Iran-Israel-US War: ইরানের আকাশে উড়ে গেল ট্রাম্পের পাঠানো ফাইটার বিমান: আগুনের গোলা থেকে ঠিকরে বেরোলেন পাইলট

Iran-Israel-US War: ইরানের আকাশে উড়ে গেল ট্রাম্পের পাঠানো ফাইটার বিমান: আগুনের গোলা থেকে ঠিকরে বেরোলেন পাইলট

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। ইরান ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এখন সরাসরি রক্তক্ষয়ী সংঘাত। সম্প্রতি ইরানে ইসরায়েলি বিমান হামলা এবং তার জবাবে ইরানের পাল্টা ড্রোন ও মিসাইল হামলার ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিকে এক অস্থির পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। 

এই যুদ্ধে আমেরিকার সরাসরি দাদাগিরি এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমানের উপস্থিতি এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। 

দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান ভেঙে যাওয়া এবং পাইলট নিখোঁজ হওয়ার মতো খবর-যেন আগুনে ঘি ঢালছে।

মার্কিন যুদ্ধবিমানের পতন ও রহস্য: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশসীমায় আমেরিকার একটি উন্নত মানের যুদ্ধবিমান (সম্ভবত F-15 বা F-35 মডেলের) বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি বা হামলার শিকার হয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মার্কিন পাইলট বিমান থেকে ‘ইজেক্ট’ (Eject) করতে (একটি বিশেষ সুইচ টিপলেই বিমান থেকে ধাক্কা দিয়ে বেরনোর মতো বেরিয়ে আসে) বাধ্য হন। যদিও পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর থেকে এই বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রে রাখঢাক করা হচ্ছে, তবে ইরান সংবাদমাধ্যমগুলো একে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা সাফল্য হিসেবে প্রচার করছে।

F-35-এর ভূমিকা:

ইসরায়েল এই সংঘাতে তাদের সবচেয়ে আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করছে। আমেরিকার তৈরি F-35 স্টিলথ ফাইটার জেটগুলো এই অভিযানে মূল ভূমিকা পালন করছে। এই বিমানগুলো রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম হলেও, ইরানের এস-৩০০ (S-300) বা স্থানীয়ভাবে তৈরি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এগুলোকে শনাক্ত করতে পারছে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে।

ইসরায়েলি বাহিনীর মূল লক্ষ্য হলো ইরানের পরমাণু কেন্দ্র এবং সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ভেঙে ফেলা। কিন্তু তেহরানের কঠিন নিরাপত্তার কারণে এই লক্ষ্য দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

ইরান-মার্কিন সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি:

দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা সরাসরি কোনও যুদ্ধে না জড়িয়ে ইসরায়েলকে সামরিক ও গোয়েন্দা সহায়তা দিয়ে আসছিল। কিন্তু দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানে মার্কিন পাইলটের ইজেক্ট হওয়ার ঘটনাটি প্রমাণ করে যে, আমেরিকার সেনারা এখন আর কেবল নেপথ্যে নেই। যদি কোনও মার্কিন পাইলট ইরানের হাতে বন্দি হন, তবে সেটি ওয়াশিংটনের জন্য একটি বিশাল কূটনৈতিক ও সামরিক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ইরান এই পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে আমেরিকার ওপর চাপ তৈরির চেষ্টা করতে পারে।

প্রভাব:

এই যুদ্ধের প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। এর ফলে বিশ্ব বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো, যারা মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর নির্ভরশীল, তারা এখন গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের পকেটে—পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম সব কিছুই সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

শান্তি প্রক্রিয়ার অভাব ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা:

জাতিসংঘ এবং বিশ্বের বড় শক্তিগুলো এই পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো ফলপ্রসূ সমাধান আসেনি। ইসরায়েল তার অস্তিত্ব রক্ষার দোহাই দিয়ে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, আর ইরান তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাতের চরম প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।

সাধারণ মানুষের মধ্যে এখন একটাই প্রশ্ন—এই ছোট ছোট সংঘাতগুলো কি শেষ পর্যন্ত একটি পূর্ণাঙ্গ ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে’র রূপ নেবে?

ইরান ও আমেরিকার এই যুদ্ধ বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ। একটি যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার জন্য বা একজন পাইলটের নিখোঁজ হওয়া শুধুমাত্র একটি সামরিক পরিসংখ্যান নয়, বরং বৃহত্তর মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত।

যদি দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসে এই সমস্যার সমাধান না করা হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই আগুন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগবে না। অস্ত্রের ঝনঝনানি নয়, বরং কূটনৈতিক প্রচেষ্টাই পারে পৃথিবীকে এই আসন্ন বিপদ থেকে রক্ষা করতে।

(Feed Source: zeenews.com)