High Court: শ্বশুর-শাশুড়ির ‘দায়িত্ব’ নিতে বাধ্য় নয় ছেলের বউ! আইনি দিক ব্যাখ্য়া করে রায় দিল ইলাহাবাদ হাইকোর্ট

High Court: শ্বশুর-শাশুড়ির ‘দায়িত্ব’ নিতে বাধ্য় নয় ছেলের বউ! আইনি দিক ব্যাখ্য়া করে রায় দিল ইলাহাবাদ হাইকোর্ট

Allahabad High Court: পুত্রবধূর স্থায়ী আয় থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধ শ্বশুরশাশুড়ির দেখাশোনা করে না বলে অভিযোগ৷ আদালতে বৃদ্ধ দম্পতি জানিয়েছিলেন, তাঁদের বয়স হয়েছে এবং রোজগার করার মতো শরীর এবং শিক্ষা কোনওটাই তাঁদের নেই৷

শ্বশুর শাশুড়ির দেখাশোনা করার, তাঁদের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে তাঁদের পুত্রবধূরা আইনগত ভাবে বাধ্য নন৷ নৈতিকতার প্রশ্নে বিষয়টি বিবেচনাধীন হলেও শ্বশুরশ্বাশুড়িকে দেখার জন্য আইনি ভাবে বাধ্য করা সম্ভব নয় পুত্রবধূকে৷ একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে বিষয়টির আইনি দিক স্পষ্ট করল ইলাহাবাদ হাইকোর্ট৷

High Court: শ্বশুর-শাশুড়ির ‘দায়িত্ব’ নিতে বাধ্য় নয় ছেলের বউ! আইনি দিক ব্যাখ্য়া করে রায় দিল ইলাহাবাদ হাইকোর্ট

ছেলে ছিলেন উত্তর প্রদেশ পুলিশের কনস্টেবল৷ ২০১৬ সালে তাঁর বিয়েও দিয়েছিলেন বৃদ্ধ দম্পতি৷ কিন্তু, সুখ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি৷ ২০২১ সালে হঠাৎ মারা যায় তাঁদের ছেলে৷ নিয়ম অনুযায়ী, ছেলের কনস্টেবলের চাকরি পায় তাঁর স্ত্রী৷ কিন্তু, ওই দম্পতির অভিযোগ, তাঁরা বৃদ্ধ হলেও তাঁদের পুত্রবধূ আর তাঁদের দেখাশোনা করে না, ভরণপোষণের দায়িত্ব নেয় না৷

গত বছর অগাস্টে ফ্যামিলি কোর্টে বিষয়টি নিয়ে আবেদন জানানো হলেও, রায় বিপক্ষে গিয়েছিল ওই প্রবীণ দম্পতির৷ তারপরে তাঁরা এলাহাবাদ হাইকোর্টে ফের পুত্রবধূর কাছ থেকে ভরণপোষণ পাওয়ার আবেদন করেন৷

দম্পতির দাবি ছিল, তাদের পুত্রবধূও একজন কনস্টেবল এবং তাঁর স্থায়ী আয় রয়েছে। পাশাপাশি স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি কিছু আর্থিক সুবিধাও পেয়েছেন। তাই তাঁদের মতে, পুত্রবধূর নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে শ্বশুর-শাশুড়ির দেখভাল করার। তারা দাবি করেন, তাঁরা বৃদ্ধ, অশিক্ষিত এবং ছেলের আয়ের উপরে নির্ভরশীল ছিলেন।

তবে পুত্রবধূর আইনজীবী জানান, পারিবারিক আদালত ইতিমধ্যেই এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে আবেদন খারিজ করেছে, তাই নতুন করে হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

এদিনের রায়ে বিচারপতি Madan Pal Singh বলেন, আইন প্রণেতারা ইচ্ছাকৃতভাবেই এই ধারার মধ্যে শ্বশুর-শাশুড়িকে অন্তর্ভুক্ত করেননি। ফলে পুত্রবধূর ওপর তাদের ভরণপোষণের আইনি দায় চাপানো যায় না। হাইকোর্ট ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৪৪ ধারার আইনি বিধানগুলো খতিয়ে দেখেছে, যা আদালতকে কোনও ব্যক্তিকে তাঁর স্বামী বা স্ত্রী, সন্তান এবং পিতামাতার মতো নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ প্রদানের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা দেয়। তবে, আদালত উল্লেখ করেছে যে, শ্বশুর-শাশুড়ি এই আইনের অন্তর্ভুক্ত নন।

সবশেষে আদালত স্পষ্ট করে দেয়, নৈতিক দায়িত্ব যতই গুরুত্বপূর্ণ মনে হোক না কেন, আইনে উল্লেখ না থাকলে তা বলবৎ করা যায় না। তাই শুধুমাত্র আইনে যাঁদের নাম উল্লেখ রয়েছে, তাঁরাই ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন। এই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে হাইকোর্ট আগের পারিবারিক আদালতের রায় বহাল রেখে বৃদ্ধ দম্পতির আবেদন খারিজ করে দেয়।

(Feed Source: news18.com)