‘ধুরন্ধর’ শুধুই সিনেমা, না প্রোপাগান্ডা? দ্বন্দ্ব উইকিপিডিয়ার অন্দরেও, হস্তক্ষেপ করতে হল স্বয়ং প্রতিষ্ঠাতাকে

‘ধুরন্ধর’ শুধুই সিনেমা, না প্রোপাগান্ডা? দ্বন্দ্ব উইকিপিডিয়ার অন্দরেও, হস্তক্ষেপ করতে হল স্বয়ং প্রতিষ্ঠাতাকে

Dhurandhar Wikipedia Debate: ‘ধুরন্ধর’ শুধুই সিনেমা, না প্রোপাগান্ডা? দ্বন্দ্ব উইকিপিডিয়ার অন্দরেও, হস্তক্ষেপ করতে হল স্বয়ং প্রতিষ্ঠাতাকে

‘ধুরন্ধর’ এবং ‘ধুরন্ধর ২’ নিয়ে বিতর্ক চরমে, দ্বন্দ্ব উইকিপিডিয়ার অন্দরেও।

‘ধুরন্ধর’ বাজিমাত করেছিল আগেই। বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে ‘ধুরন্ধর ২’-ও। সেই নিয়ে দর্শকরা যেমন দ্বিধাবিভক্ত, দ্বন্দ্ব দেখা দিল অনলাইন এনসাইক্লোপিডিয়া Wikipedia-র অন্দরেও।

‘ধুরন্ধর’ এবং ‘ধুরন্ধর ২’ শুধুমাত্র মনোরঞ্জনের উদ্দেশ্য নিয়ে তৈরি ছবি, নাকি সেটি কোনও রাজনৈতিক দলের প্রচারের হাতিয়ার, প্রোপাগান্ডা, সেই নিয়ে বিতর্ক চরমে উঠলে Wikipedia-র দু’টি ছবির পেজই ‘লক’ করে দেওয়া হয়, যাতে যে কেউ ঢুকে রদবদল ঘটাতে না পারেন।

২৮ মার্চ সকাল পর্যন্তও দু’টি ছবির Wikipedia পেজ ‘লকড’ রয়েছে। পাতার ডান দিকে, তালার উপর ইংরেজিতে E লেখা রয়েছে। তার উপর কার্সর নিয়ে গেলে লেখা ফুটে উঠছে যে, ‘এটিডিং নিয়ে বিবাদের জেরে প্রতিবেদনটি সুরক্ষিত রাখা হয়েছে’।

এমনিতে অ্যাকাউন্ট থাকলে যে কেউ Wikipedia-র তথ্যে রদবদল ঘটাতে পারেন। কিন্তু ‘ধুরন্ধর’ এবং ‘ধুরন্ধর ২’-কে ঘিরে বিতর্ক এতই চরমে উঠেছে যে, অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ উঠছে। ইচ্ছাকৃত ভাবে ছবিটিকে প্রোপাগান্ডা বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ একপক্ষের। অন্যপক্ষের দাবি, প্রোপাগান্ডা ছবিকে সিনেমা বলে চালানোর চেষ্টা হচ্ছে।

এমনকি প্রতিবেদনে রদবদল ঘটাতে করার ক্ষেত্রে টাকা ছড়ানোর চেষ্টা চলছে বলে Wikipedia-র তরফেও খবর সামনে আসে। Wikipedia-র এডিটররাও এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। কেউ কেউ ছবিটিকে শুধুমাত্র ‘অ্যাকশন থ্রিলার’ বলার পক্ষপাতী। অন্য একটি অংশ আবার ‘প্রোপাগান্ডা’ শব্দটি ব্যবহার করতে চান।

এ নিয়ে দ্বন্দ্ব এত চরমে পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত Wikipedia-র প্রতিষ্ঠাতা জিমি ওয়েলসকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। আর তাঁর হস্তক্ষেপেই আপাতত, ছবিটিকে সরাসরি ‘প্রোপাগান্ডা’ বলে উল্লেখ করা নেই Wikipedia পেজে।

‘ধুরন্ধর’ এবং ‘ধুরন্ধর ২’কে ঘিরে বিতর্ক গোড়া থেকেই। বেশ কিছু দিন Wikipedia-য় ‘ধুরন্ধর ২’ ছবিটিকে প্রোপাগান্ডা বলেই উল্লেখ করা ছিল। নেহাত মনোরঞ্জনের পরিবর্তে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের মাহাত্ম্য প্রচারে ছবিটিকে ব্য়বহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সমালোচকদের একাংশও।

কিন্তু এর পরই টানাপোড়েন চরমে ওঠে। প্রোপাগান্ডা শব্দ মুছে দেওয়া হয়। এর পর এডিট, পাল্টা এডিট, রীতিমতো যুদ্ধপরিস্থিতি তৈরি হয়। তাতেই হস্তক্ষেপ করতে হয় জিমিকে। তবে ফের ঝামেলা হতে পারে জেনেই ‘ধুরন্ধর’ এবং ‘ধুরন্ধর ২’র Wikipedia পেজ লক করে রাখা হয়েছে।

সাধারণত এই ধরনের পদক্ষেপ করতে হয় না জিমিকে। কিন্তু Wikipedia-র নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই তিনি এগিয় আসেন বলে খবর মিলছে। এডিটরদের সঙ্গে আলোচনায় তিনি জানিয়ে দেন, Wikipedia কোনও পক্ষ নেবে না, বিশেষ করে বিতর্কিত বিষয় নিয়ে।

এই মুহূর্তে Wikipedia-য় ‘ধুরন্ধর ২’ ছবির ব্যাখ্যা রয়েছে এই মর্মে- ‘ধুরন্ধর: দ্য রিভেঞ্জ ২০২৬ সালের একটি হিন্দি ভাষার, স্পাই অ্যাকশন থ্রিলার ছবি, যেটি লিখেছেন এবং পরিচালনা করেছেন আদিত্য ধর’। তবে সমালোচকরা যে ছবিটিকে প্রোপাগান্ডা বলে উল্লেখ করেছেন, তারও উল্লেখ রয়েছে ভিতরের অংশে।

(Feed Source: abplive.com)