World Health Day 2026: সারাদিন ক্লান্ত লাগছে? মাথা ধরছে? দোষ হয়তো জলের, নজর দিন

World Health Day 2026: সারাদিন ক্লান্ত লাগছে? মাথা ধরছে? দোষ হয়তো জলের, নজর দিন

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সকাল থেকে দৌড়াচ্ছেন। অফিস, কাজ, ব্যস্ততা। দুপুরে খাওয়াটাও ঠিকমতো হয়নি। বিকেলে হঠাৎ মাথাটা ভার, চোখ জ্বালা করছে, কিছুতে মন বসছে না। চা খেলেন। তাতেও কাজ হল না।

কিন্তু শেষ কখন এক গ্লাস জল খেয়েছিলেন, মনে আছে? এই ছোট্ট অবহেলাটাই প্রতিদিন শরীরকে ভেতর থেকে ক্লান্ত করে দিচ্ছে। আমরা ভাবি বড় কিছু হয়েছে, ডাক্তার দেখাই, ওষুধ খাই। অথচ সমস্যার গোড়াটা অনেক সময় এতটাই সহজ যে চোখের সামনে থেকেও ধরা পড়ে না।

মেয়ো ক্লিনিক বলছে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দিনে অন্তত ৩.৭ লিটার এবং মহিলার ২.৭ লিটার তরল দরকার। শুধু জল নয়, খাবার থেকে পাওয়া জলও এর মধ্যে ধরা হয়। কিন্তু বেশিরভাগ মানুষ এর ধারেকাছেও পৌঁছন না। আর সেটার মাশুল দেয় কিডনি, ত্বক আর মস্তিষ্ক। একসঙ্গে।

প্রস্রাবের দিকে তাকান, সত্যিটা জানুন

শুনতে অদ্ভুত লাগলেও, এটাই সবচেয়ে সহজ এবং নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা।

রং যদি হালকা, প্রায় রঙহীন বা খড়ের মতো হলুদ হয়, জানবেন আপনি ঠিক আছেন। গাঢ় হলুদ বা অ্যাম্বার মানেই শরীর সংকেত দিচ্ছে। ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক জানাচ্ছে, দিনে চার থেকে সাতবার টয়লেটে যাওয়া স্বাভাবিক। এর কম হলে বুঝতে হবে জল কম পড়ছে।

আরেকটা ঘরোয়া পরীক্ষা আছে। হাতের পিঠের চামড়া দুই আঙুলে টেনে ছেড়ে দিন। সঙ্গে সঙ্গে ফিরে গেলে ভালো। একটু সময় লাগলে বা ভাঁজ থেকে গেলে, সেটা ডিহাইড্রেশনের লক্ষণ। বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষাটা আরও জরুরি, কারণ বয়সের সঙ্গে তেষ্টার অনুভূতিও কমে আসে।

তেষ্টা পেলে কিন্তু দেরি হয়ে গিয়েছে

ব্রিটিশ ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন একটা কথা পরিষ্কার বলে, তেষ্টা লাগার অপেক্ষা করবেন না। তখন শরীর আগে থেকেই ঘাটতিতে পড়ে গিয়েছে।

মাথাব্যথা, মাথাঘোরা, কারণ ছাড়া ক্লান্তি, মুখ-ঠোঁট শুকনো লাগা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পায়ে হঠাৎ টান– এগুলো আলাদা সমস্যা মনে হলেও বহু ক্ষেত্রে কারণ একটাই। শরীরে জল নেই।

মস্তিষ্কের কথা আলাদা করে বলা দরকার। আমাদের মাথার প্রায় ৭৫ শতাংশই জল। সামান্য ডিহাইড্রেশনেই মনোযোগ কমে, সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে ওঠে। কাজে মন বসছে না? আগে এক গ্লাস জল খেয়ে দেখুন।

রোজ মনে রাখবেন কী ভাবে?

সবচেয়ে সহজ কৌশল হল অভ্যাসের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া। সকালে উঠে মুখ ধোওয়ার আগেই এক গ্লাস জল। খাওয়ার আগে এক গ্লাস। রাতে শোওয়ার আগে এক গ্লাস। আলাদা করে মনে রাখতে হয় না, অভ্যাসটা নিজেই কাজ করে।

বোতলে সময় অনুযায়ী দাগ কেটে রাখুন। সকাল আটটায় এইটুকু, দুপুরে এইটুকু। চোখের সামনে থাকলে মনে পড়ে। দরকারে Plant Nanny বা My Water-এর মতো অ্যাপ ইনস্টল করুন। এগুলো রিমাইন্ডার দেয়, পরিমাণও ট্র্যাক করে। ডেস্কে সবসময় একটা বড় বোতল রাখুন, দেখলেই হাত যাবে।

জল খেতে ভাল্লাগছে না?

একটু লেবু চিপে নিন, পুদিনা বা শসার টুকরো ফেলুন। স্বাদটাই বদলে যাবে। শুধু জল নয়, তরমুজ, শসা, কমলালেবুর মতো ফল-সবজিও শরীরে ভালো জলের জোগান দেয়।

ব্যায়াম করলে বা জ্বর-সর্দির সময় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জল খাওয়া দরকার। ঘামে অনেকটা তরল বেরিয়ে যায়, পূরণ না হলে শরীর দ্রুত ভেঙে পড়ে। কলকাতার এই গরম আর আর্দ্র আবহাওয়ায় সেটা আরও বেশি সত্যি। আপনি টের না পেলেও জানবেন, শরীর কিন্তু ঘামছে প্রতি মুহূর্তে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে বড় কোনও প্রতিশ্রুতি নয়। শুধু এই মুহূর্তে উঠে এক গ্লাস জল খান। শরীর ঠিকই বুঝবে। কী বুঝবে? যে আপনি তার যত্ন নিচ্ছেন। অ্যাট লিস্ট নিতে আগ্রহী।

এই প্রতিবেদনটি সচেতনতামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত এবং চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। প্রস্রাবের রং ধারাবাহিকভাবে গাঢ় থাকলে বা মাথাঘোরা ও তীব্র ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

(Feed Source: zeenews.com)