‘লাল’, ‘হলুদ’, ‘কমলা’ সতর্কতা…! কোনটির কী ‘মানে’ জানেন? আবহাওয়া দফতর কখন জারি করে কোন ‘অ্যালার্ট’? জানুন!

‘লাল’, ‘হলুদ’, ‘কমলা’ সতর্কতা…! কোনটির কী ‘মানে’ জানেন? আবহাওয়া দফতর কখন জারি করে কোন ‘অ্যালার্ট’? জানুন!

Red Yellow Orrange Alert: লাল, হলুদ, কমলা সতর্কতার কোনটার কী অর্থ বলুন তো? আবহাওয়া দফতর কেন জারি করে ‘লাল’, ‘কমলা’, ‘হলুদ’ সতর্কতা? নীল বা কালো সতর্কতা কেন জারি করা হয় না? জানুন আসল ‘উত্তর’!

আবহাওয়ার চরম সতর্কতা দেশ জুড়ে। গরমের শুরুতেই বৃষ্টির দাপট। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার হুঁশিয়ারি বাংলা-সহ দেশের একাধিক রাজ্যে। হালকা থেকে ভারী বর্ষণ অব্যাহত বাংলার জেলায় জেলায়। ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ বাংলা-সহ একাধিক রাজ্যে বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে।

এরইমধ্যে আবহাওয়া দফতর কিছু জায়গায় হলুদ এবং কিছু জায়গায় কমলা সতর্কতা জারি করেছে। অনেক সময় জারি করা হয় রেড অ্যালার্ট। চৈত্র-বৈশাখ মাসের এই সময় বারবারই নানা সতর্কতা জারি করা হচ্ছে আবহাওয়া দফতরের তরফে। যা শুনে অনেকের মনেই নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগে, কোন পরিস্থিতিতে কী ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়? এর মানেই বা কী?

আসলে আবহাওয়া বিভাগ আবহাওয়ার পরিস্থিতি সম্পর্কে মানুষকে সতর্ক করার জন্য হলুদ, কমলা এবং লাল সতর্কতা জারি করে। এই প্রতিটি সতর্কতারই কিন্তু নিজস্ব নির্দিষ্ট অর্থ রয়েছে। এই সতর্কতা জারি করার পিছনে মূলত সরকারের লক্ষ্য থাকে জীবন ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি কমানো। আসুন জেনে নেওয়া যাক কখন, কোন সতর্কতা আর কেন জারি করা হয়।

বস্তুত, মৌসম ভবন প্রতি ঋতু অনুসারে তিনটি সতর্কতা জারি করে। লাল, কমলা এবং হলুদ সতর্কতা। এগুলি ছাড়াও, একটি গুরুতর সতর্কতা রয়েছে, যা প্রায় কেউই জানেন না। জেনে নেওয়া যাক কী সেই সতর্কতা? আর কেনই বা কালো বা নীল সতর্কতা হয় না?

হলুদ সতর্কতা: আবহাওয়া সম্পর্কিত বিপদের প্রাথমিক অ্যালার্ট হিসাবে বিবেচিত হয় এই ‘হলুদ’ সতর্কতা। যখনই আবহাওয়া দফতর হলুদ সতর্কতা জারি করে, তখনই মানুষ জনকে ন্যূনতম সতর্ক হতে বলে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক স্থানীয় নাগরিকের তাঁর এলাকার আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি।

এছাড়াও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। হলুদ সতর্কতা জারি করার উদ্দেশ্য আসলে মানুষকে সচেতন করা। এর অর্থ, আপনি এক্ষুনি বিপদে নেই। কিন্তু আবহাওয়ার পরিস্থিতি দেখে, আপনার স্থান এবং চলাচলের বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত।

কমলা সতর্কতা: আবহাওয়া আরও একটু খারাপ হলে এই সতর্কতা জারি করে আবহাওয়া দফতর। অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করার উদ্দেশ্য হল এখন শুধু আবহাওয়ার দিকে নজর রাখতে হবে না বরং এখানে-ওখানে যাওয়া এড়িয়ে চলাই কাম্য এই এলাকায় এবং একান্তই যাওয়ার প্রয়োজন হলে সেক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।

লাল সতর্কতা: যখন আবহাওয়া আরও খারাপ হয় এবং ভারী ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে, তখন আবহাওয়া দফতর একটি রেড অ্যালার্ট জারি করে। রেড অ্যালার্ট জারি হওয়ার পরে, এই সতর্কতা অনুযায়ী আবহাওয়া দফতরের দেওয়া সমস্ত নিয়ম এবং নির্দেশিকা অনুসরণ করতে হবে।

এরপর আবহাওয়া দফতর থেকে সবুজ সঙ্কেত পেলেই বাড়ি থেকে বের হওয়া উচিত। খুবই গুরুতর পরিস্থিতিতে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়। রেড অ্যালার্ট মানে বড় ক্ষতি হতে পারে। যদি বর্ষাকালে এই সতর্কতা জারি করা হয়, তবে এটি স্পষ্ট যে বন্যা, ঝড় বা ক্ষতিকারক বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে এই রিপোর্টে।

সবুজ সতর্কতা: এই গ্রিন সতর্কতার কথা প্রায় কেউই জানেন না। আসলে দুর্যোগের পর আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে মৌসম বিভাগ সবুজ সতর্কতা পাঠায়। এর মানে হল, এই সময় অল্প বৃষ্টি হলেও আপনি এখন নিরাপদ বোধ করতে পারেন। তাই এটি সতর্কতা হিসাবে সেভাবে ব্যবহার করা হয় না।

নীল বা কালো সতর্কতা কেন জারি করা হয় না?আবহাওয়া দফতরের সিস্টেমে নীল বা কালো সতর্কতা অন্তর্ভুক্ত নেই, কারণ এই রংগুলো মনস্তাত্ত্বিক এবং বৈজ্ঞানিক বিবেচনার ভিত্তিতে নির্বাচন করা হয়। নীল রংকে সাধারণত শান্তি ও শীতলতার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা কোনও ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বোঝানোর জন্য উপযুক্ত নয়। এটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, কালো রং শোক, মৃত্যু বা সম্পূর্ণ ধ্বংসের সঙ্গে সম্পর্কিত। কালো রং ব্যবহার করলে অহেতুক আতঙ্ক ছড়াতে পারে, সেই কারণেই এই রংগুলো বেছে নেওয়া হয় না আবহাওয়ার সতর্কতা বোঝাতে।

(Feed Source: news18.com)