জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্যকর্তাদের (United States health officials) মতে, দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে কোভিড-১৯-এর এক নতুন ভ্যারিয়েন্ট (BA.3.2 A new COVID-19 variant)! যাকে ‘সিকাডা’ (Cicada) নামে ডাকা হচ্ছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (Centres for Disease Control and Prevention) বা ‘সিডিসি’ (CDC) সাম্প্রতিক এক গবেষণা অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ২৩টি দেশে এই প্রজাতির উপস্থিতির খবর পাওয়া গিয়েছে। সিডিসি (CDC) তাদের সাপ্তাহিক প্রতিবেদন ‘মর্বিডিটি অ্যান্ড মর্টালিটি উইকলি রিপোর্টে’ স্বীকার করেছে, দু’ডজনেরও বেশি রাজ্যে পয়ঃপ্রণালীর জলে (wastewater) এই নতুন ভ্যারিয়েন্ট BA.3.2 শনাক্ত হয়েছে।
কী ঘটছে?
ইউনিভার্সিটি অফ মিনেসোটার ‘সেন্টার ফর ইনফেকশাস ডিজিজ রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি’ (CIDRAP) সোমবার এক সংক্ষিপ্ত বার্তায় কোভিডের এই নতুন ভেরিয়েন্টটিকে অত্যধিক মিউটেটেড বা অতি-পরিবর্তিত হিসেবে বর্ণনা করে। CIDRAP জানিয়েছে, ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের ২৩টি দেশে BA.3.2 ভেরিয়েন্টটি শনাক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা গিয়েছে। সংক্রামক ব্যাধি নজরদারির প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ।
ধরা পড়েছে নমুনায়
এ ছাড়াও, সিডিসি-র (CDC) উদ্ধৃতি দিয়ে CIDRAP ব্যাখ্যা করেছে, এই নতুন ভেরিয়েন্টটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চারজন ভ্রমণকারীর নাকের সোয়াব (nasal swab), পাঁচজন রোগীর ক্লিনিকাল নমুনা, তিনটি বিমানের বর্জ্য জল এবং ২৫টি অঙ্গরাজ্যের ১৩২টি পয়ঃনিষ্কাশন প্রণালীর নমুনায় ধরা পড়েছে।
নিরবচ্ছিন্ন বিবর্তনের ইঙ্গিত
১৯ মার্চের ‘মর্বিডিটি অ্যান্ড মর্টালিটি উইকলি রিপোর্ট’ (MMWR) অনুযায়ী, BA.3.2 প্রথম শনাক্ত হয়েছিল ২০২৪ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায়। পরবর্তী বিশ্লেষণে BA.3.2-এর দুটি উপ-প্রজাতি (BA.3.2.1 এবং BA.3.2.2) শনাক্ত হয়েছে, যা ভাইরাসের নিরবচ্ছিন্ন বিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
কেন এত উদ্বেগ?
গত নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে তিন ইউরোপীয় দেশ–ডেনমার্ক, জার্মানি এবং নেদারল্যান্ডসে শনাক্ত হওয়া সংক্রমণের ৩০% ছিল এই নতুন ভেরিয়েন্ট। যদিও সামগ্রিক সংক্রমণের হার স্থিতিশীল ছিল। BA.3.2 নিয়ে সিডিসি-র বুলেটিনে জানানো হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই ভেরিয়েন্টের প্রথম নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছিল ২৭ জুন। ওই ব্যক্তি নেদারল্যান্ডস ভ্রমণ শেষে সান ফ্রান্সিসকো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছনোর পরে তাঁর শরীরে এটি শনাক্ত হয়।
ভ্যারিয়েন্টের ভিতরের রহস্য
পুরানো JN.1 ভেরিয়েন্টের তুলনায় এই নতুন ভেরিয়েন্টটির স্পাইক প্রোটিনে ৭০ থেকে ৭৫টি পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। এর ফলে আগের সংক্রমণ বা টিকা থেকে তৈরি হওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (immunity) কার্যকর না হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সিডিসি ব্যাখ্যা করেছে, বিষয়টি বিশেষ উদ্বেগের। কারণ, ২০২৫ এবং ২০২৬ সালের mRNA কোভিড ভ্যাকসিনগুলি JN.1 ভেরিয়েন্টের বিরুদ্ধে অনেক বেশি কার্যকর ছিল। কিন্তু ল্যাবরেটরি গবেষণায় দেখা গিয়েছে, সাতটি ভেরিয়েন্টের মধ্যে BA.3.2-র বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি কার্যকারিতা ছিল সর্বনিম্ন।
দ্রুত ছড়ায়
বিশ্ব জুড়ে নজরদারি এবং পরীক্ষার ঘাটতির কারণে এই ভেরিয়েন্টের বিস্তার অনুমানের চেয়েও বেশি হতে পারে বলে সিডিসি সতর্ক করেছে।
কী পদক্ষেপ?
সিডিসি সতর্ক করেছে, কোভিডের এই নতুন ভেরিয়েন্টটি অ্যান্টিবডিকে এড়িয়ে যেতে পারে এবং তারা BA.3.2-এর বিষয়ে কড়া নজরদারি (robust surveillance) চালানোর আহ্বান জানিয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
