মা, যাও না… যে বৃদ্ধ তাকে খাওয়াচ্ছিল তার মৃতদেহ জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল বানর

মা, যাও না… যে বৃদ্ধ তাকে খাওয়াচ্ছিল তার মৃতদেহ জড়িয়ে ধরে কেঁদেছিল বানর
কর্ণাটকের শেষকৃত্যে বানর কাঁদছে: মানুষের থেকে বিচ্ছেদের কারণে কোনো প্রাণীকে চোখের জল ফেলতে দেখেছেন? এমনই এক খবর এসেছে কর্ণাটকের চান্নাপাটনা থেকে, যা পাথর হৃদয়ের মানুষকেও কাঁদাতে পারে। 85 বছর বয়সী পার্বতম্মা আর এই পৃথিবীতে নেই, তবে তার মৃত্যুতে শুধু তার পরিবারই শোকাহত নয়, সেই বোবা বানরটিও, যাকে সে তার নিজের সন্তানের মতো আদর করে খাওয়াত। মৃতদেহ আঁকড়ে ধরে বানরকে কাঁদতে দেখে সবার চোখ ভিজে ওঠে।

আমাদের খাওয়ানো ‘মা’ ছেড়ে যাওয়ার বেদনা (আবেগিক প্রাণীর বন্ধন)

কর্ণাটকের রামানাগাড়া জেলার রাইরা দোদ্দি গ্রাম আজ একটি আধ্যাত্মিক ঘটনার সাক্ষী যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এখানে 85 বছর বয়সী পার্বতম্মা বার্ধক্য এবং অসুস্থতার কারণে মারা যান। পার্বথাম্মা তার জীবনের একটি বড় অংশ উৎসর্গ করেছিলেন বানরদের জন্য যারা তার বাড়ির কাছে আসত। পার্বথাম্মা যাদেরকে মানুষ তার নিজের সন্তানের মতো ‘কষ্ট’ বলে মনে করত তাদের আদর করতেন এবং খাওয়াতেন, কিন্তু কেউ ভাবেনি যে একটি বাকরুদ্ধ প্রাণী এইভাবে এই ভালবাসার প্রতিদান দেবে।

কণ্ঠহীনের বেদনা ও শেষ বিদায় (পার্বতমা বানরের ভাইরাল ভিডিও)

বাড়ির উঠানে যখন পার্বতমার মৃতদেহ রাখা হল, সেখানে নিস্তব্ধতা, তখন ভিড় কেটে ভিতরে ঢুকল একটা বানর। সে কোনো শব্দও করেনি, খাবারের জিনিসপত্রও ছিনিয়ে নেয়নি। তিনি নিঃশব্দে পার্বথামার মৃতদেহের কাছে বসলেন, তার মুখ স্পর্শ করলেন এবং তারপর তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। সেখানে উপস্থিত লোকজনের আত্মা কেঁপে উঠল যখন তারা দেখল যে বানরটি তার চোখ বন্ধ করেছে, যেন সে তার শেষ সমর্থন হারানোর জন্য শোক করছে।

আনুগত্যের অতুলনীয় উদাহরণ

প্রাণীদের এই অটুট আনুগত্য প্রথমবার দেখা যায়নি। হিমাচলের চাম্বা থেকেও এমন একটি চমকপ্রদ খবর এসেছে, যেখানে একটি কুকুর তার মালিকের মৃতদেহের কাছে তুষারপাতের মধ্যে ঘন্টার পর ঘন্টা বসে ছিল। তুষার ঝড়ের মধ্যেও সে নড়ল না, শুধু তার প্রভুকে রক্ষা করেছে। চাম্বার অনুগত কুকুর হোক বা চন্নাপাটনার এই দুঃখী বানর, এই কণ্ঠহীন লোকেরা বারবার মানুষকে মনে করিয়ে দেয় যে সম্পর্কগুলি কেবল রক্তের নয়, অনুভূতির।

ভালবাসার কোন ভাষা নেই (চাম্বা কুকুর মালিক মৃতদেহ তুষারপাত)

চন্নাপাটনার এই বানরের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হচ্ছে। মানুষ বলছে সময়ের সাথে সাথে মানুষ তাদের দয়া ভুলে গেলেও এই প্রাণীরা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ভালবাসার ঋণ শোধ করে। বানর চোখের জলে পার্বতমার দেওয়া রুটির মূল্য পরিশোধ করছে। এটা শুধু মৃত্যু নয়, এমন বিদায় ছিল যে দেখে প্রকৃতিও হয়তো কেঁদেছিল।

(Feed Source: ndtv.com)