
ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বাস করে যে 5 বছরের সময়কাল খুব কম এবং এই সময়ের মধ্যে ইরান তার পারমাণবিক শক্তি পুনরায় সংগঠিত করতে পারে। বিরোধ শুধু সময় নিয়ে নয়, ইরানের দখলে থাকা ‘অত্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম’ নিয়েও।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচী আমেরিকার চোখে একটি পুরানো ঘা
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কয়েক দশক ধরে আমেরিকা ও পশ্চিমা দেশগুলোর মাথাব্যথা হয়ে আছে। আমেরিকা বরাবরই ভয় পেয়েছিল যে ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে সফল হয়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং ইসরাইলসহ আমেরিকার অনেক মিত্র অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে। এ কারণেই ট্রাম্প প্রশাসন এবার কোনো স্বল্পমেয়াদী প্রতিশ্রুতি বিশ্বাস করার মানসিকতায় নেই এবং কঠোর শর্ত আরোপ করছে।
অন্যদিকে ইরান বলছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চিকিৎসার প্রয়োজনে। যদিও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো সময়ে সময়ে ইরানের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে।
এটি একটি সেন্ট্রিফিউজ, এভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ হয়। (প্রতীকী ছবি)
ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের খেলা কি?
এখন প্রশ্ন জাগে এই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কী এবং কেন এত বিপজ্জনক? আসলে খনি থেকে যে প্রাকৃতিক ইউরেনিয়াম বের হয় তার পারমাণবিক শক্তি তৈরি বা বোমা বানানোর শক্তি নেই। এটি মেশিনের (সেন্ট্রিফিউজ) মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হয়, যাকে বলা হয় ‘সমৃদ্ধকরণ’। ইউরেনিয়ামে ‘U-235’ নামের আইসোটোপের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা শক্তি উৎপাদনে সক্ষম হয়।
ইউরেনিয়ামকে মাত্র ৩ থেকে ৫ শতাংশ সমৃদ্ধ করা হলে তা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে এবং ৯০ শতাংশ বা তার ওপরে নিয়ে যাওয়া হলে এই ইউরেনিয়াম ‘অস্ত্র গ্রেড’ হয়ে যায়।
পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণে এই জ্বালানি ব্যবহার করা হয়। আমেরিকা এই ‘সমৃদ্ধকরণ’ প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি বন্ধ করতে চায় যাতে ইরান বোমা তৈরির ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।
(Feed Source: ndtv.com)
