
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গতবছর মহাকুম্ভে (Maha Kumbh Mela 2025) হইচই ফেলে দেওয়া অভয় সিং ওরফে ‘আইআইটি বাবা’কে ( IIT Baba Abhay Singh) নিশ্চয়ই মনে আছে। বম্বে আইআইটি থেকে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং করা অভয় কানাডায় ৩৬ লাখি বেতনের চাকরি ছেড়েই সন্ন্যাসী হয়েছিলেন। সেই আইআইটি বাবা এবার গোপনে বিয়ে সেরে, বউকে নিয়ে বাড়িতে এসে পরিবারকেই চমকে দিলেন (IIT Baba Marriage)। অভয়ের এই কীর্তিতে তাঁর বহু অনুগামীও চমকে গিয়েছেন!
আইআইটি বাবার বিয়ে
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি অভয় বেঙ্গালুরুর মেয়ে প্রীতিকাকে বিয়ে করেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি তিনি রেজিস্ট্রি সারেন। এই মুহূর্তে প্রীতিকাকে নিয়ে অভয় থাকেন হিমাচল প্রদেশের ধরমশালায়। সোমবার, ৬ মার্চ সম্প্রতি স্ত্রীকে নিয়ে হরিয়ানার ঝাজরে আসেন। পরিবারকে চমকে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই বাড়িতে প্রীতিকাকে নিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন অভয়। এদিন তিনি তহসিল অফিসে গিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের KYC আপডেট করান। এই অফিসেই রয়েছে অভয়ের বাবার চেম্বার। তিনি পেশায় আইনজীবী। সেখানেও কিছুটা সময় কাটান। অভয় নিজের এলাকায় ফেরার খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয়রা তাঁকে দেখতে ভিড় জমান। মুহূর্তে লোক জড়ো হয়ে যায় অফিসের বাইরে।
একই সঙ্গে সন্ন্যাস ও গার্হস্থ্য
অভয় সন্ন্যাস গ্রহণ করেছেন। যে জীবনধারা মানুষ পরিবার-সংসার, ভোগ-বিলাস, পার্থিব আকাঙ্ক্ষা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ ত্যাগ করে আধ্যাত্মিক উন্নতি ও আত্মজ্ঞান অর্জনের পথে এগিয়ে যায়। হিন্দু দর্শনে সন্ন্যাস জীবনকে জীবনের চূড়ান্ত আশ্রম (চতুর্থ ধাপ) হিসেবে ধরা হয়—ব্রহ্মচর্য, গার্হস্থ্য, বানপ্রস্থের পরেই আসে সন্ন্যাস। মূল বৈশিষ্ট্যের একটিই সংসার ত্যাগ। সেখানে অভয় বিয়ে করলেন! মানে সন্ন্যাস থেকে ফের গার্হস্থ্য জীবন। এই প্রসঙ্গে অভয় মিডিয়াকে বলেছেন যে, তিনি সন্ন্যাসী হিসেবেই জীবন কাটাবেন। বৃহত্তর পরিবারের জন্য ছোট পরিবার ছাড়তে হয় বলেই মত অভয়ের। তিনি এও জানিয়েছেন যে, সুযোগ পেলেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসবেন। অভয় জানিয়েছেন, ‘শ্রী ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করেছেন তিনি। স্ত্রী রয়েছেন এই কাজে। এই প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্যই হবে শিক্ষার সঙ্গে আধ্যাত্মিক সাধনার সমন্বয় ঘটানো। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রচলিত শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সাধনা শেখানোর উপরেও বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

মহাকুম্ভের অভয়ের আলোড়ন
মহাকুম্ভে অভয় তাঁর স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্বের জন্য ব্যাপকভাবে আলোড়ন ফেলেছিলেন। উচ্চশিক্ষার পটভূমিতেই সুখের জীবন গড়ে তুলেছিলেন অভয়। সেখান থেকে সন্ন্যাসী হয়ে যাওয়ার গল্প দেশের নানা প্রান্তের মানুষের মনে কৌতুহল জাগিয়েছিল। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আধ্যাত্মিকতা নিয়ে নতুন আগ্রহ তৈরি করেছিলেন। নেকেই তাঁকে ‘নতুন যুগের সাধু’ হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলেন। আধুনিক উচ্চশিক্ষার সঙ্গে আধ্যাত্মিক জীবনের মিশেলই অভয়কে আলাদা করেছিল। কুম্ভমেলায় উপস্থিত দর্শনার্থীরা তাঁর সঙ্গে কথা বলে ভিডিও ও ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করতেও শুরু করেছিলেন।
সাধুদের সঙ্গে বিতর্ক, গাঁজা রেখে গ্রেফতার
মহাকুম্ভের জুনা আখাড়া থেকে যদিও অভয়কে বার করে দেওয়া হয়েছিল। গুরু মহন্ত সোমেশ্বর পুরীর বিরুদ্ধে কুকথা বলার অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে। জুনা আখাড়ার এক সন্ন্যাসী জানিয়ে ছিলেন যে, অভয় সাধু নন, একজন ভবঘুরে। উনি টিভিতে যা খুশি পেরেছেন, বলেছেন। যদিও অভয় মানতে অস্বীকার করেছিলেন যে, তাঁকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। বরং তাঁর দাবি ছিল, আখড়ার সাধুরা তাঁর সম্পর্কে গুজব ছড়িয়েছেন। সাধুদের সঙ্গে তর্কেও জডিয়ে ছিলেন অভয়। গাঁজা রাখার অভিযোগে আবার পুলিস গ্রেফতারও করেছিল অভয়কে। তিনি বলেছিলেন, গাঁজা নয়, এ প্রসাদ!
(Feed Source: zeenews.com)
