Drowning Death Incident: ঝরনার পাশে ২৬: আবার জলেই ভয়ংকর কাণ্ড? পঁচিশ পেরনোর আনন্দে প্রকৃতির মাঝে উদযাপনে, মুহূর্তে শেষ

Drowning Death Incident: ঝরনার পাশে ২৬: আবার জলেই ভয়ংকর কাণ্ড? পঁচিশ পেরনোর আনন্দে প্রকৃতির মাঝে উদযাপনে, মুহূর্তে শেষ

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জন্মদিন মানেই আনন্দ, উদযাপন আর নতুন এক বছরে পা রাখা। কিন্তু ২৬তম জন্মদিনের সেই বিশেষ দিনই যে জীবনের শেষ দিন হয়ে দাঁড়াবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিজের ২৬তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে গিয়ে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার সিঙ্গিরেড্ডি সাই শ্রীহরিকৃষ্ণ (Singireddy Sai Sriharikrishna)।

উত্তর আমেরিকার মনোরম জলপ্রপাতে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে তলিয়ে যান সাই। এই ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে তাঁর পরিবার এবং আমেরিকায় থাকা প্রবাসী ভারতীয় মহলে।

দুর্ঘটনার বিবরণ:

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষে নিজের ২৬তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করতে বন্ধুদের একটি দলের সঙ্গে নিউ ইয়র্ক বা সংলগ্ন অঞ্চলের একটি জনপ্রিয় জলপ্রপাতে ঘুরতে গিয়েছিলেন হরিকৃষ্ণ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, জলপ্রপাতের সৌন্দর্য ক্যামেরাবন্দি করার সময় পাথরের ওপর দিয়ে হাঁটছিলেন– ঠিক সেসময়ই হঠাৎই তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান। পিচ্ছিল পাথরের ওপর দিয়ে পা পিছলে তিনি সরাসরি জলপ্রপাতের নিচে তীব্র স্রোতের মধ্যে পড়ে যান। বন্ধুরা তৎক্ষণাৎ তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও জলের প্রবল ঘূর্ণি এবং গভীরতার কারণে তা সম্ভব হয়নি।

উদ্ধারকাজ:

খবর পাওয়ার পরপরই স্থানীয় পুলিস এবং উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বেশ কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর ডুবুরিরা হরিকৃষ্ণের নিথর দেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বসন্তের শেষে বরফ গলা জলের কারণে জলপ্রপাতগুলোতে এখন জলস্তর অনেক বেশি এবং স্রোত অত্যন্ত তীব্র। এই পরিস্থিতিতে পাথরের কাছাকাছি যাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।

নিহতের পরিচয়:

২৬ বছর বয়সী সিঙ্গিরেড্ডি সাই শ্রীহরিকৃষ্ণ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ বা তেলেঙ্গানা অঞ্চলের বাসিন্দা (প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী)। উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং পরবর্তীকালে সেখানে একটি নামী টেক-সংস্থায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

মেধাবী এই তরুণ নিজের কাজের সূত্রে আমেরিকায় বেশ পরিচিত ছিলেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে তাঁর সহকর্মীরা জানিয়েছেন, হরিকৃষ্ণ কেবল একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ারই ছিলেন না, ভীষণ হাসিখুশি এবং প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন।

পরিবারের দেহ ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা:

বিদেশে ছেলের মৃত্যুর সংবাদ পৌঁছাতেই ভারতে থাকা তাঁর পরিবার ভেঙে পড়েছে। জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর বদলে তাঁদের কাছে পৌঁছেছে মৃত্যুসংবাদ। বর্তমানে হরিকৃষ্ণের দেহ ভারতে ফিরিয়ে আনার জন্য তাঁর বন্ধু এবং প্রবাসী ভারতীয় সংগঠনগুলো ভারত সরকারের বিদেশ মন্ত্রক এবং ওয়াশিংটনে থাকা ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আইনি প্রক্রিয়া এবং নথিপত্র তৈরির কাজ শেষ হলে দ্রুত তাঁর দেহ জন্মভিটায় পাঠানো হবে।

 দুর্ঘটনা ও সতর্কতা:

সাম্প্রতিক সময়ে আমেরিকায় ভারতীয় পড়ুয়া এবং তরুণ পেশাদারদের মৃত্যুসংবাদ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অসাবধানতার কারণে দুর্ঘটনার হার বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বারবার পর্যটকদের সতর্ক করে জানাচ্ছে যে, জলপ্রপাত বা পাহাড়ি এলাকায় ছবি তোলার সময় (Selfie Culture) অতি সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

সিঙ্গিরেড্ডি সাই শ্রীহরিকৃষ্ণের এই মর্মান্তিক পরিণতি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মুহূর্তের অসাবধানতা সারাজীবনের কান্না হয়ে দাঁড়াতে পারে। একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি বিদেশ পাড়ি দিয়েছিলেন, কিন্তু বিধির বিধানে সেই স্বপ্ন অকালেই ঝরে গেল। তাঁর মৃত্যু কেবল একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং এটি বিদেশের মাটিতে থাকা প্রতিটি ভারতীয়র জন্য এক শোকাবহ বার্তা।

(Feed Source: zeenews.com)