদিন তারেকের পোস্ট দেখে আবার আশার আলো দেখছেন অনেকে।

(Feed Source: abplive.com)