অয়ন শর্মা: অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুতে এবার সামনে এল হাড়হিম করা তথ্য। ওড়িশার তালসারিতে শুটিং করতে গিয়ে গত রবিবার অভিনেতা জলে ডুবে প্রাণ হারান। সোমবার তাঁর ময়নাতদন্তের যে প্রাথমিক তথ্য সামনে এসেছে, তা টলিপাড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড়সড় কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিল। চিকিৎসকদের অনুমান, রাহুল কয়েক মিনিট নয়, বরং এক ঘণ্টারও বেশি সময় জলের তলায় নিমজ্জিত ছিলেন।
ময়নাতদন্তে কী কী উঠে এল?
রাহুলের মরদেহ পরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর ফুসফুসের অবস্থা স্বাভাবিক ছিল না।
ফুসফুস ও শ্বাসনালীতে বালি: অভিনেতার ফুসফুস ফুলে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। ফুসফুস ও খাদ্যনালীর গভীরে অস্বাভাবিক পরিমাণে বালি এবং নোনা জল মিলেছে।
দীর্ঘ সময় নিমজ্জন: চিকিৎসকদের মতে, সামান্য সময় জলে ডুবে থাকলে ফুসফুসের ভেতর এত পরিমাণ বালি ঢোকা সম্ভব নয়। এটি প্রমাণ করে যে, তিনি দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় ছিলেন।
অ্যালকোহল পরীক্ষা: মৃত্যুর আগে শরীরে কোনো অ্যালকোহল বা অন্য কোনো পদার্থের উপস্থিতি ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে ‘ভিসেরা’ (Viscera) সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার রিপোর্ট এলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
গাফিলতি নাকি ষড়যন্ত্র? ময়নাতদন্তের এই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই প্রশ্ন উঠছে—ইউনিট মেম্বাররা তবে কী করছিলেন? যদি ১ ঘণ্টার বেশি সময় রাহুল নিখোঁজ থাকতেন, তবে কেন তখনি উদ্ধারকাজ শুরু হলো না? সহ-অভিনেত্রী শ্বেতাকে উদ্ধার করা গেলে রাহুল কেন অলক্ষ্যে রয়ে গেলেন?
অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী, রূপাঞ্জনা মিত্র আগেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছিলেন। পরিচালক পারমিতা মুন্সীর করা প্রশ্নগুলো এখন আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে। শুটিং স্পটে কোনো পেশাদার ডুবুরি বা স্পিড বোট কেন ছিল না? ড্রোন শটের নেশায় কি তবে একজন প্রতিভাবান অভিনেতার জীবনের নিরাপত্তা তুচ্ছ হয়ে গেল?
প্রিয়াঙ্কা সরকারের প্রিয় বন্ধু ও ছোট্ট সহজের বাবা রাহুল ছিলেন একজন ধারালো লেখক এবং দক্ষ অভিনেতা। তাঁর পরিচালনায় প্রথম ছবি মুক্তি পাওয়ার আগেই এই অকাল প্রয়াণ টলিউডের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আর্টিস্ট ফোরাম শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে, রাহুলের সৃষ্টিশীলতা চিরকাল অমর হয়ে থাকবে। কিন্তু পরিবারের দাবি এবং সহকর্মীদের সম্মিলিত চিৎকার এখন একটাই—এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাই।
(Feed Source: zeenews.com)
