শুক্রবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট রায় দিয়েছে যে, কোনো বিবাহিত পুরুষ একজন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার সঙ্গে সম্মতিসূচক লিভ-ইন সম্পর্কে থাকার জন্য কোনওভাবেই অভিযুক্ত হতে পারবেন না।
এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায়ে বিতর্ক
নয়াদিল্লি: ফের বিস্ফোরক রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। শুক্রবার এলাহাবাদ হাইকোর্ট একটি রায়ে জানিয়েছে, কোনও বিবাহিত পুরুষ প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার সঙ্গে সম্মতিসূচক লিভ-ইন সম্পর্কে থাকার জন্য অভিযুক্ত হতে পারবেন না। তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলাও করা যাবে না। ঘটনার জেরে বড়সড় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনাটি কী? উত্তর প্রদেশের শাহজাহানপুরের সম্পর্কে থাকা এক যুগলের দায়ের করা একটি ফৌজদারি রিট পিটিশনের শুনানি করছিল আদালত। এলাহাবাদ হাইকোর্ট ‘নৈতিকতা-র উপর আলোকপাত করে উল্লেখ করেছেন,আইনের দৃষ্টিতে ওই ব্যক্তি আপাতদৃষ্টিতে কোনও অপরাধ করেননি। তার ব্যাখ্য়ায় কোর্ট বলেছে, নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় আদালতের পদক্ষেপ সামাজিক মতামত বা নৈতিকতার দ্বারা নির্ধারিত হতে পারে না। ওই যুগলকে গ্রেফতার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে ওই মহিলা আবেদনকারীর পরিবারের সকল সদস্যকে বলা হয়েছে যেন, দম্পতির কোনও ক্ষতি না হয়। পরবর্তী শুনানি হবে ৮ই এপ্রিল।
আবেদনটি দায়ের করেছিলেন অনামিকা ও নেত্রপাল নামের এক যুগল। ২০২৬ সালের ৮ই জানুয়ারি অনামিকার মা কান্তি শাহজাহানপুরের জৈতিপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগে তিনি বলেন,নেত্রপাল তাঁর মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘প্রলুব্ধ’ করেছিলেন। তারপরেই তাঁরা একসঙ্গে থাকা শুরু করেন। তিনি দাবি করেন, ধর্মপাল নামে আরেক ব্যক্তি এই কাজে তাঁকে সহায়তা করেছিল। সেই অনুযায়ী,ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ৮৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরপরে যুগল আদালতের সুরক্ষা চেয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলাটি চ্যালেঞ্জ করেন। যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে তারা দুজনেই প্রাপ্তবয়স্ক এবং বর্তমানে লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনামিকার মায়ের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয় যে নেত্রপাল একজন বিবাহিত পুরুষ এবং সেই কারণে অন্য এক নারীর সঙ্গে সহবাস করা তার অপরাধ। তবে শুনানির সময় আদালত আবেদনকারী মায়ের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন যে, এমন কোনও ফৌজদারি অপরাধ নেই যার অধীনে নেত্রপালের বিরুদ্ধে মামলা করা যেতে পারে।
(Feed Source: news18.com)