জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আবহে সাধারণ মানুষের হেঁশেলে স্বস্তি ফেরাতে এক অভিনব প্রস্তাবনা নিয়ে এল ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (CTI)। মুদ্রাস্ফীতির চাপে যখন মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়, তখন রান্নার গ্যাসের ওপর থেকে জিএসটি (GST) বা কর সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়ার জোরালো দাবি জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে।
এলপিজি সিলিন্ডারের দামে কমছে?
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে জ্বালানি তেলের বাজারে। আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সংঘাত বিশ্বব্যাপী গ্যাস সরবরাহ শৃঙ্খলে বড়সড় ফাটল ধরিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে ভারতের সাধারণ নাগরিকদের স্বস্তি দিতে ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (সিটিআই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে এক বিশেষ সংস্কারের দাবি জানিয়েছে। তাদের প্রস্তাব—রান্নার গ্যাস (LPG) এবং পাইপলাইনের গ্যাস (PNG)-কে সম্পূর্ণভাবে করমুক্ত করা হোক।
করমুক্ত এলপিজি: কত কমতে পারে দাম?
সিটিআই-এর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সরকার যদি তাদের এই প্রস্তাব মেনে নেয়, তবে সিলিন্ডার পিছু দামের ক্ষেত্রে এক বিশাল পরিবর্তন আসবে। বর্তমানে বাণিজ্যিক ও গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের ওপর যে কর কাঠামো রয়েছে, তা তুলে দিলে মধ্যবিত্ত ও ব্যবসায়ী উভয়েই ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন।
বাণিজ্যিক সিলিন্ডার:
বর্তমানে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ওপর ১৮% জিএসটি ধার্য করা হয়। সিটিআই জানিয়েছে, এই কর তুলে দেওয়া হলে বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৩১৭ টাকা কমে যেতে পারে। এটি সরাসরি রেস্তোরাঁ, ছোট ছোট হোটেল এবং ক্যাটারিং ব্যবসার খরচ কমিয়ে দেবে।
গার্হস্থ্য সিলিন্ডার:
সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত গৃহস্থালি সিলিন্ডারের ওপর ৫% জিএসটি রয়েছে। যদি এই কর প্রত্যাহার করা হয়, তবে প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৪৩ টাকা সাশ্রয় হবে গ্রাহকদের। মুদ্রাস্ফীতির এই সময়ে ৪৩ টাকার এই সাশ্রয় মধ্যবিত্তের মাসিক বাজেটে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জ্বালানি সংকট
সিটিআই-এর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি জ্বালানি তেলের অভাবকে তীব্র করে তুলেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাতের জেরে গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।
এই সংকটের কারণে বিশ্ববাজারে এলপিজি-র মূল দাম বা ‘বেস প্রাইস’ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সংস্থাটির মতে, যেহেতু আন্তর্জাতিক বাজার দর কমানো ভারতের একার হাতে নেই, তাই অভ্যন্তরীণ কর কমিয়ে নাগরিকদের সরাসরি সুরাহা দেওয়া সরকারের কর্তব্য।
জিএসটি কাউন্সিল
সিটিআই চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল জানিয়েছেন, লজিস্টিক ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ব্যয় বাড়ার কারণে এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে।
এমতাবস্থায় এলপিজি ও পিএনজি-কে জিএসটি-র আওতা থেকে বের করে এনে করমুক্ত ঘোষণা করা হলে সাধারণ মানুষের হাতে বাড়তি টাকা থাকবে। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন যেন পরবর্তী জিএসটি কাউন্সিলে এই বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়।
স্বস্তির অপেক্ষায় দেশবাসী
যদি কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রস্তাবটি বিবেচনা করে এবং বাণিজ্যিক ও গার্হস্থ্য সিলিন্ডার করমুক্ত হয়, তবে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক সংস্কার।
সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ছোট ব্যবসায়ীরাও এই সিদ্ধান্তে নতুন প্রাণের সঞ্চার পাবেন। তবে এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক সংকটের এই আবহে দেশের রাজস্বের ভারসাম্য বজায় রেখে কেন্দ্রীয় সরকার এই কর ছাড়ের পথে হাঁটে কি না।
যদি এই দাবি বাস্তবায়িত হয়, তবে সিলিন্ডারের দামে এক বিশাল ধস দেখার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা কোটি কোটি ভারতীয় গ্রাহকের জন্য এক পরম আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে।
(Feed Source: zeenews.com)
