
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ট্যাক্সি চালক প্রেমিকের সঙ্গে মিলে নিজের ব্যাংককর্মী স্বামীকে খুনের ষড়যন্ত্র। ইতোমধ্যেই পুলিস তাদের গ্রেফতার করেছে। ভুক্তভোগী কর্ণভ খত্রী ICICI ব্যাংকের রিজিওনাল হেড হিসেবে কর্মরত।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩২ বছর বয়সী ব্যাংকার কর্ণভ খত্রীর সঙ্গে ২০১৮ সালে অর্চনার বিয়ে হয়। তাঁদের দুটি সন্তান রয়েছে। কর্ণভ কর্মসূত্রে জয়পুরে থাকতেন। অভিযোগ উঠেছে, বাড়ি থেকে জয়পুর যাতায়াতের সময় ট্যাক্সি চালক ঋষভ শর্মার সঙ্গে অর্চনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অর্চনা মোটা টাকা ও গয়না নিয়ে ছোট ছেলেকে সঙ্গে করে ঋষভের সঙ্গে পালিয়ে যান।
পুলিসের কাছে দেওয়া অভিযোগে কর্ণভ জানান, চলতি বছরের মার্চ মাসে ঋষভ তাঁকে ট্যাক্সিতে করে জয়পুর নিয়ে যাওয়ার পথে চলন্ত গাড়িতে তাঁকে খুনের চেষ্টা করেন। শুধু তাই নয়, হোয়াটসঅ্যাপ কলের মাধ্যমে তাঁকে প্রতিনিয়ত প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। প্রমাণ হিসেবে কর্ণভ একটি অডিয়ো রেকর্ডিং পুলিসের কাছে জমা দিয়েছেন।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। ঋষভ যখন অন্য একটি মামলায় জেল খাটছিলেন, তখন অর্চনা তাঁর স্বামীর বাড়িতে একটি হুমকিমূলক চিঠি পাঠান। চিঠিতে অর্চনা দাবি করেন, ‘ঝামেলা মেটানোর জন্য আগে ৩০ লক্ষ টাকা চেয়েছিলাম, কিন্তু তুমি ঋষভকে জেলে পাঠিয়েছ। এবার ৫০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। টাকা না দিলে তোমাকে ও তোমার মাকে খুন করে বাচ্চাদের অনাথ আশ্রমে পাঠিয়ে দেব।’
বৃহস্পতিবার আলওয়ারের এনইবি (NEB) থানার পুলিস দুজনকে গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করে। আদালত অর্চনাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং ঋষভকে এক দিনের পুলিসি রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিস পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশে ধার এলাকায় প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করে স্ত্রী। প্রথমে অভিযুক্তরা গোটা ঘটনাটিকে ডাকাতি বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী তদন্তে পুলিসের সামনে আসে আসল হাড়হিম সত্যি। জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল রাতে ২৮ বছর বয়সী দেবকৃষ্ণকে তাঁর নিজের বাড়িতেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। নিহতের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা পুরোহিত পুলিসকে জানিয়েছিলেন যে, বাড়িতে ডাকাত দল ঢুকেছিল। তারা প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার গয়না ও নগদ টাকা লুট করে এবং বাধা দেওয়ায় তার স্বামীকে খুন করে।
কিন্তু প্রিয়াঙ্কার বয়ানে অসংগতি ধরা পড়ায় রহস্য বেরিয়ে আসতে বেশি সময় লাগেনি। দেবকৃষ্ণের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘকাল ধরেই দেবকৃষ্ণ এবং প্রিয়াঙ্কার মধ্যে অশান্তি চলছিল। নিহতের বোন জ্যোতি অভিযোগ করেন, ২৫ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা প্রায়শই দেবকৃষ্ণকে তার গায়ের রঙ নিয়ে অপমান করতেন।
পুলিসি তদন্তে জানা যায়, প্রিয়াঙ্কা রাজগড়ের বাসিন্দা কমলেশের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। তারা দুজনে মিলেই দেবকৃষ্ণকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। কমলেশ তার সহযোগী সুরেন্দ্র ভাটিকে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দেবকৃষ্ণকে মারার সুপারি দেয়। অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা। ঘটনার রাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘরের দরজা খোলা রাখা হয়েছিল। সুরেন্দ্র ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত দেবকৃষ্ণকে আক্রমণ করে। ঘটনাটিকে ডাকাতি হিসেবে সাজাতে আলমারি তছনছ করা হয়। প্রিয়াঙ্কা নিজেকে ‘ভিকটিম’ হিসেবে প্রমাণ করতে দাবি করেন যে, ডাকাতরা তাকে বেঁধে রেখেছিল।
(Feed Source: zeenews.com)
