
রাজীব চক্রবর্তী: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Modi) আগামীকাল, শুক্রবার সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক (to Hold Talks with CMs) করবেন বলে জানা গেল। কী নিয়ে বৈঠক? বড় বিপদ কি সত্যিই কিছু ঘটে গেল? কী ঘটল? ভিড় করছে নানা প্রশ্ন। একদিকে ইরানযুদ্ধ (Iran War), আর একদিকে সেই সূত্রেই বিশ্ব জুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানিসংকট (Fuel Crisis)। এর মধ্যে আবার ভয়ংকর শক্তিশালী এক নতুন কোভিড ভ্যারিয়েন্টের উত্থানের (BA.3.2 A new COVID-19 variant) খবর এল। সবমিলিয়ে বিশ্বপরিস্থিতি খুবই কঠিন হয়ে দাঁডিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই বৈঠকের সংবাদ এল।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের বৈঠক
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগামীকাল, শুক্রবার সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে সন্ধে ৬টা ৩০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলবেন। তবে, যেসব রাজ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, সেই রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে অংশ নেবেন না। পশ্চিম এশিয়ার সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে রাজ্যগুলির প্রস্তুতি ও পরিকল্পনার পর্যালোচনা করা হবে। নির্বাচন চলছে এমন রাজ্যগুলির মুখ্য সচিবদের জন্য পরে একটি পৃথক বৈঠকের আয়োজন করা হবে।
এনার্জি লকডাউন
খুবই শোনা যাচ্ছে এনার্জি লকডাউনের কথা। এনার্জি লকডাউন আর কিছু নয়, জ্বালানিসংকট! জ্বালানিসংকট মোটামুটি সারাবছরেরই ব্যাপার। জ্বালানিসংকট আছে। থাকবেও হয়তো। তবে ইদানীং যুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহে বড় রকম বিঘ্ন ঘটেছে। জ্বানালি না পেয়ে একটা সময় তো দেশে দেশে স্তব্ধ হবে দৈনন্দিন জীবনের চাকা। তেমনটা হলে হয়তো লকডাউন ঘনিয়ে আসবে। জ্বালানিজনিত যে লকডাউন, সেটাই এনার্জি লকডাউন।
বিশ্ব জুড়ে সংকট
স্ট্রেট অফ হরমুজ (Strait of Hormuz)-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাধা আসায় জ্বালানি সরবরাহে বড়সড় প্রভাব পড়েছে। আগামী দিনেও আরও পড়ার প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একে একপ্রকার ‘হার্ড লকডাউন’-এর সঙ্গেই তুলনা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। এমনটা ঘটলে তার কুপ্রভাব পড়বে বিশ্ব জুড়েই। পণ্য আনা-নেওয়ায় তৈরি হবে ঘোর সংকট।
ভারতে
এরই মধ্যে আবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বাস করেন। তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার চিন্তিত। ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ ৭৫ হাজারেরও বেশি ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, যুদ্ধের ফলে তৈরি হওয়া এই বিশ্বময় অস্থিরতা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে। তাই দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে সরকার আগাম পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চাইছে। এমন ইঙ্গিত দিতেই সকলে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
নতুন কোভিড
এর মধ্যেই আবার নতুন বিপদ! ইউনিভার্সিটি অফ মিনেসোটার ‘সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি’ (CIDRAP) এক বার্তায় কোভিডের এক নতুন ভেরিয়েন্টের কথা জানিয়েছে বিশ্বকে। ভেরিয়েন্টেটি অত্যধিক মিউটেটেড বা অতি-পরিবর্তিত। নতুন কোভিড ভ্যারিয়েন্টটির নাম– বিএ.৩.২ (BA.3.2)। জানা গিয়েছে, গত ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের ২৩টি দেশে এই BA.3.2 ভেরিয়েন্টটি শনাক্ত হয়েছে। আতঙ্কের কারণ আছে বৈকি! এই নতুন ভেরিয়েন্টটি আমেরিকার তিনটি বিমানের বর্জ্যজল এবং আমেরিকার ২৫টি অঙ্গরাজ্যের ১৩২টি পয়ঃপ্রণালীর জলে ধরা পড়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
