Iran’s Nuclear sites and steel plants attacked: ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে যুদ্ধক্লান্ত ইসরায়েলের মরণকামড়: ঝলসে গেল সব, বীভত্‍স পরিস্থিতিতে এবার মহাযুদ্ধ?

Iran’s Nuclear sites and steel plants attacked: ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে যুদ্ধক্লান্ত ইসরায়েলের মরণকামড়: ঝলসে গেল সব, বীভত্‍স পরিস্থিতিতে এবার মহাযুদ্ধ?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে রণক্ষেত্র। দীর্ঘদিনের ছায়াযুদ্ধ ছাপিয়ে সরাসরি সংঘাতে লিপ্ত ইরান ও ইসরায়েল। এই উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার রাতে ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইরানের পরমাণুকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু ইস্পাত কারখানা। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি হুশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইসরায়েলকে এই ‘অপরাধের’ জন্য ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।

হামলার লক্ষ্য ও ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে যে, তাদের বিমান বাহিনী ইরানের অন্তত দুটি পরমাণুকেন্দ্রে নির্দিষ্ট হামলা চালিয়েছে।

আরাক হেভি ওয়াটার প্ল্যান্ট: মধ্য ইরানের খন্দাব এলাকায় অবস্থিত এই বিল্ডিংটি মূলত পরমাণু গবেষণার কাজে ব্যবহৃত হয়। ইসরায়েলের দাবি, ইরান এখানে গোপনে অস্ত্র তৈরির উপযোগী প্লুটোনিয়াম তৈরির চেষ্টা করছিল।

ইয়াজদ ইউরেনিয়াম নিষ্কাশন কেন্দ্র: ইয়াজদ প্রদেশের আরদাকান এলাকায় অবস্থিত এই কেন্দ্রটি ইরানের একমাত্র ইয়েলো কেক (Yellowcake) উৎপাদন কেন্দ্র। এটি পরমাণু জ্বালানি তৈরির প্রাথমিক ধাপের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ইস্পাত কারখানা: ইসফাহানের মোবারাকেহ স্টিল কোম্পানি এবং খুজেস্তানের স্টিল ফ্যাক্টরিতেও হামলা চালানো হয়েছে। এই কারখানাগুলো ইরানের অর্থনীতির মেরুদণ্ড এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) আয়ের অন্যতম উৎস বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।

আব্বাস আরাঘচির কড়া প্রতিক্রিয়া 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘ইসরায়েল ইরানের দুটি বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। তারা দাবি করছে এই আক্রমণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই হয়েছে। এই হামলা মার্কিন প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক সময়সীমার (Extended Deadline) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান এই ইসরায়েলি অপরাধের জন্য কঠিন এবং ভারী মূল্য (HEAVY price) আদায় করবেই।’ আরাঘাচির এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান যে বড় ধরনের পাল্টা হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি: 

সবচেয়ে নাটকীয় বিষয় হল,  যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের জ্বালানি ও তেল উত্‍পাদন ক্ষেত্রগুলোর ওপর হামলা ১০ দিনের জন্য হামলা স্থগিত করার ঘোষণা করেছিলেন। ট্রাম্পের দাবি ছিল, তেহরানের সাথে শান্তি আলোচনা ‘খুব ভালো’ চলছে। কিন্তু ইসরায়েলের এই আকস্মিক হামলা সেই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল হয়তো ট্রাম্পের এই আলোচনার টেবিল উল্টে দেওয়ার জন্যই তাদের কৌশলগত হামলা জোরদার করেছে।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও পরমাণু দুর্ঘটনার ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এই হামলার পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি উভয় পক্ষকে সামরিক সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন যাতে কোনো ধরনের পরমাণু দুর্ঘটনা না ঘটে। যদিও ইরান দাবি করেছে যে, হামলায় কোনও তেজস্ক্রিয়তা ছড়িয়ে পড়েনি বা কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিশ্বের নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের চিন্তায় ফেলেছে।

ইরানের ইস্পাত শিল্পে এই হামলার ফলে দেশের অর্থনীতি বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পরমাণু কেন্দ্রে আঘাতের ফলে ইরান এখন তাদের ‘পরমাণু নীতি’ পরিবর্তনেরও হুমকি দিতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে যেখানে একটি সামান্য ভুল পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে এক মহাযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয়, ইরান ঠিক কীভাবে এবং কখন এই হামলার ‘মূল্য’ আদায় করে।

(Feed Source: zeenews.com)