US-Iran Ceasefire: ইমেজে বিশাল ধাক্কা, ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়েও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

US-Iran Ceasefire: ইমেজে বিশাল ধাক্কা, ইরানে হামলার নির্দেশ দিয়েও যুদ্ধবিরতি ঘোষণা ট্রাম্পের

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কয়েক ঘণ্টা আগেই বলেছিলেন পারস্য সভ্যতাকে মুছে দেবেন। দুনিয়ার মানচিত্র থেকে লোপাট করে দেবেন ইরানকে। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিংহ গর্জন মিনমিনে হয়ে গেল। ইরানের পাওয়ার প্ল্যান্টে হামলা করব, ইরানের রেলপথ ধ্বংস করে দেব, ইরানকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেব-কত কথা বলেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু কোথায় কী। ঘরে বাইরে চাপে পড়ে ২ সপ্তাহের যুদ্ধ বিরতি ঘোষণা করলেন ট্রাম্প। মধ্যস্থতায় পাকিস্তান। ঘোষণার পরই উল্লাসের ছবি ইরানে।

ট্রাম্পের ওই ঘোষণার পরই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতোবা খামেইনি দেশের মানুষকে এখনই উল্লাস করতে নিষেধ করেছেন। ইরান সেনাকে গোলাগুলি থামাতে বলেছেন। পাশাপাশি তিনি ইসরায়েল ও আমেরিকাকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যুদ্ধ বিরতির অর্থ এই নয় যে লড়াই শেষ। ইসরায়েল ও আমেরিকা যদি কোনও গোলমাল করে তাহলে ইরানের হাত ট্রিগারেই থাকবে।

ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ যত গড়িয়েছে ততই আমেরিকা বুঝতে পেয়েছে ইসরায়েলের ফাঁদে পড়ে ইদুঁর কলে পড়ার দশা হয়েছে তাদের। ফ্রান্স, ব্রিটেন, স্পেনের মতো নেটোভূক্ত দেশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ট্রাম্পের সঙ্গে তারা নেই। এই লড়াই আমেরিকার। গত কয়েকদিন ধরে বোঝাই যাচ্ছিল আমেরিকা আর যুদ্ধের খরচ নিতে পারছে না। দৈনিক প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়ে যাচ্ছিল। চাপ তীব্র হচ্ছে দেশের মাটিতে।

ভারত-পাক সংঘর্ষ নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন তাঁর চাপেই সংঘর্ষ বন্ধ করেছেন  নরেন্দ্র মোদী। তিনি নাকি রাশিয়া থেকে ভারতে তেল কিনতে অনুমতি দিয়েছেন। তাই ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বিরতি নিয়ে ট্রাম্পের যে বিবৃতি সেটিও তেমনই গোলমেলে।

যুদ্ধ বিরতি নিয়ে কী বিবৃতি দিয়েছেন ট্রাম্প?

“পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সাথে আমার কথা হয়েছে। তাঁদের অনুরোধে এবং ইরান যদি হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে, সম্পূর্ণভাবে এবং নিরাপদভাবে খুলে দিতে রাজি থাকে—তবে আমি আজ রাতে ইরানে যে ধ্বংসাত্মক হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম, তা স্থগিত করতে রাজি হয়েছি। আগামী দুই সপ্তাহের জন্য এই আক্রমণ স্থগিত থাকবে এবং এটি একটি দ্বিপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি হবে।

আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি কারণ আমাদের সামরিক লক্ষ্যগুলো ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে। এছাড়া ইরানের সাথে দীর্ঘমেয়াদী শান্তি স্থাপন এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত চুক্তির খুব কাছাকাছি আমরা পৌঁছে গেছি। ইরান আমাদের কাছে ১০ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি বলে আমরা মনে করি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অতীতের প্রায় সব মতভেদ মিটে গেছে। এই দুই সপ্তাহ সময় আমাদের চুক্তিটি চূড়ান্ত করতে সাহায্য করবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিনিধি হিসেবে আমি মনে করি, এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানের পথে থাকা একটি সম্মানের বিষয়। আপনাদের মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ!–প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প”

এখন বড় প্রশ্ন হরমুজ প্রণালী কী খুলবে ইরান?

আমেরিকার সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরান শর্তসাপেক্ষে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দিতে রাজি হয়েছে। আগামী ১৪ দিনের জন্য এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে শর্ত হল, প্রতিটি জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সাথে সমন্বয় করতে হবে। ইরান সরকার জানিয়েছে যে, এই সুবিধাটি তখনই কার্যকর থাকবে যদি যুক্তরাষ্ট্র এবং তার মিত্ররা ইরানি ভূখণ্ডে সব ধরনের সামরিক হামলা বন্ধ রাখে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি নিশ্চিত করেছেন যে, হামলা বন্ধ হলে তেহরান নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করবে। তবে কর্মকর্তারা আগেই ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, দীর্ঘমেয়াদী আলোচনা ছাড়া শুধুমাত্র সাময়িক যুদ্ধবিরতির জন্য তারা স্থায়ীভাবে এই পথ খুলে দেবেন না।

এদিকে, পাকিস্তানের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় আলোচনার এই সুযোগ তৈরি হয়েছে। আগামী ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। সেই আলোচনায় ১০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। সেগুলি হল—

হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ যেতে গেলে ইরানের সঙ্গে কথা বলেই যেতে হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলি থেকে মার্কিন সেনা ঘাঁটি সরিয়ে নিতে হবে।

হেজবুল্লাহ, হামাস ও হুতিদের ওপর হামলা বন্ধ করতে হবে।

ইরানের বিরুদ্ধে সব নিষেধাজ্ঞা বাতিল করতে হবে। রাষ্ট্র সংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সব বিরোধী প্রস্তাব তুলে নিতে হবে।

ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বিভিন্ন সামরিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

ইসলামাবাদে সমঝোতা হওয়া প্রতিটি বিষয়কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি ‘বাধ্যতামূলক রেজুলেশন’ হিসেবে পাস করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কোনো পক্ষ এর থেকে সরে যেতে না পারে।

(Feed Source: zeenews.com)