Iran-Israel-Us War: মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে ইউএসএস ত্রিপোলি-৩৫০০ মেরিন-এফ ৩৫ ফাইটার, ইরানে এবার স্থল অভিযান ট্রাম্পের

Iran-Israel-Us War: মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে ইউএসএস ত্রিপোলি-৩৫০০ মেরিন-এফ ৩৫ ফাইটার, ইরানে এবার স্থল অভিযান ট্রাম্পের

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কয়েকদিনেই ইরানকে ঠুঁসে দেব। ডেনাল্ড ট্রাম্পের সেই তড়পানি এখন অতীত। প্রায় একমাস হয়ে গেল ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ। ইরানি মিসাইলের গুঁতোয় মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিম এসিয়ায় সব মার্কিন ঘাঁটিতে নাভিশ্বাস উঠেছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়ে  গোটা বিশ্বে এখন তেলের জোগানে ক্রাইসিস তৈরি করে দিয়েছে ইরান। ফলে এর চাপ পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এরকম এক পরিস্থিতিতে ইরানে স্থল অভিযান করতে চলেছেন আমেরিকা।

ইতিমধ্যেই মধ্য প্রাচ্যে সাড় তিন হাজার সেনা পাঠাচ্ছে আমেরিকা। রাজনৈতিক মহলের অনুমান ইরানে আমেরিকার সেনা অভিযান কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে। তাদের টার্গেটে রয়েছে খার্গ দ্বীপ দখল করা, হরমুজ প্রণালীর কাছের কিছু অঞ্চল দখল করা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অঞ্চলে স্পেশাল মিলিটারি অপারেশন চালাতে চলেছে পেন্টাগন।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের খার্গ দ্বীপ দখল এবং হরমুজ প্রণালীর নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকাগুলোতে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে। এই অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো—বাণিজ্যিক ও সামরিক জাহাজে হামলা চালাতে পারে এমন সব অস্ত্র খুঁজে বের করা এবং সেগুলো ধ্বংস করা।

পত্রিকাটি জানিয়েছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই অভিযান শেষ করতে কয়েক মাস নয়, বরং মাত্র “কয়েক সপ্তাহ” সময় লাগবে। তবে তারা এও যোগ করেছে যে, অভিযানের সবকটি লক্ষ্য পুরোপুরি অর্জন করতে সম্ভবত “কয়েক মাস” লেগে যেতে পারে। মার্কিন সামরিক পরিকল্পনার সাথে যুক্ত একজন ঊর্ধ্বতন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এটি কোনো “শেষ মুহূর্তের পরিকল্পনা” নয়। বরং এই অভিযানগুলো নিয়ে আগে থেকেই বিচার-বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং মহড়াও দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়।

কতটা ঝুঁকিপূর্ণ এই অভিযান

খার্গ দ্বীপ ও হরমুজ প্রণালীর উপকূলীয় এলাকা দখল এবং জাহাজ বিধ্বংসী অস্ত্র ধ্বংস করা হলে ইরান সরকার বেকায়দায় পড়বে।  এর ফলে ভবিষ্যতে ইরান আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য হবে। তবে এই অভিযান একেবারেই সহজ নয় এলাকার ভৌগলিক কারণে। মার্কিন সেনাদের কথায়, খার্গ দ্বীপে অবস্থানরত সেনাদের সুরক্ষা দেওয়াই আসল কঠিন কাজ। দ্বীপটি দখল করা সহজ, কিন্তু সেখানে নামার পর নিজের লোকদের নিরাপদ রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ।

মার্কিন রণসজ্জা

২৬শে মার্চের একটি চিঠিতে মার্কিন মেরিন কোর রিজার্ভের কমান্ডার সেনাদের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি তাদের শারীরিক ও মানসিকভাবে তৈরি থাকতে, সরঞ্জাম গুছিয়ে নিতে এবং ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব মিটিয়ে ফেলতে বলেছেন, কারণ যেকোনো মুহূর্তে তাদের তলব করা হতে পারে।

এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক শক্তি আরও বাড়ানো হয়েছে। সেখানে পৌঁছেছে উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’, যাতে প্রায় ৩,৫০০ মেরিন ও নৌসেনা রয়েছে। ২৭শে মার্চ জাহাজটি ওই এলাকায় প্রবেশ করে। এতে সি-হক হেলিকপ্টার, অস্প্রে বিমান, এফ-৩৫ ফাইটার জেট এবং বিশেষ হামলাকারী ইউনিট রয়েছে। এর আগে এটি জাপানে অবস্থান করছিল।

বর্তমানে ওই অঞ্চলে আমেরিকার প্রায় ৫০,০০০ সেনা এবং দুটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ রয়েছে, যা গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। তবে নতুন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ অগ্নিকাণ্ডের কারণে সাময়িক মেরামতের জন্য ইউরোপে পাঠানো হয়েছে।

এই সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে পা দেওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ইরান বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ সরবরাহের পথ ‘হরমুজ প্রণালী’ বন্ধ করে দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত পত্রিকা ‘তেহরান টাইমস’ তাদের প্রথম পাতায় ওয়াশিংটনকে উদ্দেশ্য করে “নরকে স্বাগতম” শিরোনামে একটি সতর্কবার্তা ছাপিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো মার্কিন সেনা ইরানের মাটিতে পা রাখলে তারা কেবল কফিনবন্দি হয়েই ফিরবে। ইরান দাবি করেছে, তাদের হয়ে লড়াই করার জন্য ইতিমধ্যে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে নাম লিখিয়েছে।

(Feed Source: zeenews.com)