)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ক্যানসার (Cancer), যে মারণ রোগের নামই বুকে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়। ক্যানসার নিয়ে বিস্তর গবেষণা চলছে বিশ্ব জুড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিরাট অগ্রগতি হলেও ক্যানসারের ১০০ শতাংশ নিশ্চিত প্রতিকার এখনও আবিষ্কৃত হয়নি। আসলে ক্যানসার কোনও একক রোগ নয়, এটি শতাধিক ভিন্ন ধরনের রোগের সমষ্টি। ক্যানসার পুরোপরি সারবে এরকম কোনও অষুধই নেই। তবে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে গবেষণায়। যেখানে বলা হচ্ছে-সিঙ্গলদেরই ক্যানসারের ঝুঁকি তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি। মারণ রোগের হাত থেকে বাঁচাতে পারে বিয়ে।
ক্যানসার রিসার্চ কমিউনিকেশনসের (Cancer Research Communications) জার্নালের সদ্য় প্রকাশিত রিপোর্ট এমনটাই বলছে। গবেষকদের মতে অবিবাহিত পুরুষদের ক্যানসারের ঝুঁকি ৬৮ শতাংশ বেশি। আর নারীদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি প্রায় ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ, বিবাহিত, ডিভোর্সড বা বিপত্নীক/স্বামীহীনাদের তুলনায় অবিবাহিতদের ঝুঁকি অনেকটাই বেশি। এই তথ্য নতুন করে আলোচনায় এনেছে—বিয়ে ও স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক ঠিক কতটা গভীর। বিয়ে শুধু মানসিক সঙ্গই দেয় না, দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে। এমনই ইঙ্গিত নতুন গবেষণায়।
কেন বিয়ে ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে?
বিশেষজ্ঞরা এর নেপথ্যে একাধিক কারণ দিয়েছেন। আগে বিয়ে প্রায় জীবনের স্বাভাবিক বিষয় ছিল। তবে বর্তমানে এখন বিয়ের হার অনেকটাই কমেছে। ফলে অনেকেই সেই ‘সুরক্ষার ছাতা’ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে সামাজিক সহায়তা। বিবাহিত মানুষের পাশে সাধারণত এমন একজন থাকেন, যিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ক্যানসার স্ক্রিনিং বা অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসার জন্য উৎসাহ দেন। গবেষণার প্রধান লেখক পাওলো এস. পিনহেইরোর মতে, অবিবাহিতরা তুলনামূলক ভাবে বেশিই সামাজিক ভাবে একাকী। ফলে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার দিকেও তাঁদের নজর কম। এছাড়া বিয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনেরও সম্পর্ক আছে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে। বিবাহিতদের মধ্যে ধূমপান, অতিরিক্ত মদ্যপান বা ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের প্রবণতা কম। অথচ এই অভ্যাসগুলিই ফুসফুস বা জরায়ুর ক্যানসারের বড় কারণ।
নারীদের ক্ষেত্রে চমকে দেওয়া ফল
ক্যানসার সংক্রান্ত অতীতের বহু গবেষণা বলছে যে, বিয়ের সুফল পুরুষরাই বেশি পান জীবনে। কিন্তু নয়া গবেষণা বলছে যে নারীরাই আরও বেশি বিয়ে করে সুরক্ষিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞ ব্র্যাড উইলকক্স এই ফলকে ‘খুবই তাৎপর্যপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে এর পিছনে জৈবিক ও প্রজননজনিত কারণও থাকতে পারে। গবেষকদের বক্তব্য, যেসব নারী কখনও সন্তান জন্ম দেননি, তাঁদের মধ্যে ওভারি বা এন্ডোমেট্রিয়াল ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা বেশিই।
জাতিগত ও সাংস্কৃতিক দিক
গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে যে, কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষরা বিয়ের সুফল সবচেয়ে বেশি পান। বিজ্ঞানীদের মতে এর নেপথ্যে পরিবারভিত্তিক সহায়তা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঙ্গিনী বা পরিবারের সদস্যরা অনেক সময় রোগের প্রাথমিক লক্ষণ বুঝতে সাহায্য করেন, দ্রুত পরীক্ষা করান এবং চিকিৎসা চালিয়ে যেতে মানসিক ভরসা দেন।
মারণ রোগের হাত থেকে বাঁচার উপায় বিয়ে?
ক্যানসারের সব বিশেষজ্ঞ একমত নন যে, বিয়েই সরাসরি ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। অনেকের মতে বিয়ের সঙ্গে যুক্ত কিছু সামাজিক সুবিধাই আসল কারণ। যেমন—ভালো স্বাস্থ্যবিমা, চিকিৎসার সহজ সুযোগ, আর্থিক স্থিতি। এখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পক্ষপাতও কিন্তু বড় বিষয়। অনেক সময় একা থাকা রোগীদের সম্পর্কে ভুল ধারণা করা হয়—যেমন, তাঁদের দেখভাল করার কেউ নেই। এতে চিকিৎসায়ও পার্থক্য তৈরি হতে পারে। আসল কথা—সমর্থনই সবচেয়ে জরুরিশেষ পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা একমত, আসল সুরক্ষা দেয় সামাজিক সমর্থন—শুধু বিয়ে নয়। পরিবার, বন্ধু বা সমাজ—যেখান থেকেই হোক, মানসিক ও ব্যবহারিক সহায়তা থাকলে ক্যানসার প্রতিরোধ, দ্রুত ধরা পড়া এবং চিকিৎসা—সব ক্ষেত্রেই ফল ভালো হতে পারে। বিশ্বজুড়ে বিয়ের হার কমছে। তাই গবেষকদের মতে, এখন জোর দেওয়া উচিত—সবার জন্য শক্তিশালী সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসায় সহজ প্রবেশাধিকার এবং অবিবাহিতদের নিয়ে সামাজিক ধারণা বদলানো—এসবই ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিয়ে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে ঠিকই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—ভালোবাসা, যত্ন আর পাশে থাকার মানুষ। এটাই মোদ্দা কথা।
(Feed Source: zeenews.com)
