Indian Stock market massive fall: ১ ডলার কিনতে লাগছে ৯৫ টাকা, রোজ রক্তাক্ত শেয়ারবাজার — ২০০৮-এর মতো বিপর্যয় আসছে ভারতে?

Indian Stock market massive fall: ১ ডলার কিনতে লাগছে ৯৫ টাকা, রোজ রক্তাক্ত শেয়ারবাজার — ২০০৮-এর মতো বিপর্যয় আসছে ভারতে?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সোমবার বললেন,টাকার পরিস্থিতি ঠিকঠাকই আছে। অর্থনীতিও স্বাস্থ্যবান। কিন্তু সংখ্যাগুলো বলছে, অন্য কথা।

২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত শুরুর পর থেকে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকার দাম কমেছে ৪ শতাংশেরও বেশি। ২৭ মার্চ বন্ধের বাজারে এক ডলার = ৯৫ টাকার কাছাকাছি। BSE সেনসেক্স একই সময়ে নেমেছে ১১ শতাংশ, NSE নিফটি ১০.৫ শতাংশ।

তেলই আসল সমস্যা

সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। ব্রেন্ট ক্রুড যখন যুদ্ধ শুরু হয়, তখন ব্যারেলপ্রতি ছিল ৬৫-৭০ ডলার। এখন তা উঠেছে ১১৫-১১৬ ডলারে। ভারত তার মোট তেলের চাহিদার ৯০ শতাংশই আমদানি করে। ফলে তেল যত চড়ে, টাকার উপর চাপ তত বাড়ে, আমদানি বিল তত ফোলে।

বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বেরিয়ে যাচ্ছেন

সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে এখন পর্যন্ত বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা (FPI) ভারতীয় বাজার থেকে তুলে নিয়েছেন প্রায় ৪,২০০ কোটি ডলার (প্রায় ৩.৯৯ লক্ষ কোটি টাকা)। শুধু সংঘাত শুরুর পর থেকেই বিক্রি হয়েছে ১২.৩ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার। BSE-তে মোট বাজার মূলধন কমেছে ৪৭ লক্ষ কোটি টাকা।

গোল্ডম্যান স্যাকস (Goldman Sachs)-এর ডাউনগ্রেড

বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগ ব্যাঙ্ক গোল্ডম্যান স্যাকস (Goldman Sachs) ভারতীয় শেয়ারকে ‘ওভারওয়েট’ থেকে ‘নিউট্রাল’-এ নামিয়েছে। নিফটি ৫০-এর লক্ষ্যমাত্রা ২৯,৩০০ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ২৫,৯০০। ২০২৬ সালে ভারতের GDP বৃদ্ধির পূর্বাভাস নামানো হয়েছে ৭ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশের নীচে। গাড়ি, ভোগ্যপণ্য-সহ দেশীয় বাজারনির্ভর শিল্পগুলো সবচেয়ে বেশি মার খাবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

বার্নস্টাইন (Bernstein)-এর সবচেয়ে কড়া সতর্কতা

গবেষণা সংস্থা বার্নস্টাইন (Bernstein) তাদের সাম্প্রতিক রিপোর্টে সরাসরি ২০০৮-এর বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সঙ্গে তুলনা টেনেছে। সংস্থাটি বলছে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে মুদ্রাস্ফীতি ছাড়াতে পারে ৬ শতাংশ, GDP বৃদ্ধির হার নামতে পারে ২-৩ শতাংশে, এবং টাকার দাম পৌঁছতে পারে ১০০-র ওপারে। নিফটি ১৯,০০০-এ নামার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়নি তারা।

রঘুরাম রাজন বলছেন, বিপদ সত্যিকারের

RBI-এর প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন এই পরিস্থিতিতে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সংঘাত দীর্ঘ হলে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে — এবং সেই ধাক্কা শুধু এশিয়ায় নয়, আমেরিকাসহ গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। ‘যুদ্ধ যদি কয়েক মাস নয়, কয়েক সপ্তাহেও শেষ হয়, ক্ষতি ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য হয়ে গেছে’— বলেছেন রাজন।

হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বের মোট শক্তি সরবরাহের ১৫-২০ শতাংশ আটকে গেছে বলে রাজন উল্লেখ করেন। এই পরিমাণ সরবরাহ মেটাতে চাহিদা এতটাই কমাতে হবে যে তেলের দাম ২০০ ডলারে পৌঁছনো অস্বাভাবিক নয় বলে তিনি সতর্ক করেছেন। এর সঙ্গে যুক্ত হবে উচ্চ সুদের হার এবং মুদ্রাস্ফীতির চাপ — যাকে রাজন বলছেন ‘স্ট্যাগফ্লেশনারি’ পরিস্থিতি।

রিটেল বিনিয়োগকারীরা সবচেয়ে বিপদে

মুম্বাই-ভিত্তিক ব্রোকারেজ হাউস সিস্টেমাটিক্স গ্রুপ (Systematix Group)-এর রিপোর্ট বলছে, প্রায় ৪০০টি শেয়ার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে তার মধ্যে ৬৩ শতাংশই নেতিবাচক রিটার্ন দিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া ও ‘ফিনফ্লুয়েন্সার’-দের প্রভাবে যাঁরা বাজারে এসেছিলেন, তাঁদের লোকসান সবচেয়ে বেশি।

পরিস্থিতি কোথায় যাচ্ছে

সরকার বলছে উদ্বেগের কারণ নেই। অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী জানিয়েছেন, সরকার ও RBI পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। ইতিমধ্যে পেট্রল ও ডিজেলে শুল্ক কমানো হয়েছে, যাতে দাম কিছুটা লাগামে থাকে।

কিন্তু রাজন থেকে গোল্ডম্যান স্যাকস — সকলেই বলছেন, হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকলে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ভারতের সামনে যে ঝড় আসছে, তা ২০০৮-এর চেয়ে কম নয়।

এক্কেবারে ২০০৮ সালের পুনরাবৃ্ত্তি হবে কি না, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। কিন্তু সংকেতগুলো উপেক্ষা করার আপাতত আর কোনও জায়গায় নেই।

(Feed Source: zeenews.com)