
Bardhaman Tourism: আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের লবণধার গ্রামে অনন্য ছবি! ভোটের আগেও নেই রাজনৈতিক দেওয়ার লিখন। এখানে গ্রামের প্রতিটা বাড়ির দেওয়ালে দেওয়ালে ছবি, আলপনা
আউশগ্রাম
আউশগ্রাম, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: বিধানসভা ভোটের আগে যখন রাজ্যের প্রায় সর্বত্রই প্রার্থীরা দেওয়াল লিখনে ব্যস্ত, ঠিক তখনই আউশগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের লবণধার গ্রাম এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। এখানে নেই কোনও দলীয় স্লোগান, নেই প্রতীকের দখলদারি। বরং গ্রামের প্রতিটি বাড়ির দেওয়াল জুড়ে ফুটে উঠেছে শিল্প আর সচেতনতার অনন্য মেলবন্ধন।
লবণধার গ্রামে ঢুকলেই চোখে পড়ে অন্যরকম এক ছবি। কোথাও জঙ্গল রক্ষার বার্তা, কোথাও গ্রামীণ জীবনের সরল দিনযাপন, আবার কোথাও রামায়ণ-মহাভারতের কাহিনির রঙিন উপস্থাপনা। গ্রামবাসীদের কথায়, “আমাদের গ্রাম ‘আলপনা গ্রাম’ নামেও দেশজুড়ে পরিচিত। এই ঐতিহ্য আমরা সবাই মিলে ধরে রেখেছি।” গ্রামবাসী অমিরণ ঘোষ বলেন, “দেওয়ালে দেওয়ালে আলপনা, এটাই আমাদের গ্রামের ঐতিহ্য। সেই ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে এখানে কোনও দেওয়ালে রাজনৈতিক বার্তা লেখা হয়না। এটাকে রাজনৈতিক দলের নেতারাও সম্মান করেন।”
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রামের পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে প্রায়ই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার ফলে বন্যপ্রাণী ও পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়ে। এই সমস্যা থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে কয়েকজন উদ্যোগী যুবক একটি সংগঠন গড়ে তোলেন, নাম দেন লবণধার অন্নপূর্ণা ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন। এই সংগঠনের তরফেই প্রথম গ্রামের দেওয়ালে চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু করা হয়। গ্রামে কোনও রাজনৈতিক দলকে দেওয়াল লিখনের জন্য জায়গা দেওয়া হয়নি, এমনকি পোস্টার সাঁটাতেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক দলগুলিও সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে।
আউশগ্রাম ২ ব্লকের সভাপতি শেখ আব্দুল লালন বলেন, “ছবি বা আলপনাই লবণধার গ্রামের ঐতিহ্য। ওই গ্রামে বিদেশি পর্যটকরাও আসে। আমরাও গ্রামের ঐতিহ্যটাকে সম্মান জানাই। তাই আমরা হৃদয়ে পার্টিকে রেখেছি এবং দেওয়াল জুড়ে আলপনা।”তবে শুধু স্থানীয় নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত এমনকি ভিনরাজ্য থেকেও শিল্পীরা এসে যোগ দেন এই প্রয়াসে। তাঁদের তুলির ছোঁয়ায় লবণধার হয়ে ওঠে এক জীবন্ত ক্যানভাস। এই শিল্প-গ্রাম দেখতে সারা বছরই ভিড় জমান বহু পর্যটক। আউশগ্রাম বিধানসভার এবারের তৃণমূল প্রার্থী শ্যামা প্রসন্ন লোহার বলেন, ” ওই গ্রামের কথা আমিও শুনেছি। এবারে আমি প্রচারে যাব, গোটা গ্রাম ঘুরে দেখব।”সবশেষে বলাই যায় রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেও লবণধার গ্রাম যেন প্রমাণ করে, সচেতনতা, ঐক্য এবং সংস্কৃতির শক্তি থাকলে অন্যরকম পথও বেছে নেওয়া সম্ভব।
