)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রবিবার ৯২ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন মেলোডি কুইন আশা ভোঁসলে। তাঁর প্রয়াণে ভারতীয় সঙ্গীতের একটি ঐতিহাসিক যুগের অবসান ঘটল। তবে এই দীর্ঘ কেরিয়ারে তিনি শুধু কয়েক হাজার কালজয়ী গানই উপহার দেননি, অত্যন্ত সুকৌশলে গড়ে তুলেছিলেন বিশাল এক আর্থিক সাম্রাজ্য।
বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত্যুর সময় আশা ভোঁসলে আনুমানিক ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকার সম্পত্তির উত্তরাধিকার রেখে গিয়েছেন। তাঁর উপার্জনের একটি বড় অংশ এসেছে ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের দীর্ঘ কর্মজীবন থেকে। যে সময়ে গায়িকারা গানের জন্য রয়্যালটি পেতেন না, সেই প্রতিকূল সময়ে ক্যারিয়ার শুরু করেও নিজের পরিশ্রম ও মেধার জোরে তিনি এই অবস্থানে পৌঁছেছিলেন। পপ, গজল থেকে শুরু করে ক্যাবারে— সব ধরনের গানে তাঁর অবাধ বিচরণ তাঁকে কয়েক প্রজন্ম ধরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে রেখেছিল।
গানের বাইরে তাঁর অন্যতম বড় নেশা ছিল রান্না। সেই ভালোবাসাকেই তিনি পেশাদার রূপ দিয়েছিলেন ২০০২ সালে। দুবাইয়ে তিনি শুরু করেছিলেন তাঁর আন্তর্জাতিক রেস্তোরাঁ চেইন ‘আশা’স’। বর্তমানে দুবাই, কুয়েত, বাহরিন ছাড়াও যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম এবং ম্যানচেস্টারের মতো শহরে তাঁর রেস্তোরাঁ অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আর্থিক সাম্রাজ্যের পাশাপাশি তাঁর স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণও আকাশছোঁয়া। জানা গেছে, মুম্বাই ও পুনের মতো শহরে তাঁর বেশ কিছু প্রিমিয়াম আবাসন রয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকা। বয়সকে তুড়ি মেরে জীবনের শেষ পর্যায় পর্যন্ত তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০২৪ সালেও দুবাইয়ের কনসার্টে জনপ্রিয় গান ‘তৌবা তৌবা’ গেয়ে এবং নেচে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছিলেন তিনি।
২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তাঁর ৯৩ বছরে পা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মাল্টি-অর্গান ফেইলিওর বা বহু অঙ্গ বিকল হওয়ার কারণে ১৩ এপ্রিল শেষ বিদায় নিলেন ভারতরত্ন ও পদ্মবিভূষণ জয়ী এই শিল্পী। তাঁর মৃত্যুতে কেবল সুরের জগত নয়, বাণিজ্যিক মহলেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর এই উত্তরাধিকার এখন সামলাবেন তাঁর পরিবার ও উত্তরসূরিরা। আশা ভোঁসলেকে আগলে রাখতেন তাঁর ছেলে আনন্দ ভোঁসলে ও নাতনি জ়ানাই ভোঁসলে। এবার তাঁরাই সামলাবেন এই উত্তরাধিকার।
(Feed Source: zeenews.com)
