
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সুস্বাস্থ্যের কথা উঠলেই মাথায় আসে খাওয়াদাওয়া আর ব্যায়াম। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর বাইরেও একটা শক্তিশালী শক্তি চুপচাপ কাজ করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সেটা হল মন। কখন খাবেন, কী খাবেন, কতটা খাবেন, এই সব সিদ্ধান্তের পেছনে মনের ভূমিকা অনেক সময় খিদের চেয়েও বেশি।
৭ এপ্রিল, একটা দিন একটু ভাবার
প্রতি বছর ৭ এপ্রিল পালিত হয় বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। যে রোগগুলো সমাজে প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে, সেদিকে মনোযোগ টানাই এই দিনের উদ্দেশ্য। এই বছর নজর পড়ছে শরীর আর মনের সংযোগে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-র সংজ্ঞা অনুযায়ী, স্বাস্থ্য মানে শুধু রোগ না থাকা নয়, শরীর, মন আর সমাজ তিনটে দিক থেকেই সুস্থ থাকার নাম স্বাস্থ্য।
রাগ, দুঃখ, একঘেয়েমি সব মেশে থালায়
আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের গবেষণা বলছে, শুধু খিদে নয়, মানসিক চাপ, বিরক্তি, উদ্বেগ এমনকি আনন্দও খাওয়ার অভ্যাসকে প্রভাবিত করে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ইমোশনাল ইটিং, যেখানে খাবার হয়ে ওঠে মানসিক অস্থিরতার মোকাবিলার হাতিয়ার। গবেষকরা জানাচ্ছেন, মানসিক চাপে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়ে। আর সেই কর্টিসলই টানে ভাজাভুজি, মিষ্টি বা তেলচর্বিযুক্ত খাবারের দিকে। দীর্ঘদিন এভাবে চললে ওজন আর স্বাস্থ্য দুটোই বিগড়ে যায়।
কী বলছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা
বেঙ্গালুরুর স্পর্শ হাসপাতালের কনসালট্যান্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা.দর্শন যল্লাপ্পা জোতিবান্নদ বলছেন, উদ্বেগজনিত খাওয়ার সমস্যা মোকাবিলা করতে হলে একসঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য আর খাদ্যাভ্যাস, দুটোর দিকেই মনোযোগ দিতে হবে।
তাঁর পরামর্শ হল, মনোযোগ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করুন। নির্দিষ্ট সময়ে খান। কখন আবেগের টানে খেতে বসছেন সেটা চিনতে শিখুন। মানসিক চাপ কমানোর উপায় খুঁজুন। প্রয়োজনে মনোবিদ বা পুষ্টিবিদের সাহায্য নিন। আর নিজেকে দোষারোপ না করে আত্মসম্মানের সঙ্গে এগোন।
শার্দাকেয়ার হেলথসিটির সিনিয়র কনসালট্যান্ট সাইকিয়াট্রিস্ট ডা.অভিনীত কুমার যোগ করছেন আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা। উদ্বেগ বা বিষন্নতায় ভুগলে মানুষ নিজেকে ভুলভাবে দেখে। তখন খাবারকে নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার বানায়। আর সোশ্যাল মিডিয়ার অবাস্তব শরীরের ছবিগুলো এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তোলে। তাঁর মতে, সুস্থ মানসিকতা গড়তে সবার আগে দরকার নিজেকে চেনা এবং অন্যের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করার অভ্যাস ছেড়ে দেওয়া।
মন সুস্থ তো শরীর সুস্থ
এই বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে তাই শুধু ডায়েট চার্ট বা পেডোমিটারের দিকে না তাকিয়ে একবার নিজের মনের দিকেও তাকান। কারণ রান্নাঘর নয়, আসল রান্না হয় মাথায়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য:এই প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য শুধুমাত্র সচেতনতার উদ্দেশ্যে। এটি কোনওভাবেই পেশাদার চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। যেকোনও শারীরিক বা মানসিক সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
(Feed Source: zeenews.com)
