Team India Crickter Explosive Interview: ‘কেউই মেয়ের বিয়ে আমার সঙ্গে দিতে চায়নি’, অবসাদে মদ্যপ হয়ে বাঁচার ইচ্ছাই শেষ! বিস্ফোরক ভারতের চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার

Team India Crickter Explosive Interview: ‘কেউই মেয়ের বিয়ে আমার সঙ্গে দিতে চায়নি’, অবসাদে মদ্যপ হয়ে বাঁচার ইচ্ছাই শেষ! বিস্ফোরক ভারতের চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) শেষ ২৩ বছরের একচোখোমি আর মেনে নিতে পারেননি তিনি। রবি শাস্ত্রীকে (Ravi Shastri) বিসিসিআইয়ের চোখের মণি হিসেবে দেখিয়েই, নিজের ব্রাত্য-উপেক্ষিত থাকার আক্ষেপ তাঁর। সহ্যের সব সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার পরেই নিয়েছেন চরম সিদ্ধান্ত। আইপিএল শুরুর আগেই বিসিসিআই ধারাভাষ্যকার হিসেবে অবসরের নিয়েছেন ভারতের প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন ক্রিকেটার লক্ষ্মণ শিবরামাকৃষ্ণন (Laxman Sivaramakrishnan) ওরফে ‘এলআর’ বা শিবা। আর এবার এক সর্বভারতীয় মিডিয়ায় সাক্ষাৎকারে ভেঙে পড়েছেন তিনি। গায়ের রঙ কালো বলেই জীবন ভয়াবহ দুর্বিষহ হয়ে গিয়েছিল বলেই জানিয়েছেন শিবা

প্রাক্তন স্পিনার বলেন, ‘মানুষ খারাপ কথা ছড়াতে ভালোবাসে। আমার ক্রিকেট ট্যুরগুলি ছিল ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সের মধ্যে। বয়সই হয়নি তখন। হোটেলে লোকজন কীভাবে আমাকে মদ দিতে পারে? আমি জীবনে কখনও ড্রাগস নিইনি। পরে যদিও দু-একবার বিয়ার খেয়েছি। সে কথা আমি অস্বীকার করছি না। কিন্তু একবার ভাবুন তো, মাত্র ১৯ বছর বয়সী কাউকে মদ্যপ বা মাদকাসক্ত হিসেবে দাগানো হচ্ছে! এর মানেই দাঁড়াচ্ছে যে, মানুষ আমার সুনাম এতটাই কলঙ্কিত করেছিল যে, কেউই তাদের মেয়ের বিয়ে আমার সঙ্গে দিতে চাইত না। আমি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। আয়নায় নিজের মুখটাও দেখতে ইচ্ছে করত না। আমি দু-এক পেগ মদ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তাম। কারণ তখন আর কিছুই আমার সহ্য করার ক্ষমতা ছিল না। জেগে থাকলে মনে হত এই বুঝি আমি মরে যাব।’

এমনকী ক্রিকেটারের বাঁচার ইচ্ছাই শেষ হয়ে গিয়েছিল। আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন তিনি। শিবার সংযোজন, ‘মাঝে মাঝে আমরা দুবাই যেতাম। ওখানে গাড়ির গতির কোনও নির্দিষ্ট সীমা নেই। গাড়ি যখন খুব দ্রুত ছুটত, তখন মনের ভিতর থেকে একটা অস্ফুট কণ্ঠ যেন আমাকে বলত, দরজাটা খুলে লাফিয়ে পড়ে যা এবার। তবে কোনও এক অজানা শক্তি বা অনুভূতি আমাকে এরকম বোকামি করা থেকে শেষমেশ বিরত রাখত।’ শিবার মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র হয়েগিয়েছিল যে, তাঁর একসময় হ্যালুসিনেশনও হত।

শিবা বলছেন, ‘চোখ বন্ধ করলে এমন সব দৃশ্য চোখের সামনে ভেসে উঠত, যা কল্পনা করাও অসম্ভব। সবই অত্যন্ত ভীতিকর। আবার চোখ খুললে দেখা যেত, সেখানে আসলে কিছুই নেই। আসলে শরীরটা তখন এতটাই ক্লান্ত ছিল যে, কেবল ঘুমিয়ে পড়তেই ইচ্ছে করত। চোখ বন্ধ করার পরক্ষণেই চোখ খুললে ঘুমটা উধাও হয়ে যেত। প্রতিবারই যেন নিজেকে আরও বেশি করে এক জটিল জালের মধ্যে জড়িয়ে ফেলছিলাম। আর ঠিক সেই মুহূর্তে বাইরের এই পুরো পৃথিবীটা যেন সমস্বরে বলে উঠল, ‘দেখলে তো? আমি তো আগেই বলেছিলাম! এর মূলে রয়েছে ওই মদ্যপানই। আমি তো তোমায় আগেই সতর্ক করেছিলাম!’

ভারতীয় দল থেকে লক্ষ্মণের বিদায়ও ছিল ঠিক ততটাই হতাশাজনক। মিডিয়ার মুখোমুখি হওয়ার সময়ে নির্বাচকরা নাকি তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন, দল থেকে বাদ পড়ার কারণ হিসেবে নিজের ফর্ম বা খেলার মানের পরিবর্তে ফিটনেস’ সংক্রান্ত উদ্বেগের কথাই জানাতে। কিন্তু শিবরামাকৃষ্ণন নির্বাচকদের সেই বয়ানের সঙ্গে তাল মেলাননি। শিব জুড়েছেন, ‘১৯৮৭ সালের বিশ্বকাপ থেকে বাড়ি ফেরার ঠিক পরদিনই তামিলনাড়ুর নির্বাচকরা আমাকে ডেকে পাঠান। তাঁরা আমাকে মিডিয়ার কাছে বলতে বলেছিলেন যে, আমি নাকি আনফিট বা খেলার অযোগ্য। আমি সাফ জানিয়ে দিই—আমি তা করব না। আমি আপনাদের কাজটা এত সহজ করে দেব না। আপনারা যদি চান তাহলে দল থেকে বাদ দিন।’

১৯৮৩ থেকে ১৯৮৭ সালের মধ্যে ৯টি টেস্ট (২৬ উইকেট) এবং ১৬টি ওডিআই (১৫ উইকেট) খেলেছেন শিবা। ১৯৮৫ সালের বেনসন অ্যান্ড হেজেস ওয়ার্ল্ড চ্যাম্পিয়নশিপ অফ ক্রিকেটে তিনি ছিলেন সেরা পারফর্মার। টুর্নামেন্টে তিনি সর্বাধিক উইকেটশিকারি হয়েছিলেন। যার মধ্যে ফাইনালে জাভেদ মিয়াঁদাদের গুরুত্বপূর্ণ আউটটিও ছিল। ১৯৮৭ সালে ক্রিকেটকে গুডবাই বলার পর ধারাভাষ্যকার হিসেবে নতুন ইনিংস শুরু করেন তিনি। আইপিএলের ধারাভাষ্যকার হিসেবে নিয়মিত পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি। তবে কোভিডের সময়ে লকডাউন চলকালীনতাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল।

(Feed Source: zeenews.com)