জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ১ মার্চ ২০২৬ বুধবার, আইপিএল অভিযান (IPL 2026) শুরু করছে লখনউ সুপার জায়েন্টস (Lucknow Super Giants)। প্রতিপক্ষ দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals)। লখনউয়ের মালিক সঞ্জীব গোয়েঙ্কা (Sanjiv Goenka)। আইপিএলে বেশ কিছু বিতর্কিত ঘটনার কেন্দ্রে ছিলেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৪ সালে। তখন দলের অধিনায়ক ছিলেন কেএল রাহুল (KL Rahul)। মাঠে গোয়েঙ্কার সঙ্গে রাহুলের উত্তপ্ত বাদানুবাদের স্মৃতি আজও আইপিএলে অম্লান। পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে লখনউয়ের টানা দুই হতাশাজনক মরসুম। ২০২৪ এবং ২০২৫, দু’বছরই এলএসজি লিগ টেবলে সাতে শেষ করেছে মরসুম। এবার গোয়েঙ্কা ১০ কোটি টাকায় দলে নিয়েছেন জাতীয় দলের অভিজ্ঞ পেসার মহম্মদ শামিকে (Mohammed Shami)। মালিকের রক্ষাকবচ হয়ে উত্তীর্ণ হলেন শামি। সাফ বলে দিলেন ফ্র্যাঞ্চাইজিতে গোয়েঙ্কা যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করেছেন, তা বিবেচনা করলে তাঁর প্রতিক্রিয়া যথার্থই বটে।
গোয়েঙ্কার সমর্থনে শামি
আনপ্লাগড পডকাস্টে এসে শামি বলেছেন, ‘গোয়েঙ্কাজি যদি তাঁর দলের বিষয়ে অধিকারবোধ দেখান তাতে দোষের কিছু নেই। তিনি যদি তাঁর খেলোয়াড়দের থেকে ভালো পারফরম্যান্স এবং সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার প্রত্যাশা করেন, তাতে কোনও ক্ষতি নেই।’ ২০২১ সালে গোয়েঙ্কা ৭০৯০ কোটি টাকায় ১০ বছরের জন্য লখনউ অধিগ্রহণ করেছিলেন। প্রতি বছর ৭০৯ কোটি টাকা করে। শামি এই বিরাট অঙ্কের কথা মাথায় রেখেই বলেছেন, ‘প্রচুর মিমও হয়েছে গোয়েঙ্কাজিকে নিয়ে। অনেক কিছু তৈরি হয়েছে, যেগুলো ঠিক নয়। আপনি যে কোনও সাধারণ মানুষকে ৫০০০ টাকা ঢালতে বলুন, দেখবেন ১০ বার তাঁর বুক কাঁপছে। সে ভাববে আমার ৫০০০ টাকার বদলে ১০ হাজার না চলে য়ায়! এখনও পর্যন্ত আমি গোয়েঙ্কাজির সঙ্গে দু’তিনবার কথা বলেছি এবং প্রতিবারই তিনি খুব ভালো ভাবে ও যুক্তির সঙ্গে কথা বলেছেন আমার সঙ্গে। আর আলোচনাগুলি দলকে কেন্দ্র করেই হয়েছে। এখন পর্যন্ত অল্প যেটুকু কথা বলেছি তাঁর সঙ্গে, তাতে আমার বেশ ভালোই লেগেছে।’
শামির আইপিএল কেরিয়ার
আইপিএলে অনভিজ্ঞ প্রতিভাবান ভারতীয় পেস আক্রমণকে নেতৃত্ব দেবেন শামি। যেখানে মায়াঙ্ক যাদব, মহসিন খান, নমন তিওয়ারি এবং প্রিন্স যাদবের মতো খেলোয়াড়রা রয়েছেন। অভিজ্ঞ শামির আইপিএলেও রয়েছে প্রচুর অভিজ্ঞতা। তিনি কলকাতা নাইট রাইডার্স (২০১৩-১৪) দিয়ে শুরু করে দিল্লি ক্যাপিটালস (২০১৬-১৮) পঞ্জাব কিংস (২০১৯-২১), গুজরাত টাইটান্স (২০২২-২৩) এবং সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (২০২৫) মিলিয়ে মোট ৫ ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে ১১৯ ম্যাচ খেলে ১৩৩ উইকেট নিয়েছেন। লিগে তাঁর গড় ২৮.১৮। সেরা পরিসংখ্যান ৪/১১। হায়দরাবাদে নাম লেখোনোর আগে শামি গুজরাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিলেন। ২০২২ সালে আইপিএল অভিষেকেই শিরোপ জিতেছিল গুজরাত। শামি সেবার ১৬ ম্যাচে ২০ উইকেট নিয়েছিলেন। এরপর ২০২৩ সালে গুজরাত রানার্স হয়। শামি সেবারও ছিলেন আগুনে ফর্মে। ১৭ ম্যাচে ২৮ উইকেট নিয়ে পার্পল ক্যাপও জিতেছিলেন। যদিও চোটের কারণে ২০২৪ মরসুমের পুরোটাই মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। শামির চলতি বছর হায়দরাবাদের হয়ে খুবই খারাপ খেলেছিলেন। ৫৬.১৬-র গড়ে মাত্র ৬ উইকেট নিয়েছিলেন। অন্যদিকে ১১.২৩ রানের ইকোনমি রেটে রান দিয়েছিলেন। তাঁর সেরা পরিসংখ্যান ছিল ২/২৮। গত মার্চ মাসে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর থেকে শামি আর ভারতের হয়ে খেলেললনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিক ভাবে ভালো পারফর্ম করেও জাতীয় দলের নির্বাচকদের নজরে পড়েননি তিনি।
(Feed Source: zeenews.com)
