West Bengal Assembly Election 2026: বিগ নিউজ: জাতীয় স্তরে আলোচিত দল ভাঙছে ভোটের মুখেই, প্রার্থী ঘোষণার পরেও পার্টি ছাড়লেন সভাপতি

West Bengal Assembly Election 2026: বিগ নিউজ: জাতীয় স্তরে আলোচিত দল ভাঙছে ভোটের মুখেই, প্রার্থী ঘোষণার পরেও পার্টি ছাড়লেন সভাপতি

প্রবীর চক্রবর্তী:  ভোটের আগে এমন দিন হুমায়ুন কবীর হয়তো চাননি।

বৃহস্পতিবার  TMC একটি ১৯ মিনিটের ভিডিয়ো প্রকাশ করল। সেই ভিডিয়োতে হুমায়ুন কবীরকে BJP নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলতে শোনা যাচ্ছে, সংখ্যালঘু ভোটারদের ‘বোকা বানানো সহজ’ বলে মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে। PMO-র সঙ্গে কথা, শুভেন্দু অধিকারী ও হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও উঠে এসেছে অভিযোগে।

হুমায়ুন অবশ্য পুরোটাই উড়িয়ে দিয়েছেন। বলেছেন ভিডিয়ো AI দিয়ে বানানো, আইনি লড়াই লড়বেন।

কিন্তু রাজনীতি অভিযোগের সত্যমিথ্যা বিচার করে না, গতি দেখে।

ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই ওয়েইসির AIMIM ঘোষণা করল, হুমায়ুন কবীরের দলের সঙ্গে তাদের জোট শেষ। মুসলমানদের সম্মান নিয়ে যে কোনও প্রশ্নের সঙ্গে AIMIM থাকতে পারে না, এই ছিল সাফ বক্তব্য।

আর ঠিক সেই দিনই একটি চিঠি পাঠালেন AJUP সভাপতি খোবায়েব আমিন। দলের চেয়ারম্যানকে লেখা সেই চিঠিতে তাঁর কথা সরল। পিরজাদা হিসেবে, একটি ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি হিসেবে তাঁর সমাজ ও ধর্মের প্রতি দায় আছে, রাজনীতিতে থাকলে সেই দায় পালন হচ্ছে না। তাই বিদায়।

কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সঙ্গীদের, শুভকামনা রেখেছেন দলের জন্য। কিন্তু চলে যাচ্ছেন।

হুমায়ুনের দলের সভাপতির পদত্যাগ

২০২৫-এর ডিসেম্বরে TMC থেকে বহিষ্কারের পর হুমায়ুন কবীর AJUP গড়েছিলেন, ঘোষণা করেছিলেন বিধানসভায় জোরালো লড়াইয়ের। AIMIM-কে সঙ্গে নিয়ে ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেই পরিকল্পনা এখন কার্যত ধুলোয়।

২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট। জোট নেই, সভাপতি নেই, দলের প্রতিষ্ঠাতাকে ঘিরে চলছে তীব্র বিতর্ক। এই মুহূর্তে হুমায়ুন কবীরের সামনে যে পরীক্ষা, তা শুধু ভোটের নয়, রাজনৈতিক অস্তিত্বেরও।

কী জানাল জনতা পার্টি

মিম-এর তাদের সঙ্গে এই সম্পর্ক ছিন্ন করা নিয়ে ‘জি ২৪ ঘণ্টা’কে হুমায়ূন কবীর যা জানালেন: ‘আমি এখনও ওয়াইসি সাহেবের থেকে এইরকম কোনও বার্তা পাইনি। আবার বলছি, ওই ক্লিপ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স দিয়ে তৈরি। আমি মুসলিমদের পাশেই আছি। আমি তাঁদের প্রতি কোনো আপত্তিকর কথা বা অপমানসূচক কথা বলিনি। সেক্ষেত্রে সত্যিই যদি মিম সরে যায় আম জনতা উন্নয়ন পার্টি একাই লড়বে।’

‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ + ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন’

প্রসঙ্গত, জল্পনা ছিল, সেই মতো ক’দিন আগে ঘোষণাও হয়ে গিয়েছিল যে, এবারের বিধানসভা ভোটে জোটবদ্ধ হচ্ছে হুমায়ুন কবীরের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ এবং আসাদউদ্দিন ওয়াইসি-র নেতৃত্বাধীন ‘অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন’ বা সংক্ষেপে ‘মিম’ (AIMIM)। এই AIMIM ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’-র জোটসঙ্গী হিসেবে প্রায় ৮টি আসনে প্রার্থী দেবে বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছিল। এর মধ্যে ছিল বীরভূমে ৩টি, মুর্শিদাবাদে ৩টি এবং মালদায় ২টি আসন।

মুসলিম ভোটাররা নির্ণায়ক?

ওদিকে হুমায়ুন কবীরের দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ ১৮২টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। হুমায়ুন কবীর নিজে রাজনগর এবং নওদা– এই দুই কেন্দ্র থেকে নির্বাচন লড়বেন। হুমায়ুন কবীরের দাবি, রাজ্যে ১১৪ বিধানসভা কেন্দ্রে মুসলিম ভোটাররা নির্ণায়ক ভূমিকা নেবেন।

কারণ, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি অসন্তুষ্ট। এমনকি তিনি এও দাবি করেছেন যে, তাঁর দল ক্ষমতায় এলে প্রথমবারের মতো একজন মুসলিম মুখ্যমন্ত্রী বা উপমুখ্যমন্ত্রী পাবে পশ্চিমবঙ্গ।

(Feed Source: zeenews.com)