
সংবাদ সংস্থা পিটিআই এই তথ্য সামনে এনেছে। দীর্ঘ সময় অর্থনৈতিক সঙ্কটে জেরবার থেকেছে পাকিস্তান। বিভিন্ন দেশের থেকে ঋণ নিলেও, সেই ঋণ শোধ করতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের। বাড়তি সময় মঞ্জুর হলেও ঋণ শোধ করা সম্ভব হয়নি। তবে, ব্যাতিক্রম হল এবার। আমিরশাহির থেকে নেওয়া ঋণের টাকা এক মাসের মধ্যেই মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল তারা। (Pakistan News)
জানা গিয়েছে, এপ্রিলের মধ্যেই সব টাকা মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। সব দিক ভাবনাচিন্তা করেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে শেহবাজ শরিফের সরকার। ১১ এপ্রিলের মধ্যে প্রথম কিস্তি বাবদ ৪৫০ মিলিয়ন ডলার মিটিয়ে দেওয়া হতে পারে। ১৯৯৬-’৯৭ সালে এই টাকা ধার নেওয়া হয়েছিল আমিকশাহির থেকে। তিন দশক পর সেই টাকা মেটাতে চলেছে পাকিস্তান।
১৭ এপ্রিলের মধ্যে ২ বিলিয়ন এবং ২৩ এপ্রিলের মধ্যে বাকি ১ বিলিয়ন মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান সরকার। কিছু টাকা বিনিয়োগে রূপান্তরিত করা যায় কি না, আলোচনা চলছে সেই নিয়েও। পাকিস্তানের সেন্ট্রাল ব্যাঙ্কে এই মুহূর্তে ১৬.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের বিদেশি মুদ্রা সঞ্চিত রয়েছে। সেখান থেকেই আমিরশাহির টাকা মেটানো হতে পারে বলে খবর।
যুদ্ধ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক অর্থননীতির সমীকরণও বদলে যাচ্ছে। ঋণের টাকা ফেরত পাওয়ার সময়সীমা বৃদ্ধিতে তেমন আগ্রহী নয় কোনও দেশেরই। বিশেষ করে বেশি সময় দিতে নারাজ নয় তারা। জানুয়ারি মাসেই ১ বিলিয়ন ডলার করে দু’টি ঋণ শোধ করার সময়সীমা পেরিয়ে যাচ্ছিল। ওই ঋণ মেটানোর জন্য বাড়তি দু’বছর সময় চেয়েছিল পাকিস্তান। সুদের হার যাতে ৩ শতাংশ রাখা হয়, আবেদন জানিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক মাস বাড়তি সময়ই হাতে পায় তারা, তাও ৬.৫ শতাংশ সুদের হারে।
আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের মারাত্মক প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের ৭ বিলিয়ন ডলার কর্মসূচির আওতায়, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব এবং চিন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কে ১২.৫ বিলিয়ন ডলার মজুত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ওই কর্মসূচির মেয়াদ শেষ। সব মিলিয়ে এপ্রিল মাসে ৪.৮ বিলিয়ন ডলার ঋণ মেটাতে হবে পাকিস্তানকে, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। পাকিস্তানের দাবি, তাদের সঞ্চিত বিদেশি মুদ্রার ভাঁড়ার নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।
এর আগে, চলতি মাসের শুরুতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খোয়াজা আসিফ বড় দাবি করেন। তিনি জানান, ছ’মাস পর আর আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের সাহায্য়েরও প্রয়োজন পড়বে না তাঁদের। ভারতের সঙ্গে যুদ্ধের পর পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান এবং সামরিক সরঞ্জাম যে হারে বিকোচ্ছে, তাতে ঋণের দায় থেকেও পাকিস্তান মুক্ত হতে পারবে বলে দাবি করেন তিনি।
(Feed Source: abplive.com)
