
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাংলা চলচ্চিত্র জগতে এক আবেগঘন উদ্যোগের সাক্ষী হতে চলেছে দর্শক। প্রয়াত অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নির্মাতারা তাঁদের নতুন ছবি ‘ছবিওয়ালা’ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ছবির প্রদর্শনীতে কোনও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য থাকবে না—এমনটাই জানিয়েছেন নির্মাতা দল।
প্রথমে ছবিটির নাম রাখা হয়েছিল ‘নেগেটিভ’, যা গল্পের ভাবনার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হলেও রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক প্রয়াণ নির্মাতাদের গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। সেই শোক ও অনুভূতি থেকেই ছবির নাম বদলে রাখা হয় ‘ছবিওয়ালা’, যা এক শিল্পীর প্রতি আন্তরিক শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে উৎসর্গ করা হয়েছে।
নির্মাতাদের বক্তব্য, এই ছবি শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং এক শিল্পীর জীবন, সংগ্রাম এবং স্বীকৃতি না পাওয়া অবস্থায় তাঁর লড়াইয়ের প্রতিফলন। ছবির কাহিনিতেও এমন এক শিল্পীর গল্প উঠে এসেছে, যিনি জীবদ্দশায় স্বীকৃতি না পেলেও মৃত্যুর পর তাঁর কাজের মূল্যায়ন হয়। ছবির শেষ দৃশ্যে চরিত্রটির আত্মত্যাগের মুহূর্ত—জলে ডুবে মৃত্যু—বাস্তবের সঙ্গে এক অদ্ভুত মিল তৈরি করেছে, যা পুরো টিমকে আরও আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।
পরিচালক বাপ্পার পরিচালনায় শান্তনু নাথের গল্প ও চিত্রনাট্যে, ম্যাচস্টিক মোশন পিক্চার্স নিবেদিত ও A4J ফিল্ম্স প্রযোজিত এই ছবি। অভিনয়ে রয়েছেন রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবলীনা দত্ত, বিশেষ উপস্থিতিতে শ্রীলেখা মিত্র, শান্তনু নাথ, রানা বসু ঠাকুর, রিমি দেব, খালেদ মেহমূদ তূর্জো, অর্পণ বোস ও আরাধনা জানা। চিত্রগ্রহণে অপু মুখার্জি, শিল্প নির্দেশনায় নীল কৌশিক, গীতিকথা ও সঙ্গীত পরিচালনায় সৌম্য ৠত, রূপসজ্জায় সৃষ্টিকা বিশ্বাস, সম্পাদনা ও রঙ বিন্যাসে সায়ন্তন নাগ। প্রচ্ছদ অঙ্কনে গ্রে ম্যাটার এবং গণমাধ্যম প্রচারে রানা বসু ঠাকুর।
নির্মাতাদের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের পেছনে কোনও ব্যক্তিগত প্রচার বা আর্থিক লাভের উদ্দেশ্য নেই। তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিকে সম্মানের সঙ্গে দর্শকের মনে বাঁচিয়ে রাখা। সেই কারণেই তাঁরা প্রেক্ষাগৃহে বিনামূল্যে ছবিটি দেখানোর পরিকল্পনা করেছেন এবং হল মালিক ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সহযোগিতা চেয়েছেন।
এই ছবির নির্মাণযাত্রাও ছিল অত্যন্ত কঠিন। সীমিত বাজেট, সময়ের চাপ এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও টিমের একাগ্রতা ও ভালোবাসায় ছবিটি সম্পূর্ণ হয়েছে। নির্মাতাদের আশা, দর্শক এই ছবির সঙ্গে আবেগের স্তরে যুক্ত হবেন এবং গল্পটি তাঁদের মনে দাগ কাটবে।
ছবিটির সংগীত পরিচালনা করেছেন সৌম্যঋত, যেখানে প্রতিটি সুর ও ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর গল্পের আবেগকে আরও গভীর করেছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, গায়ক রূপম ইসলাম-এর কণ্ঠে একটি গান, যা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। এছাড়াও কণ্ঠ দিয়েছেন সোমলতা আচার্য্য এবং জোজো মুখার্জি।
নির্মাতার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় উঠে এসেছে, তাঁর প্রথম ছবি ‘শহরের উপকথা’-র সময় রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ই তাঁকে শিল্প জগতে প্রতিষ্ঠা পেতে সাহায্য করেছিলেন। নতুন শিল্পীদের প্রতি তাঁর বিশ্বাস ও সমর্থনই ছিল অনেকের পথচলার শক্তি।
বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির কাছে নির্মাতাদের আবেদন—এই উদ্যোগকে সফল করতে সকলে যেন পাশে থাকেন। তাঁদের আশা, ‘ছবিওয়ালা’ শুধু একটি ছবি হয়ে থাকবে না, বরং হয়ে উঠবে এক শিল্পীর অসমাপ্ত স্বপ্ন, তাঁর লড়াই এবং তাঁর চিরন্তন সত্তার প্রতিচ্ছবি।
(Feed Source: zeenews.com)
