জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: দেখতে দেখতে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়র লিগ ( Indian Premier League ) ১৮ পেরিয়ে ১৯-এ পা দিল। ২৮ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে লিগের উনিশতম সংস্করণ (IPL 2026)। ২০০৮ সালে পথচলা শুরু হয়েছিল যে লিগের তা আজ বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক টি-২০ লিগ। যে লিগের টিম স্পনসরশিপ রেভিনিউ ১০০০ কোটির মাইলস্টোন ছুঁয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ১৫ হাজার-১৬ হাজার কোটি টাকায় দলের মালিকানা হস্তান্তর হচ্ছে! মানে বিলিয়নে বাজারদরের মূল্যায়ন। সেখানে এই প্রবল বাণিজ্যিক বিস্ফোরণের আগে কেমন ছিল আইপিএল? ১০০ মিলিয়ন, মানে ১০ কোটির কম বিনিয়োগ করেই ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিকানা পাওয়া গিয়েছিল। আইপিএলের সেকাল আর একাল তুলে ধরতে ললিত মোদী একটি গ্রাফিক্স চার্ট পোস্ট করেছেন তাঁর এক্স হ্যান্ডেল। আইপিএলের জনক তখা প্রাক্তন কমিশনারের সেই পোস্টের পরেই একাধিক তথ্য সামনে এসেছে। ফের চর্চায় পঞ্জাবের মালকিন প্রীতি জিন্টা (Preity Zinta)
প্রীতির ৭৬ মিলিয়নের আবেশ
কাব্য মারান, অনন্যা বিড়লাদের অনেক আগেই প্রীতির উজ্জ্বল উপস্থিতি ছিল লিগের সঙ্গে। আজ পঞ্জাব কিংসের কো-ওনার প্রীতি। আইপিএলের গ্ল্যামারের সঙ্গে যে নাম সমার্থক। সেই লিগের জন্মলগ্ন থেকে তিনি। আজ প্রীতির আনুমানিক মোট সম্পদের পরিমাণই প্রায় ১৮৩ কোটি টাকা। তবে প্রীতি কিন্তু পঞ্জাব ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতেই চাননি। প্রীতির সবার আগে টার্গেট ছিল মায়ানগরী মুম্বই এবং দিল্লি। এই দুই দলই কিনতে চেয়েছিলেন তিনি। প্রীতি, নেস ওয়াদিয়া ও মোহিত বর্মণ মিলে ৭৬ মিলিয়ন ডলার দর দিয়েছিল মোহালি (অধুনা পঞ্জাব কিংসের তখন নাম ছিল কিংস ইলেভেন পঞ্জাব), মুম্বই-দিল্লি এবং জয়পুরের জন্য। ২৪ জানুয়ারি ২০০৮, সন-তারিখ কখনই ভুলবেন না প্রীতি। সেদিন দুপুর ১২টা থেকে মুম্বই ক্রিকেট সেন্টারে শুরু হয়েছিল দল নেওয়ার জন্য দর হাঁকানোর পর্ব।

একসঙ্গে প্রীতির একাধিক বাসনা
৭৬ মিলিয়ন ডলারই ছিল প্রীতিদের আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি নেওয়ার বাজেট। দিল্লি ও মোহালির জন্য প্রায় একই অঙ্কের দরপত্র জমা দিয়েছিলেন তিনি। তবে দিল্লির বিডিংয়ের ক্ষেত্রে, জিএমআর গ্রুপ ৮৪ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দেওয়ায় প্রীতি পিছিয়ে যান। তবে মোহালির ক্ষেত্রে ছবিটা ছিল একেবারেই আলাদা। ৭৬ মিলিয়ন ডলারের দরই সেখানে সর্বোচ্চ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এই ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রীতিদের হয়ে যায়। মোহালি নেওয়ার দৌড়ে অনিল আম্বানির এডিএজি গোষ্ঠীকে বড় ব্যবধানে হারান প্রীতি। কারণ অনিলের প্রতিনিধিরা ৫৬.৭ মিলিয়ন ডলার বিড করেছিল, সেখানে প্রীতির আক্রমণাত্মক দরই শেষ পর্যন্ত গেম-চেঞ্জার হয়েছিল। অনিলকে হারানো প্রীতি সেদিন আটকে যান মুকেশ আম্বানির কাছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান ও এমডি ১১১.৯ মিলিয়ন ডলারে মুম্বইকে কিনে নেয়। অত টাকায় মুম্বইকে নিতে আর কেউ আগ্রহী হননি।
চওড়া কপাল ছিল শাহরুখ খানের
কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নিতে শাহরুখ খানের দেওয়া ৭৫.০৯ মিলিয়ন ডলারের দরটিই ছিল মাস্টারক্লাস। আম্বানি কিংবা মালিয়া গোষ্ঠীর মতো তিনি অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করেননি। বরং ঠিক ততটুকুই দর হেঁকেছিলেন, যা দিয়ে প্রতিযোগিতায় থাকা অন্য দলগুলিকে দৌড় থেকে ছিটকে দিতে পেরেছিল। নথিপত্র ঘেঁটে দেখা যায় যে, কলকাতার জন্য অন্য কেউই খুব একটা জোরদার লড়াইয়ে যাননি। কারণ অধিকাংশ বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীই মুম্বই ও দিল্লির মতো টিয়ার ওয়ান শহরের আভিজাত্য ও মর্যাদার মোহে আচ্ছন্ন ছিল। এই লিগের দলগুলির মধ্যে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন মূল্যে শাহরুখ খান বিশ্বের অন্যতম এক নিবেদিতপ্রাণ ভক্তগোষ্ঠীকে নিজের করে নিয়েছিলেন। যা আজও শাহরুখের প্রাপ্তি…
(Feed Source: zeenews.com)
