‘টেকনিসিয়ান্স হাউ হাউ করে কাঁদছেন, আমাদের কী দোষ ছিল?’, ধারাবাহিক বন্ধ হওয়া নিয়ে সরব রাজা!

‘টেকনিসিয়ান্স হাউ হাউ করে কাঁদছেন, আমাদের কী দোষ ছিল?’, ধারাবাহিক বন্ধ হওয়া নিয়ে সরব রাজা!

 

কলকাতা: তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত, রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Banerjee) বিতর্কের জেরে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হল, শৈবাল বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও লীনা গঙ্গোপাধ্য়ায়ের প্রযোজনা সংস্থা Magic Moments Motion Pictures-কে। এই প্রযোজনা সংস্থার ছাতার তলাতেই ছিল ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ আর ‘চিরসখা’। প্রশ্নের মুখে Organinc Studios Pvt Limited-এর ধারাবাহিক ‘কনে দেখা আলো’-ও। আজ বন্ধ রয়েছে এই ধারাবাহিকের শ্যুটিং। অন্যদিকে ইতিমধ্যেই ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে, বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ আর ‘চিরসখা’। ইতিমধ্যেই ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ -র সম্প্রচার শেষ হয়ে গিয়েছে। রবিবার শেষ সম্প্রচার হবে ধারাবাহিক ‘চিরসখা’-র। আর এবার, ধারাবাহিক বন্ধ হয়ে যাওয়া নিয়ে, ফেসবুক লাইভে এসে বিস্ফোরক অভিনেতা রাজা গোস্বামী (Raja Goswami)। 

সোশ্যাল মিডিয়ায় আজ একটি লম্বা ফেসবুক লাইভ করেন রাজা। সেখানে তিনি প্রশ্ন রাখেন, ঠিক কার দোষে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ধারাবাহিক ‘চিরসখা’? রাজার কথায়, ‘গতকাল (মঙ্গলবার) ঘোষণা করে দেওয়া হয় ‘চিরসখা’ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যা হয়েছে, সেটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু বলুন, আমাদের কী দোষ ছিল? এখানে যে টেকনিশিয়ান্সরা ছিলেন, তাঁদের কি দোষ ছিল? শ্যুটিং বন্ধ হয়ে গেলে, আমাদের সমস্যা নেই। মধুবনী (রাজার স্ত্রী ও অভিনেত্রী) দীর্ঘদিন শ্যুটিং করেনি। আর শ্যুটিং থেকে যে আয় হয়, সেটা আমাদের রোজগারের ১৫-২০ শতাংশ। কিন্তু আমি গতকাল একজ টেকনিশিয়ান্সকে ফোন করেছিলাম। উনি হাউ হাউ করে কাঁদছিলেন। বলছিলেন, ‘দাদা আমার ২টো মেয়ে রয়েছে। গতকাল রাতে আমার স্ত্রী আমায় বলেছে, চলো আমরা ৪ জন মিলে আত্মহত্যা করি। এছাড়া আর কোনও উপায় নেই।’ এরপর থেকে গত রাতে আমি ঘুমাতে পারিনি। শ্যুটিং না করলে আমার কিছু যায় আসে না। কিন্তু আমার যায় আসে.. আমার ছেলে যখন বড় হবে, তখন সে জানবে যে, এইরকম একটা ঘটনা ঘটল। কিন্তু আমার বাবার কাছে টাকাপয়সা, ফলোয়ার্স থাকলেও বাবা কিছু বলেনি।’

রাজা আরও বলেন, ‘টেকনিশিয়ান্সদের দিনে কত আয় থাকে? গত সপ্তাহেই একজন টেকনিশিয়ান্স বলছিলেন, তাঁর মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করাতে হবে। আর একজন টেকনিশিয়ান্স বলছিলেন, তাঁর পায়ের অস্ত্রোপচার হবে। তাঁরা কী করবেন? টেকনিশিয়ান্স থেকে আর্টিস্ট.. কারোরই খুব একটা ভাল অবস্থা হয়। কারোরই বেশি সঞ্চয় থাকে না। অভিনয়ের ওপর আমি আর্থিকভাবে নির্ভরশীল নই, কিন্তু অভিনয়টা আমার ভালবাসা। একটা নির্দেশ আমার থেকে আমার ভালবাসাকে কেড়ে নিতে পারে না। আমি জীবনে ঝুঁকি নিয়েছি। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েও অভিনয় করতে এসেছি। কিন্তু অনেক অভিনেতা, টেকনিশিয়ান্সদের কাছে ধারাবাহিকটাই রুজিরুটি। এখনও যদি প্রতিবাদ না করি, এখনও যদি স্বার্থপর হয়ে থাকি, তাহলে আর কবে করব?’

(Feed Source: abplive.com)