LED Tube Light vs Normal Tube Light: LED সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে কিন্তু টিউবলাইট কেন সময় নেয়? আগে মিটমিট করে তারপর হয় অন, জানুন ৫ সেকেন্ডের পুরো বিজ্ঞান

LED Tube Light vs Normal Tube Light: LED সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে কিন্তু টিউবলাইট কেন সময় নেয়? আগে মিটমিট করে তারপর হয় অন, জানুন ৫ সেকেন্ডের পুরো বিজ্ঞান
LED Tube Light vs Normal Tube Light: আপনার টিউবলাইট কি সুইচ অন করতেই সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে না এবং আগে মিটমিট করে? এর পিছনের আসল কারণ জানুন— স্টার্টার ও গ্যাস আয়নাইজেশনের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া। সঙ্গে বুঝে নিন কেন LED লাইটে এই সমস্যা হয় না এবং কখন টিউব বদলানো উচিত
প্রযুক্তির ক্ষেত্র বর্তমান সময়ে এসে বেশ বিস্ময়কর ভাবে আলোকিত বললে ভুল হবে না! একটা সময় ছিল যখন বৈদ্যুতিক আলোর প্রসঙ্গ উঠলে হলুদ আলোর বাল্ব ছাড়া আর কোনও বিকল্প ছিল না। তার পর এল সাদা আলো নিয়ে টিউবলাইট!
সেই টিউবলাইটেরও অনেক বিবর্তন হয়েছে সন্দেহ নেই, তবে পুরনো প্রযুক্তির টিউবলাইট একেবারে হারিয়েও যায়নি। আমাদের অনেকের বাড়িতেই এখনও সেই পুরনো টিউবলাইট (ফ্লুরোসেন্ট টিউব) আছে। সুইচ চাপলে এটি সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠে না। এটি অল্প কিছুক্ষণ মিটমিট করে জ্বলে, তারপর পুরোপুরি জ্বলে উঠতে ২-৫ সেকেন্ড সময় নেয়। এই বিলম্ব কেন হয়?
LED Tube Light vs Normal Tube Light: LED সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে কিন্তু টিউবলাইট কেন সময় নেয়? আগে মিটমিট করে তারপর হয় অন, জানুন ৫ সেকেন্ডের পুরো বিজ্ঞান

যখন আমরা সুইচ অন করি, তখন বিদ্যুৎ আসে। কিন্তু এই গ্যাস এত সহজে আলো উৎপন্ন করে না। আলো উৎপন্ন করার জন্য, গ্যাসটিকে প্রথমে ‘উত্তপ্ত’ এবং ‘উত্তেজিত’ করতে হয়। অর্থাৎ, গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুৎ প্রবাহের জন্য একটি পথ তৈরি করতে হয়। এর জন্য খুব উচ্চ ভোল্টেজ প্রয়োজন, যা বাড়ির ২২০ ভোল্টের বিদ্যুৎ থেকে সরাসরি পাওয়া যায় না। এখানেই স্টার্টার নামক একটি ছোট যন্ত্রাংশ কাজে আসে। স্টার্টার হল টিউবের কাছে লাগানো একটি ছোট সিলিন্ডারের মতো অংশ। এতে একটি ছোট বাল্ব এবং একটি বিশেষ সুইচ থাকে। যখন সুইচ অন করা হয়, প্রথমে, বিদ্যুৎ স্টার্টারের মধ্য দিয়ে টিউবের দুই প্রান্তের তারে (ফিলামেন্ট) যায়।

এর পর এই তারগুলো গরম হয়ে ওঠে। গরম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এগুলো থেকে ইলেকট্রন নির্গত হয়। স্টার্টারের ভেতরের একটি ছোট বাল্ব জ্বলে ওঠে, যা স্টার্টার সুইচটিকে গরম করে বন্ধ করে দেয়। এর ফলে তারগুলোতে আরও বেশি বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয়, যা সেগুলোকে আরও বেশি গরম করে তোলে।

তারপর, যখন স্টার্টারটি ঠান্ডা হয়ে যায়, তখন সুইচটি হঠাৎ খুলে যায়। এই খুলে যাওয়ার ফলে চোকের (টিউবের ভেতরে থাকা আরেকটি অংশ) মধ্যে দিয়ে অত্যন্ত উচ্চ ভোল্টেজের একটি প্রবাহ সৃষ্টি হয়— যা শত শত ভোল্ট পর্যন্ত হতে পারে!

এই অভিঘাত গ্যাসটিকে আয়নিত করে, যার ফলে এর মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ প্রবাহের পথ তৈরি হয়। গ্যাসটি জ্বলজ্বল করতে শুরু করে এবং অতিবেগুনি রশ্মি নির্গত করে। এই রশ্মিগুলো ফসফরের উপর পড়ে সাদা আলো উৎপন্ন করে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটিতে ২-৫ সেকেন্ড সময় লাগে। এই সময়ে, স্টার্টারটি বার বার চেষ্টা করতে থাকায় টিউবটি মিটমিট করে জ্বলতে থাকে। গ্যাস পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকলে আলোটি স্থির থাকবে না। গ্যাস পুরোপুরি জ্বলে উঠলে, বিদ্যুৎ সরাসরি টিউবের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়, ফলে স্টার্টারের আর কোনও ভূমিকা থাকে না।

স্টার্টারটি অন ও অফ হওয়ার কারণে আলোটি মিটমিট করে জ্বলে। তারগুলো বার বার গরম ও ঠান্ডা হওয়ার ফলে নিঃসরণ ঘটে। কিন্তু গ্যাসটি পুরোপুরি উৎপন্ন হয় না, তাই আলোটি মিটমিট করে জ্বলতে থাকে।

আধুনিক এলইডি টিউব লাইটে এই সমস্যাটি হয় না কেন?স্টার্টার এবং পুরনো চোক (ব্যালাস্ট)-এর কারণে পুরনো টিউবগুলোতে আলো জ্বলতে প্রায়ই দেরি হয়। কিন্তু, নতুন এলইডি টিউব বা যেগুলোতে ইলেকট্রনিক চোক থাকে, সেগুলো সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ ভোল্টেজ পায়। ফলে, সেগুলো কোনও রকম দেরি ছাড়াই সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠে।

কখন বেশি বিলম্ব হয়?- টিউবটি যদি পুরনো হয়।- যদি স্টার্টারটি ত্রুটিপূর্ণ হয়।- শীতকালে ঠান্ডা আবহাওয়ায় গ্যাস ধীরে ধীরে উৎপন্ন হয়।

এমন পরিস্থিতিতে স্টার্টারটি বদলে ফেলা অথবা একটি নতুন টিউব লাগিয়ে নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই!টিউবলাইট জ্বলতে বেশি সময় লাগে, কারণ আলো তৈরি করার জন্য এর ভেতরের গ্যাসকে প্রথমে গরম করতে হয় এবং তারপর উচ্চ ভোল্টেজের শক দিতে হয়। এই কাজটি একটি স্টার্টারের মাধ্যমে করা হয় এবং এতে কিছুটা সময় লাগে। তাই, এগুলো প্রথমে মিটমিট করে জ্বলে, তারপর উজ্জ্বলভাবে জ্বলে ওঠে। এটিই পুরনো টিউবগুলোর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। বর্তমানে এলইডি পাওয়া যায়, যা সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠে এবং কম বিদ্যুৎ খরচ করে।

(Feed Source: news18.com)