
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আইপিএলের (IPL 2026) মাঝে আচমকাই অবসরের সিদ্ধান্ত তাঁর। শরীর সায় দিচ্ছে না বলেই বিরাট ঘোষণা দলের মহানক্ষত্রের। আচমকাই এই বিরাট খবরে তুমুল শোরগোল পড়ে গেল বাইশ গজে। আফগানিস্তানের প্রিমিয়র স্পিনার রশিদ খান (Rashid Khan) জানিয়েছেন যে, পিঠের অস্ত্রোপচারের পর আর তিনি টেস্ট খেলার বিষয়ে খুব একটা আশাবাদী নন। চিকিৎসকের পরামর্শেই অতিরিক্ত খেলার চাপ (ক্রিকেটীয় পরিভাষায় এখন ওয়ার্কলোড) এড়াতে এমন ভাবনা তাঁর। ভবিষ্যতে যুদ্ধবিধ্বস্ত ক্রিকেটীয় দেশের নায়ককে টেস্টে না দেখার সম্ভাবনাই প্রবল। গত বুধবার নয়াদিল্লিতে গুজরাত টাইটান্সের হয়ে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ম্যাচ জেতানো স্পেলেই (১৭ রানে ৩ উইকেট) ফের জাত চিনিয়েছেন রশিদ। খেলার পর মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে রশিদ তাঁর কেরিয়ার নিয়ে বড় সিদ্ধান্তের কথা ভাগ করে নিয়েছেন।
কী বলছেন রশিদ?
জুন মাসে নিউ চণ্ডীগড়ে ইন্ডিয়া-আফগানিস্তান একটিই টেস্ট খেলবে। তবে সেই ম্যাচে রশিদের খেলা নিয়ে প্রবল সংশয় রয়েছে। রশিদ নিজেই জানিয়েছেন যে, ওই টেস্টে তাঁর না খেলার সম্ভাবনাই বেশি। ২০১৮ সালে ভারতের বিরুদ্ধে আফগানিস্তান তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অভিষেক টেস্ট ম্যাচ খেলেছিল। সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের অংশ ছিলেন রশিদও। এবারও ভারতের বিরুদ্ধে তিনি টেস্ট দলে আছেন। তবে চোট এবং ফিটনেসের জোড়া বাউন্সারে ধরাশায়ী রশিদ। তিনি বলেছেন, ‘দেখুল লাল বলের ক্রিকেট খেলা আমার পক্ষে এখন একটু চাপেরই। কারণ আমার ডাক্তার প্রথমেই বলেছেন যে, লাল বলের ক্রিকেট থেকে দূরে থাকো। আমি সার্জারির পরেও জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে খেলেছিলাম এবং ৬৭ ওভার বলও করেছি। যেটা নিছকই পাগলামি ছিল। এরপর ডাক্তার আমাকে বলেছেন, তুমি যদি আর ক্রিকেট খেলতে না চাও, তাহলেই তুমি শুধু লাল বলের ক্রিকেট খেলে যাও। ডাক্তারের বারণ সত্ত্বেও আমি টেস্ট খেললাম। কিন্তু যখন তিনি জানতে পারলেন যে, আমি দুই ইনিংসে মিলিয়ে মোট ৬৭ ওভার বল করেছি, তখন তিনি রীতিমতো স্তম্ভিত হয়ে যান!বলেন, নিজের শরীরের সঙ্গে এটা করতে পারো না।’ ২০১৭ সালে আইসিসি-র টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার পর থেকে আফগানিস্তান মোট ১২টি টেস্ট খেলেছে, যার মধ্যে রশিদ খেলেছেন মাত্র ৬টিতে।
সাদা বলেই ফোকাস রশিদের
রশিদ জানিয়েছেন যে, ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপেই তাঁর ফোকাস। সেভাবেই সাদা বলের সংস্করণে খেলার রাস্তা বানিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। রশিদের এই বিষয়ে সংযোজন,’আমি ২০২৭ সালের ওডিআই বিশ্বকাপ নিয়ে ভাবছি। আসলে ওয়ানডে ফরম্যাটটা আমি সত্যিই খুব উপভোগ করি। আফগানিস্তানের হয়ে দীর্ঘ সময় ওডিআই খেলার মতো ফিটনেস এখনও আমার আছে। কিন্তু কেরিয়ার দীর্ঘায়িত করতে চাইলে আমাকে বুঝে-শুনেই খেলতে হবে, নিজেকে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না। লাল বলের ক্রিকেট আমার কাছে একটু কঠিনই মনে হচ্ছে এই সময়ে। যদি বছরে একটা টেস্ট হয়, তাহলে আমি তা খেলতে পারি। কিন্তু এর বেশি সামলাতে পারব বলে আমার তো মনে হয় না। আমি চেষ্টা করব। কিন্তু টেস্ট খেললে ২০-২৫ ওভারের স্পেল প্রতিদিনই করতে হবে। শেষ দুই টেস্টে ১২৬ ওভার বল করেছি। যা সত্যিই অনেক বেশি। তাই আমি একটু ধীরে চলার নীতি নিয়েছি। নিজেকে বিশ্বকাপের জন্য তৈরি করছি। ভাবুন তো, টেস্ট খেলতে গিয়ে যদি আবার পিঠে কিছু একটা হয়ে যায়, তাহলে তো আমি ১০০ টেস্ট খেলতে পারব না। টেস্ট ক্রিকেটে আমার জন্য আলাদা করে কোনও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই।’
রশিদের চোটের সঙ্গে লড়াই চলছেই
সেই ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকেই পিঠের নীচের অংশের চোট ভোগাচ্ছে রশিদকে। ওডিআই বিশ্বকাপ চলাকালীন নিজের ফিটনেস মাত্র ৪০ শতাংশ ছিল রশিদের। কষ্ট সহ্য করেও খেলে যান তিনি। পরে লন্ডনে অস্ত্রোপচার করান। যদিও ২০২৪ সালের শুরুর দিকে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে তাঁর প্রত্যাবর্তন প্রাথমিক ভাবে সফলই মনে হয়েছিল, কিন্তু পরপর বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ এবং ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতার ধকল তাঁকে আবার কাবু করে দেয়। বোঝাই যায় যে, তাঁর সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় বড় ধাক্কা। দীর্ঘমেয়াদী ফিটনেস বজায় রাখার স্বার্থেই টেস্ট ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট ম্যাচে খেলেই রশিদ দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। ১১ উইকেট নেন। কিন্তু এরপর মরসুমের বাকি সময় তাঁকে বেশ লড়াই করেই কাটাতে হয়। পিঠের পুরনো চোটই বারবার মাথাচাড়া দিয়েছে। গতবছর আইপিএলে তিনি ভুগেছিলেন। দু’মাসের বিরতি নিয়ে রশিদ এখন সম্পূর্ণ ফিট। বুধবার তিনি ১৭ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট শিকার করে গুজরাট টাইটান্সকে ২১০ রানের লক্ষ্য ১ রানের ব্যবধানে রক্ষা করতে সহায়তা করেন; এর মধ্য দিয়ে দলটি তাদের টানা দুই ম্যাচের পরাজয়ের ধারা ভঙ্গ করে এবং আইপিএল ২০২৬-এ নিজেদের জয়ের খাতা খোলে।
(Feed Source: zeenews.com)
