
কিছুদিন আগেও ভারত-বিরোধী অবস্থান নিয়েছিল বাংলাদেশ
শেখ হাসিনা বিতারণ পর্বের পর একেবারে ভারত-বিরোধী অবস্থানে চলে এসেছিল বাংলাদেশ। মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তী সরকারের প্রদান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিতেই ভারতকে শত্রু বলতে শুরু করে বাংলাদেশের একাংশ। এই ধারা বাংলাদেশের নির্বাচন চলাকালীন পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। পরে অবশ্য বিএনপির তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হতেই বদলে গেছে পরিস্থিতি। অতীতের তিক্ততা ভুলে এখন মোদি সরকারের দ্বারস্থ ঢাকা।
কেন এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল হরমূজ প্রণালী। যার ফলে আটকে গিয়েছে বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের জ্বালানি। যদিও পরে মিত্র দেশ বলে ভারতকে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি আনতে সাহায্য় করে ইরান। যেকারণে প্রতিবেশী বাংলাদেশও এখন নয়াদিল্লির কাছে জ্বালানির জন্য সাহায্য চাইছে। মনে রাখতে হবে, এশিয়ার ৯০ শতাংশ জ্বালানি এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে আসে। হরমুজে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় কিছুদিন ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা সমস্য়ায় পড়ে।
ভারত কী বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, মলদ্বীপকে জ্বালানি পাঠাচ্ছে ?
অতীতের তিক্ততা ভুলে ইতিমধ্যেই বাংলাদেশকে জ্বালানি পাঠিয়েছে ভারত। সাহায্য়ের হাত থেকে বাদ পড়েনি শ্রীলঙ্কার নামও। তবে চিন ঘনিষ্ঠ মহম্মদ মুইজ্জুর মলদ্বীপের এখনও শিঁকে ছেঁড়েনি। তবে দিল্লি শূত্র খবর, তাদের আবেদনের বিষয়টিও ভেবে দেখছে নয়াদিল্লি।
কে নিশ্চিত করছে এই বিষয়ে
গত সপ্তাহেই এই বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণদীর জয়সওয়াল। তিনি জানান, তিন দেশের এই আবেদন ভেবে দেখা হচ্ছে। প্রথমে আমাদের দেশের জ্বালানির প্রাপ্যতার বিষয়টি নিশ্চিত হলেই প্রতিটি দেসের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে ভাবা হবে। তবে দেশে জ্বালানির প্রোডাকশনের বিষয়টিও মাথায় রয়েছে সরকারের। বর্তমানে ভারতে জ্বালানি সঙ্কটের কোনও অবস্থা নেই। সরকারের কাছে চাহিদা অনুযায়ী ২ মাসের রসদ মজুত রয়েছে।
কেন বাংলাদেশের সবথেকে খারাপ পরিস্থিতি
পরিসংখ্য়ান বলছে, বাংলাদেশ বিদেশ থেকে ৯৫ শতাংশ তেল ও ৩০ শতাংশ গ্যাস আমদানি করে। ইরান যুদ্দের সময় হরমুজে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায়, এই আমদানি আটকে যায়। গ্যাসের সরবরাহ তলানিতে এসে ঠেকায় বাংলাদেশে এখন ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে। দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি বস্ত্র ও রেডিমেড পোশাক খাতও ডিজেলের ঘাটতির কারণে সমস্য়ার মুখে পড়েছে।
(Feed Source: abplive.com)
