
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অভিযোগটা বহু পুরনো। সেটি হল মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যপলের মতো প্রতিষ্ঠান তথ্য ও অর্থ দিয়ে ইসরায়েলকে সাহায্য করছে। ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আবহে বেশকিছু টেক জায়ান্টকে হামলার হুমকি দিয়ে রাখল ইরান। পশ্চিম এশিয়ার যেসব টেক জায়ান্টরা ইরানের টার্গেটে রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপলের মতো দুনিয়া সেরা প্রতিষ্ঠান।
ইরানের ইসলামি রেভোলিউশনারি গার্ড কোর (IRGC) ১৮টি বড় মার্কিন সংস্থাকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের দাবি, এই সংস্থাগুলো তেহরানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। তাই তাদের আঞ্চলিক পরিকাঠামো বা অফিসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। মূলত গোয়েন্দাগিরি এবং নাশকতামূলক কাজে মদত দেওয়ার অভিযোগে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে। ১ এপ্রিলের মধ্যে এই সংস্থাগুলোর আঞ্চলিক দপ্তরে কর্মরত ব্যক্তিদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে ইরান। এই হুমকির ফলে আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা যেমন বাড়ছে, তেমনই বড় প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইআরজিসি (IRGC) অভিযোগ করেছে যে এই মার্কিন সংস্থাগুলো সরাসরি গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে ইরানের ভেতরে আমেরিকা ও ইসরায়েলের চালানো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সাহায্য করেছে। মূলত গুপ্তচরবৃত্তির মাধ্যমে এই সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে মদত দেওয়ার কারণেই সংস্থাগুলোকে এই কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তেহরানের হুঁশিয়ারি, আজ ইরানি সময় রাত ৮টা থেকে হামলা শুরু করা হবে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই সংস্থাগুলোর আঞ্চলিক অফিসগুলো পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। কারা আছে ওইসব কোম্পানির তালিকায়? ইরানের দাবি তাদের টার্গেটে রয়েছে অ্যাপল, গুগল, মেটা, মাইক্রোসফটের মতো টেক জায়ান্ট থেকে শুরু করে টেসলা, এনভিডিয়া, ইন্টেল এবং বোয়িং-এর মতো বড় বড় শিল্প ও প্রযুক্তি সংস্থা রয়েছে। ইরানের দাবি, এই কোম্পানিগুলোর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করেই আমেরিকা ও ইসরায়েল ইরানের ভেতরে গুপ্তচরবৃত্তি ও হত্যাকাণ্ডের নীল নকশা তৈরি করেছে।
তেহরানের অভিযোগ, বারবার কূটনৈতিক সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও ওয়াশিংটন ও তেল আবিব তাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করেনি। এমনকি গত মঙ্গলবারও একটি হামলায় বেশ কয়েকজন ইরানি নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর জবাবেই আইআরজিসি (IRGC) এই সংস্থাগুলোকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। কর্মীদের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে কর্মস্থল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং এই অফিসগুলোর এক কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সাধারণ মানুষকেও নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। মূলত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ইরানের একাধিক উচ্চপদস্থ নেতা ও সেনা কর্মকর্তার মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতেই ইরান এবার বেসরকারি সংস্থাগুলোর ওপর এই আক্রমণের হুমকি দিল।
(Feed Source: zeenews.com)
